বন্যা জলোচ্ছ্বাসে ডুবল বছর
jugantor
ফিরে দেখা ২০২০ : পর্ব - ১
বন্যা জলোচ্ছ্বাসে ডুবল বছর

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৯ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিদায়ী বছরে বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো অনেকগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সইতে হয়েছে বিশ্বকে।

ধ্বংসাত্মক বন্যা, সুনামি, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প এবং এগুলোর ফলে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে অনেক প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয় গোটা বিশ্বে। এর মধ্যে বড় ও ধ্বংসাত্মক কিছু ঘটনা নিচে তুলে ধরা হল।

আফগানিস্তানে বন্যায় ১৫০ মৃত্যু : যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে এবার স্মরণকালের বৃহত্তম বন্যার ঘটনায় অন্তত ১৫০ জনের মৃত্যু হয়। এতে অনেক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তালেবান হামলা ও করোনা মহামারীতে কাবু আফগানিস্তানের আগস্ট মাসের বন্যা আসে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে। দেড় শতাধিক মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি কয়েকশ’ মানুষ আহত হয়েছেন।

গ্রিস ও তুরস্কে সুনামি, ভূমিকম্প : ইউরোপের দেশ গ্রিস ও ইউরোপ-এশিয়ার দেশ তুরস্কে সুনামির ঘটনা ঘটে বিদায়ী বছর। তুরস্কের ইজমির প্রদেশ ও গ্রিসের সামোস দ্বীপে ৩০ অক্টোবর আঘাত হানে রিখটারস্কেলে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প।

এর ফলে দেশ দুটিতে সুনামি তথা সমুদ্রতল ফুলে উঠে জলোচ্ছ্বাসের ঘটনা ঘটে। সুনামিতে একজন ও ভূমিকম্পে ১১৭ জনসহ মোট ১১৮ জনের মৃত্যু হয়। অনেক ক্ষয়ক্ষতিও হয়।

সাইক্লোন আম্পানে ৮৫ মৃত্যু : সাইক্লোন আম্পান আঘাত হানে ভারত ও বাংলাদেশে। এর পরে বড় ধরনের জলোচ্ছ্বাস ও বন্যার ঘটনা ঘটে। সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাসে ৮৫ জনের প্রাণহানি হয়। বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ভারতে। অনেকে আহত হন ও বহু সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়।

আম্পান ছিল এক দশকের মধ্যে এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় ঘূর্ণিঝড়। তবে উপকূলে আঘাত হানার আগে এটি দুর্বল হওয়ায় এবং কর্তৃপক্ষের সতর্কতার কারণে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়। লাখো মানুষকে বাড়ি থেকে সরিয়ে আগেই নেয়া হয় আশ্রয় কেন্দ্রে।

হারিকেন লরায় ৭৭ প্রাণহানি : হারিকেন লরা ২৭ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা ও টেক্সাসে আছড়ে পড়ে। তার আগে এটি হিসপানিওয়ালা দ্বীপ, হাইতি ও ডমিনিকান রিপাবলিকে আঘাত হানে। হারিকেন ও এর প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসে মারা যান ৭৭ জন। লুইজিয়ানার ইতিহাসে সবচেয়ে তীব্র বাতাস বয়ে আনে হারিকেন লরা।

ইন্দোনেশিয়ায় বন্যায় ৬৬ জনের মৃত্যু : ইন্দোনেশিয়ার ইতিহাসে ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটে এ বছর। এতে ৬৬ জন মারা যান। ঘরছাড়া হন অন্তত কয়েক হাজার মানুষ।

জানুয়ারিতে রাজধানী জাকার্তায় আঘাত হানে বন্যা। এতে নগরের অনেক অংশ ডুবে যায়।

ফিলিপাইনে টাইফুনে ৪২ মৃত্যু : ১৩ নভেম্বর রাজধানী ম্যানিলা ও আশপাশের প্রদেশগুলোতে আছড়ে পড়ে টাইফুন ভ্যামকো। এর প্রভাবে তীব্র বন্যা দেখা দেয় ফিলিপাইনের ওইসব অঞ্চলে। এতে ৪২ জনের মৃত্যু হয়। এটি ছিল একুশ শতকের সবচেয়ে ভয়ংকর টাইফুন। এতে বহু সম্পদ হানি ঘটে।

হারিকেন ইটায় ১৫০ প্রাণহানি : নভেম্বরের শুরুতে সেন্ট্রাল আমেরিকায় আঘাত হানে হারিকেন ইটা। এটি মধ্য আমেরিকার দেশ গুয়াতেমালা, মেক্সিকো, এলসালভেদর, পানামা, নিকারাগুয়া ও কোস্টারিকায় আঘাত হানে। ফলে দেশগুলোতে মোট ১৫০ জনের মৃত্যু হয়। ইটা ছিল আটলান্টিকের হারিকেন মৌসুমের সবচেয়ে বাজে হারিকেন।

ফিরে দেখা ২০২০ : পর্ব - ১

বন্যা জলোচ্ছ্বাসে ডুবল বছর

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৯ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিদায়ী বছরে বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো অনেকগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সইতে হয়েছে বিশ্বকে।

ধ্বংসাত্মক বন্যা, সুনামি, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প এবং এগুলোর ফলে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে অনেক প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয় গোটা বিশ্বে। এর মধ্যে বড় ও ধ্বংসাত্মক কিছু ঘটনা নিচে তুলে ধরা হল।

আফগানিস্তানে বন্যায় ১৫০ মৃত্যু : যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে এবার স্মরণকালের বৃহত্তম বন্যার ঘটনায় অন্তত ১৫০ জনের মৃত্যু হয়। এতে অনেক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তালেবান হামলা ও করোনা মহামারীতে কাবু আফগানিস্তানের আগস্ট মাসের বন্যা আসে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে। দেড় শতাধিক মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি কয়েকশ’ মানুষ আহত হয়েছেন।

গ্রিস ও তুরস্কে সুনামি, ভূমিকম্প : ইউরোপের দেশ গ্রিস ও ইউরোপ-এশিয়ার দেশ তুরস্কে সুনামির ঘটনা ঘটে বিদায়ী বছর। তুরস্কের ইজমির প্রদেশ ও গ্রিসের সামোস দ্বীপে ৩০ অক্টোবর আঘাত হানে রিখটারস্কেলে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প।

এর ফলে দেশ দুটিতে সুনামি তথা সমুদ্রতল ফুলে উঠে জলোচ্ছ্বাসের ঘটনা ঘটে। সুনামিতে একজন ও ভূমিকম্পে ১১৭ জনসহ মোট ১১৮ জনের মৃত্যু হয়। অনেক ক্ষয়ক্ষতিও হয়।

সাইক্লোন আম্পানে ৮৫ মৃত্যু : সাইক্লোন আম্পান আঘাত হানে ভারত ও বাংলাদেশে। এর পরে বড় ধরনের জলোচ্ছ্বাস ও বন্যার ঘটনা ঘটে। সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাসে ৮৫ জনের প্রাণহানি হয়। বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ভারতে। অনেকে আহত হন ও বহু সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়।

আম্পান ছিল এক দশকের মধ্যে এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় ঘূর্ণিঝড়। তবে উপকূলে আঘাত হানার আগে এটি দুর্বল হওয়ায় এবং কর্তৃপক্ষের সতর্কতার কারণে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়। লাখো মানুষকে বাড়ি থেকে সরিয়ে আগেই নেয়া হয় আশ্রয় কেন্দ্রে।

হারিকেন লরায় ৭৭ প্রাণহানি : হারিকেন লরা ২৭ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা ও টেক্সাসে আছড়ে পড়ে। তার আগে এটি হিসপানিওয়ালা দ্বীপ, হাইতি ও ডমিনিকান রিপাবলিকে আঘাত হানে। হারিকেন ও এর প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসে মারা যান ৭৭ জন। লুইজিয়ানার ইতিহাসে সবচেয়ে তীব্র বাতাস বয়ে আনে হারিকেন লরা।

ইন্দোনেশিয়ায় বন্যায় ৬৬ জনের মৃত্যু : ইন্দোনেশিয়ার ইতিহাসে ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটে এ বছর। এতে ৬৬ জন মারা যান। ঘরছাড়া হন অন্তত কয়েক হাজার মানুষ।

জানুয়ারিতে রাজধানী জাকার্তায় আঘাত হানে বন্যা। এতে নগরের অনেক অংশ ডুবে যায়।

ফিলিপাইনে টাইফুনে ৪২ মৃত্যু : ১৩ নভেম্বর রাজধানী ম্যানিলা ও আশপাশের প্রদেশগুলোতে আছড়ে পড়ে টাইফুন ভ্যামকো। এর প্রভাবে তীব্র বন্যা দেখা দেয় ফিলিপাইনের ওইসব অঞ্চলে। এতে ৪২ জনের মৃত্যু হয়। এটি ছিল একুশ শতকের সবচেয়ে ভয়ংকর টাইফুন। এতে বহু সম্পদ হানি ঘটে।

হারিকেন ইটায় ১৫০ প্রাণহানি : নভেম্বরের শুরুতে সেন্ট্রাল আমেরিকায় আঘাত হানে হারিকেন ইটা। এটি মধ্য আমেরিকার দেশ গুয়াতেমালা, মেক্সিকো, এলসালভেদর, পানামা, নিকারাগুয়া ও কোস্টারিকায় আঘাত হানে। ফলে দেশগুলোতে মোট ১৫০ জনের মৃত্যু হয়। ইটা ছিল আটলান্টিকের হারিকেন মৌসুমের সবচেয়ে বাজে হারিকেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ফিরে দেখা ২০২০

২৯ ডিসেম্বর, ২০২০
২৯ ডিসেম্বর, ২০২০