বড় জয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

 বিভুরঞ্জন সরকার 
২৮ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বছরখানেক আগে দলের এক সভায় বলেছিলেন, দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়। নিজেদের জীবন বিপন্ন করেই তারা এ সংগঠন ধরে রাখে। বিভিন্ন সময়ে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর অনেক অত্যাচার-নির্যাতন হয়েছে। কোনো জুলুম-নির্যাতন-নিপীড়নে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করা যায়নি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বছরখানেক আগে দলের এক সভায় বলেছিলেন, দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়। নিজেদের জীবন বিপন্ন করেই তারা এ সংগঠন ধরে রাখে। বিভিন্ন সময়ে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর অনেক অত্যাচার-নির্যাতন হয়েছে। কোনো জুলুম-নির্যাতন-নিপীড়নে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করা যায়নি।

প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য পত্রিকায় পড়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের তৃণমূলের একজন কর্মীর ফেসবুক স্ট্যাটাসের কথা মনে পড়েছিল। ওই আওয়ামী লীগ কর্মী লিখেছিলেন : ‘নির্বাচনে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করা কর্মীগুলো এখন বাসায় বিশ্রাম নিচ্ছে, আর সুবিধাবাদীগুলো নেতার দরজায় ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে’।

এ এক লাইন বক্তব্যে অনেক সত্যের প্রকাশ ঘটেছে। প্রথমত, মাঠের কর্মীরা সব সময় ‘নেতা’র কাছে যথাযথভাবে মূল্যায়িত হন না। দলের যে কোনো বিপদে-আপদে যারা ঢাল হিসেবে কাজ করেন, বিপদ কেটে গেলে তাদের খোঁজখবর সাধারণত খুব বেশি রাখা হয় না।

নির্বাচনের সময় মাঠপর্যায়ের কর্মীরা পালন করেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তারাই নানা ধরনের অপপ্রচারের জবাব দিয়ে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে বুঝিয়ে সাধারণ ভোটারদের দলের পক্ষে আনেন, দলের মার্কার বিজয় নিশ্চিত করেন। কিন্তু দল বিজয়ী হলে কিংবা ক্ষমতায় গেলে সাধারণত ওই তৃণমূল কর্মীরা হারিয়ে যান তাদের ভিড়ে যারা কেবল নিজেদের ‘সুবিধা’ আদায়ে সচেষ্ট থাকেন। যারা এমপি হন, যারা মন্ত্রী হন তারা শপথ গ্রহণের সময় থেকেই কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন, এ বিচ্ছিন্নতা দিন দিন বাড়তে থাকে। একসময় সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে এমপি-মন্ত্রীদের দূরত্ব তৈরি হয়। আর সুবিধাবাদীরা, সুযোগসন্ধানীরা এমপি-মন্ত্রীর কাছের মানুষে পরিণত হয়। ক্ষমতার স্বাদ তারা ভোগ করে, উপভোগ করে। তারা আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়। সাধারণ মানুষ এসব দেখে ক্ষুব্ধ হয়; কিন্তু তাদের কিছুই করার থাকে না।

নির্বাচনের পর নতুন সরকারের প্রায় দুই বছর হতে চলল। দুই বছরে অবস্থার পরিবর্তন কি খুব একটা হয়েছে? তৃণমূলের কর্মীদের উপেক্ষিত হওয়ার ধারাবাহিকতা কি অব্যাহত আছে, না দূর হয়েছে? যারা ফুলের তোড়া নিয়ে দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছেন, মন্ত্রী-এমপিরা কি তাদের ব্যাপারে সতর্ক আছেন বা হয়েছেন?

ফুল দিয়ে পরে কোনো ধরনের অন্যায় সুযোগ-সুবিধা হাতিয়ে নেয়ার ফন্দিফিকির কি কেউ করছে না? যারা দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ, যারা কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে দল করেন না, তাদের কোনোভাবেই অবহেলা করা চলবে না। মন্ত্রী-এমপিরা এলাকায় গিয়ে শুধু বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিদের নিয়েই যেন ঘোরাফেরা না করেন, মানুষের কাছে যারা অপছন্দের তারা যেন মন্ত্রী-এমপিদের পছন্দের তালিকায় ঠাঁই না পায়।

সবাইকে মনে রাখতে হবে, যেমন বড় জয় গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পেয়েছে, তেমনি বড় চ্যালেঞ্জও তাদের সামনে এসেছে। বিএনপি-জামায়াত ভোটে প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এতে উৎফুল্ল হওয়ার কিছু নেই, আনন্দে বোগল বাজানোরও কিছু নেই। বিএনপি-জামায়াত যে রাজনৈতিক মতে বিশ্বাসী, সেই মতের সঙ্গে সহমত পোষণকারী মানুষ আমাদের দেশে আছে এবং সংখ্যায় তারা খুব কম নয়।

তারা ক্ষতিকর প্রচারণায় পারদর্শী এবং অভ্যস্ত। এবার ভোটাররা তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে মানে এই নয়, তারা আর জনসমর্থন পাবে না। জনমনস্তত্ত্ব এক জটিল বিষয়। কিছু মানুষ আছেন যারা কোনোদিন, কোনোভাবেই আওয়ামী লীগের সমর্থক হবে না। যারা পাকিস্তানি মানসিকতায় আচ্ছন্ন তারা আওয়ামী লীগের প্রতি ক্ষমাহীন। পাকিস্তান ভাঙার মনোবেদনা তারা পুষিয়ে নেন আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করে।

এরা সময় খারাপ দেখলে নিজেদের গুটিয়ে রাখে, আবার সুযোগ বুঝে মাথা বের করে। কিছু মানুষ আছেন যারা দ্রুত অতীতটা ভুলে যান। এদের জন্যই জামায়াতে ইসলামীর মতো একটি অপরাধী দল বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারে, নির্বাচনে দাঁড়িয়ে তারা ভোটও পায়। অথচ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াত প্রত্যক্ষ বিরোধিতা করেছে। পাকিদের সহযোগী হয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে। এ রকম একটি দলকে যারা ভোট দেন, সমর্থন করেন, তারা কেমন প্রকৃতির মানুষ?

এ মানুষ আমাদের সমাজে আছেন। তারা বেশ চতুর, সব সময় সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন। তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে আওয়ামী লীগেও আশ্রয় নেয়। কিন্তু আওয়ামী লীগকে শক্তি জোগানোর জন্য নয়। বরং ভেতর থেকে আওয়ামী লীগকে নীতি-আদর্শচ্যুত করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা থেকেই। আওয়ামী লীগকে এদের ব্যাপারে অধিক সতর্ক থাকতে হবে।

একাত্তরের বিজয়ের পর আমরা পরাজিত শত্রুদের পুনরুত্থানের আশঙ্কার দিকটি বিবেচনায় না রেখে ভুল করেছিলাম। আবারও প্রতিপক্ষকে দুর্বল ভেবে আত্মহারা থাকা হবে চরম ভুল। সুবিধাবাদীদের প্রশ্রয় না দিয়ে ত্যাগী নেতাকর্মীদেরই মূল্যায়ন করতে হবে, তাদের কথা শুনতে হবে, তাদের সঙ্গে কোনোভাবেই দূরত্ব তৈরি করা যাবে না।

দুই.

নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ যেমন মিত্র খুঁজেছিল, তেমনি বিএনপিও মিত্র বাড়াতে সচেষ্ট ছিল। ভোটে জেতাই ছিল মূল লক্ষ্য। তখন জোট বা মিত্রতা যে শুধু আদর্শের ভিত্তিতে হয়েছে তা নয়। ড. কামাল হোসেনের মতো বঙ্গবন্ধুপ্রেমিক বিএনপির সঙ্গে মৈত্রী করেছেন, আবার ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর মতো জিয়ানুরাগী গিয়ে আওয়ামী লীগের নৌকায় চড়েছেন। আওয়ামী লীগ ১৪-দলীয় জোট রেখেই অন্যদেরও কাছে টেনেছিল, বিএনপিও ২০-দলীয় জোট রেখেই অন্যদের নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছিল।

ভোটের পর দেশের রাজনীতির চিত্র পাল্টে গেছে। আওয়ামী লীগ একাই সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট-ফ্রন্ট মিলে মাত্র আটটি আসন পেয়েছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করবে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই নতুন সরকার গঠিত হবে, সেটি বোঝা যাচ্ছিল। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় ফিরে আসাটা ছিল প্রত্যাশিত। নির্বাচনে জামায়াত সুবিধা করতে পারবে না- এটিও বোঝা গিয়েছিল। কিন্তু বিএনপির যে এতটা শোচনীয় অবস্থা হবে, সেটি কারও এন্টেনায় ধরা পড়েনি। আওয়ামী লীগের ভূমিধস বিজয় এবং বিএনপির প্রায় মুছে যাওয়া নির্বাচনী ফলাফল দেশের রাজনীতিকেই বড় এক ঝাঁকুনি দিয়েছে।

আওয়ামী লীগ নতুন মন্ত্রিসভায় শরিকদের কাউকে অন্তর্ভুক্ত করেনি। গত সংসদে এরশাদের জাতীয় পার্টি একই সঙ্গে সরকারেও ছিল, বিরোধী দলেও ছিল। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় দশম সংসদও ছিল কার্যত বিরোধী দলশূন্য। এবার জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করলেও সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা মন্ত্রিসভায় যোগ দেয়নি। সংসদ বিরোধীদলমুক্ত থাকার আশঙ্কা দূর হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিত্রতার নীতি নিয়ে প্রকৃত বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করা যে সম্ভব নয়, সেটিও দেখা যাচ্ছে।

১৪-দলের শরিকদের মন্ত্রিসভায় না থাকা নিয়ে সব মহলেই আলোচনা ছিল এবং আছে। ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, জাসদের হাসানুল হক ইনু এবং জেপির আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মন্ত্রী না হওয়ার বিষয়টি সম্ভবত কারও হিসাবে ছিল না। এ নিয়ে ১৪-দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যে কিছু হতাশা তৈরি হয়নি, সেটি কেউ জোর দিয়ে বলতে পারবেন না। এ নিয়ে জোটে টানাপোড়েন আছে। আগে থেকে এ ব্যাপারে শরিকদের সঙ্গে আলাপ না করায় কারও কারও মধ্যে হয়তো কিছুটা ক্ষোভ-অভিমানও তৈরি হয়েছিল। তবে এটি বড় কোনো সংকট তৈরি করেনি, ভবিষ্যতে করবে কিনা, সেটি নিশ্চিত করে বলা যায় না।

১৪-দলের শরিকরা সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করুক- তেমনটাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চেয়েছিলেন। স্বতঃস্ফূর্তভাবে এটিকে কেউ স্বাগত না জানালেও প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায়ের বিরোধিতা করার মতো অবস্থাও দেখা যায়নি। মঞ্জু, মেনন, ইনু সংসদে কতটুকু বিরোধী ভূমিকা পালন করেছেন, সেটি অনেকের কাছেই স্পষ্ট নয়। তবে একদিকে সরকারি জোটে, অন্যদিকে বিরোধী দলে- এটি কীভাবে কতটুকু কাজ করবে তা দুই বছরেও পরিষ্কার হয়নি। তবে কিছুদিন আগে গত নির্বাচন সম্পর্কে ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেননের একটি মন্তব্য যথেষ্ট বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল। সরকারের জন্যও হয়েছিল অস্বস্তিকর। সমালোচনার মুখে মেননকে অবস্থান বদলাতে হয়েছে। সরকারি জোটে থেকে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন সহজ কাজ নয়। দেশে ভবিষ্যতে যদি সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয় এবং বৃহত্তর ঐক্য গড়ার প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন ১৪-দলের ভূমিকা বা অবস্থান কী হবে- সে প্রশ্ন কারও কারও মনে নেই, তা কিন্তু নয়।

তিন.

জোট-ফ্রন্ট নিয়ে বড় ঝামেলায় আছে বিএনপি। যে গরজ ও আবেগ নিয়ে ড. কামাল হোসেন এবং আরও কয়েকজন নেতা বিএনপির সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গড়ে তুলেছিলেন, সেই গরজ ও আবেগের সংহত প্রকাশ ঐক্যফ্রন্টে ঘটেনি। শুধু আওয়ামী লীগ, আরও স্পষ্ট করে বললে শেখ হাসিনাবিরোধিতার জন্য একটি ফ্রন্ট গঠন করলে তার খুব বেশি দূর এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

ড. কামাল হোসেনের রাজনৈতিক আদর্শিক অবস্থান এবং বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শিক অবস্থান একসঙ্গে যায় না। তাই বলা যায়, ঐক্যফ্রন্টের ঐক্যটা সংহত হওয়ার আগেই শিথিল হয়ে পড়েছিল। নির্বাচনের আগেও সেটি নানাভাবে প্রকাশ পেয়েছে, নির্বাচনের পর এ ফাটল বেড়েছে। এখন ঐক্যফ্রন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে না গেলেও এটি অকার্যকর হয়েই আছে। এ ঐক্য আর জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

সংসদে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে বিএনপির সঙ্গে প্রাথমিকভাবে কামাল হোসেনের মতভিন্নতা ছিল। পরে বিএনপিকেও সংসদে যেতে হয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও সংকট দূর হয়নি। বিএনপি নেতাদের কেউ কেউ প্রকাশ্যেই কামাল হোসেনের সমালোচনা করেছেন। আবার কামাল হোসেনও প্রকাশ্যেই বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা ভুল ছিল।

জামায়াতের সঙ্গে বিএনপি সম্পর্ক ছিন্ন করবে না। যে যত কথাই বলুক, জামায়াত নামের বোঝা বিএনপি ঘাড় থেকে নামাতে পারবে না। বিএনপি তার রাজনীতিতে বড় ধরনের সংস্কার করতে আগ্রহী নয়। জামায়াত ইস্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিতর্ক শিগগিরই শেষ হবে না। নির্বাচনের আগে বৃহত্তর জোট বা ঐক্য নিয়ে বিএনপি এবং অন্যদের মধ্যে যে আগ্রহ-উদ্দীপনা ছিল, নির্বাচনের পর স্বাভাবিকভাবেই তা নেই। যেনতেনভাবে ঐক্য গড়লেই তাতে যে সুফল পাওয়া যায় না, সেটি এখন স্পষ্ট।

আওয়ামী লীগকে বন্ধুহীন করার একটি চেষ্টা বিভিন্ন মহল থেকেই আছে। বিএনপিও তা চায়। বিএনপি অপেক্ষায় আছে পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে নেয়ার; কিন্তু তাদের এ অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হবে বলেই মনে হয়। বিশেষ করে এ মেয়াদে সরকারকে নাড়াতে গেলে সুফল পাওয়ার আশা কম।

২০২০ এবং ২০২১ সাল আওয়ামী লীগ এবং সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল। মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন নির্বিঘ্ন করার সব চেষ্টাই সরকার করবে। এ সময়ে কোনো ধরনের অস্থিরতা বা অস্থিতিশীলতা সরকার বরদাশত করবে না।

বিএনপি এবং তার মিত্ররা এ সময়ে যত গুটিই সাজাক না কেন, খেলা জেতার অবস্থা তাতে তৈরি হবে না। সরকার এ সময়ে বড় কোনো ভুল না করলে রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ শেখ হাসিনার হাতেই থাকবে। টানা তিন মেয়াদে সরকারপ্রধান হওয়ার রেকর্ড শেখ হাসিনার। তিনি রাজনীতির গতিপ্রকৃতি ভালো বোঝেন। অযথা বড়াই করে কিংবা কথার লড়াই চালিয়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করা সহজ হবে না। প্রতিপক্ষের জন্য রাজনীতিকে কঠিন করতে সক্ষম হয়েছেন শেখ হাসিনা।

বিভুরঞ্জন সরকার : জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন