খাদ্য অধিকার আইন কেন প্রয়োজন

 এস এম নাজের হোসাইন 
২৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

খাদ্য মানুষের অন্যতম মৌলিক মানবাধিকার। ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার ২৫/১ ধারায় প্রত্যেক মানুষের খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রত্যেক মানুষ যাতে মর্যাদার সঙ্গে নিজের ও পরিবারের খাদ্যের সংস্থান করার সামর্থ্য অর্জন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য। জাতিসংঘের সর্বজনীন ঘোষণার আলোকে ১৯৬৬ সালে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সংস্কৃতিবিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার ১১ নম্বর অনুচ্ছেদে খাদ্য অধিকারকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে।

এ চুক্তিতে খাদ্য অধিকারকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এভাবে- খাদ্যের প্রাপ্যতা : সব মানুষের খাদ্য পাওয়ার ব্যবস্থা থাকা; খাদ্যের স্থিতিশীলতা : খাদ্যপ্রাপ্তির বিষয়টি স্থিতিশীল রাখা; খাদ্যের অভিগম্যতা : সব মানুষের জন্য শারীরিক ও অর্থনৈতিক চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত খাদ্যপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা; খাদ্যের স্থায়িত্বশীলতা : বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করা; খাদ্যের পর্যাপ্ততা : মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করা, যা ক্ষতিকর পদার্থমুক্ত ও সাংস্কৃতিকভাবে গ্রহণযোগ্য।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় খাদ্যপ্রাপ্তি ও দারিদ্র্য হ্রাস কর্মসূচির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। অতিদরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। ২১টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সমন্বয়ে ১৪৫টি জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা কৌশল (এনএসএসএস) বাস্তবায়ন করা হচ্ছে অতিদরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে।

খাদ্য নিরাপত্তা বিধানের উদ্দেশ্যে পরিচালিত এসব কর্মসূচির মধ্যে আছে ভিজিডি, ভিজিএফ, কাবিখা, টেস্ট রিলিফ, বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান, ওএমএস, ফেয়ার প্রাইস কার্ডের মাধ্যমে চাল ও গম বিতরণ ইত্যাদি।

এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দুস্থ ও দরিদ্র পরিবার, বিশেষত নারী ও শিশুদের অবস্থা উন্নয়নের চেষ্টা করা হয়। উল্লিখিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উদ্দেশ্য হল দুস্থ ও দরিদ্র মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপুষ্টি প্রতিরোধ, খাদ্য মূল্য স্থিতিশীল রাখা, দুর্যোগ ও কর্মহীন সময়ে খাদ্য সহায়তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, দরিদ্র জনগণের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সাময়িকভাবে সহায়তা করা, দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা ইত্যাদি।

এ কর্মসূচির বেশকিছু সীমাবদ্ধতাও আছে। যেমন, সামাজিক নিরাপত্তা কমসূচির লক্ষ্য অর্জনে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই, এমনকি দীঘর্মেয়াদি উদ্দেশ্যও নেই। একমাত্র পরিপত্র আর বাস্তবায়ন নির্দেশিকার আলোকে এগুলো পরিচালিত হয়। আমাদের সমাজে প্রান্তিক নারীরা প্রয়োজনীয় খাদ্য পায় না এবং তারা পুষ্টিহীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার শিকার।

তাদের জন্য কিছু সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থাকলেও এ কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের কীভাবে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলা হবে তার পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে মূল ভূমিকা পালন করে ইউনিয়ন পরিষদ। কিন্তু বণ্টন প্রক্রিয়ার নীতিমালায় যথাযথ প্রয়োজনীয় প্রয়োগ না থাকায় এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।

এ কর্মসূচির যথাযথ মনিটরিং হয় না বললেই চলে। ফলে সহায়তাপ্রাপ্তদের অবস্থার মূল্যায়ন ও মূল্যায়নের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী পরিকল্পনা গ্রহণে উদ্যোগ থাকে না। কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের যথাযথ সমন্বয় না থাকায় অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করা সম্ভব হয় না।

জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ২নং লক্ষ্য হল খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই কৃষি উন্নয়ন নিশ্চিত করে ক্ষুদামুক্ত পৃথিবী গড়ে তোলা। এটা আশাব্যঞ্জক যে, দেশে দরিদ্র ও অতিদরিদ্র মানুষের হার কমছে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০১৮ সালে দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৩৬ লাখ, যার মধ্যে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ৫৫ লাখ এবং এদের মধ্যে অতিদরিদ্রের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি।

এ পরিসংখ্যান থেকে প্রতীয়মান হয়, দারিদ্র্যের হার কমলেও সংখ্যাগত দিক থেকে দরিদ্র ও অতিদরিদ্র মানুষ খুব একটা কমেনি। উল্লেখ্য, দৈনিক ১ হাজার ৮০৫ কিলোক্যালরি খাদ্য কিনতে পারে না এমন জনগোষ্ঠী অতিদরিদ্র এবং দৈনিক ২ হাজার ১২২ কিলোক্যালরি খাদ্য কিনতে পারে না এমন মানুষ দরিদ্র হিসেবে বিবেচিত হয়।

দেশের উন্নয়ন লক্ষ্য- মধ্য আয়ের দেশ, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করা এবং এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে সব দরিদ্র ও অতিদরিদ্রদের খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

এ প্রেক্ষাপটে স্থানীয়, জাতীয়, আন্তর্জাতিক এনজিও নেটওয়ার্ক, সামাজিক সংগঠন, নাগরিক সমাজ, বিভিন্ন পেশাজীবী ও যুব প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশসহ (ক্যাব) অনেক নাগরিক সংগঠন অতিদরিদ্র ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও পুষ্টি অধিকার নিশ্চিতকরণে দেশে খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসছে।

গত ১০ বছরে অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভোগা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ৭ লাখ (জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থাসহ অন্যান্য সংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত বিশ্বে খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি পরিস্থিতি ২০১৭ শীর্ষক প্রতিবেদন)। জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার মতে, এমডিজি সময়কালে বাংলাদেশ খর্বতা, কৃশতা ও কম ওজনসম্পন্ন শিশুর সংখ্যা কমলেও বাংলাদেশে অপুষ্টির হার বিশ্বে সর্বোচ্চ।

দেশে পুষ্টি পরিস্থিতির অগ্রগতি তেমন সন্তোষজনক নয়। শিশু ও নারীদের মধ্যে অপুষ্টির হার খুব বেশি। তারা ভিটামিন-এ, আয়রন, আয়োডিন, জিংক ইত্যাদি ঘাটতিতে ভুগছে ব্যাপকভাবে। এছাড়া আছে রক্তস্বল্পতার সমস্যা। পুষ্টিবিষয়ক এক সমীক্ষা থেকে দেখা যায়, ৫ বছর পর্যন্ত শিশুদের শতকরা ৪৪ ভাগের মধ্যে জিংক ঘাটতি বিদ্যমান। অর্ধেকের বেশি মায়ের মধ্যে জিংক ঘাটতি আছে। এদের একটা বড় অংশ দারিদ্র্যপীড়িত এবং অনেকেই বস্তিতে বাস করে। শতকরা ৪০ ভাগের বেশি মায়ের আয়োডিন স্বল্পতা রয়েছে। এছাড়া শিশু, কিশোর-কিশোরী এবং মায়েদের ভিটামিনের ঘাটতিও উল্লেখযোগ্য। সব মিলিয়ে দরিদ্র জনগণ ও নারীদের মধ্যে অপুষ্টির হার খুবই প্রকট। অর্ধেকেরও বেশি নারী অপুষ্টিতে ভুগছে, ফলে তারা পূর্ণ শক্তি নিয়ে কাজে মনোনিবেশ করতে পারে না। অধিকন্তু নানাবিধ রোগ-বালাইয়ের শিকারে পরিণত হয় প্রতিনিয়ত।

বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই সমাজে আয়-বৈষম্য ক্রমেই বেড়ে চলেছে। ধনী পরিবারের আয় বৃদ্ধির কারণে শীর্ষ ১০ শতাংশ মানুষ দেশের ৩৮ শতাংশ সম্পদের মালিক। অপরদিকে ১০ শতাংশ অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠী দেশের মাত্র ১ শতাংশ সম্পদের মালিক। আর ১০ শতাংশ ধনী পুরো সমাজব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছে। তাদের হাতে কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনৈতিক ক্ষমতাসহ পুরো সমাজের নীতিনির্ধারণ জিম্মি হয়ে আছে। এ পরিস্থিতি দেশে সব মানুষের মৌলিক অধিকার- খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, বস্ত্র ও বাসস্থান প্রতিষ্ঠার বিষয়কে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করে তুলেছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারের ভিশন ২০৪১ অনুযায়ী দেশের উন্নয়ন লক্ষ্য হচ্ছে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়া। ২০২৪ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করা। ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির ১নং লক্ষ্য ‘দারিদ্র্যের অবসান’ এবং ২নং লক্ষ্য ‘ক্ষুদ্রামুক্তিসহ’ সব লক্ষ্য অর্জন করা। এ লক্ষ্যে সরকার নানা কর্মসূচি পরিচালনা করছে।

সবার জন্য খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গীকার রয়েছে। সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদে (ক) অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা, (খ) কর্মের অধিকার এবং (ঘ) সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার কিংবা অনুরূপ অন্যান্য পরিস্থিতিজনিত কারণে অভাবগ্রস্ততার ক্ষেত্রে সরকারি সাহায্য লাভের অধিকার সুনির্দিষ্ঠভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংবিধানের ১৮(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘জনগণের পুষ্টির স্তর উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতি সাধনকে রাষ্ট্র অন্যতম কর্তব্য বলিয়া গণ্য করিবেন।’ ১৯৪৮ সালে গৃহীত জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার অনুচ্ছেদ ২৫(১) ধারা অনুযায়ী, ‘প্রত্যেক ব্যক্তির নিজের এবং তার পরিবারের কল্যাণ ও সুস্বাস্থ্যের জন্য খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সেবাসহ জীবনযাত্রার পর্যাপ্ত মানের অধিকার রয়েছে।’ পরবর্তী সময়ে সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার আলোকে ১৯৬৬ সালে গৃহীত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সংস্কৃতিবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির ১১ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে খাদ্য অধিকারকে বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।

রাষ্ট্রের খাদ্যনীতি, দারিদ্র্যবিমোচন ও খাদ্য নিরাপত্তা ত্বরান্বিত করার অন্যতম কৌশল জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা কৌশল- এনএসএসএসের আলোকে প্রতিবছর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাজেট ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়লেও প্রয়োজনীয় সাফল্য অর্জিত হচ্ছে না। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিকল্পনায় উপকারভোগীদের দারিদ্র্য ব্যবস্থা থেকে উত্তরণের যথাযথ পরিকল্পনা নেই। একই সঙ্গে সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন বরাদ্দ অনুযায়ী খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ প্রদানে অনেক ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি রয়েছে। কিছু কার্যক্রম থাকলেও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের পুষ্টি উন্নয়নে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্র কর্তৃক উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি গৃহীত হয়নি। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো আইন/নীতির মাধ্যমে সব মানুষের খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, ব্রাজিল, ইকুয়েডর, এলসালভেদর, গুয়েতেমালা, হন্ডুরাস, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, মোজাম্বিক, নিকারাগুয়া, প্যারাগুয়ে, পেরু, দক্ষিণ আফ্রিকা, তানজানিয়া, উগান্ডা ও ভেনিজুয়েলা ইতোমধ্যেই খাদ্য নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করেছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ২০১৩ সালে গৃহীত খাদ্য নিরাপত্তা আইন কার্যকর করার মাধ্যমে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী সব মানুষের খাদ্য অধিকার পর্যায়ক্রমে নিশ্চিত করছে। নেপালের সংবিধানে সব মানুষের খাদ্য অধিকারের স্বীকৃতি দেয়ার পাশাপাশি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে খাদ্য অধিকার এবং খাদ্য সার্বভৌমত্ব আইন ২০১৫ কার্যকর হয়েছে। আমাদের দেশেও যে কোনো বিষয়ে আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলে তা অধিক কার্যকর হয়। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্মসূচির যথাযথ বাস্তবায়ন এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে আইনি বিধান উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে। আইনি বিধানে সামাজিক নিরাপত্তা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিকল্পনায় উপকারভোগীদের দারিদ্র্য ব্যবস্থা থেকে উত্তরণের যথাযথ পরিকল্পনা ও কর্মসূচি, দারিদ্র্যপ্রবণ এলাকা ও জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ কর্মসূচি নিশ্চিত করার পাশাপাশি খাদ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিরাপদ খাদ্য, কৃষি উন্নয়ন, পানি, ভূমি, খাদ্য অপচয়, খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন।

এস এম নাজের হোসাইন : ভাইস প্রেসিডেন্ট, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)

cabbd.nazer@gmail.com

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন