১২ মাসই গেল দাবানলে
jugantor
ফিরে দেখা ২০২০ : পর্ব - ১
১২ মাসই গেল দাবানলে
জলবায়ু বিপর্যয়ের এক ভয়ংকর বছর দেখল বিশ্ব * পৃথিবীর ফুসফুস পুড়ে ছাই

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৯ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে আরেকটি বছর। সময়ের অতল গহ্বরে হারিয়ে গেলেও ২০২০-এর নেতিবাচক প্রভাব ও ক্ষয়ক্ষতির ছাপ মানুষের মনে থেকে যাবে দীর্ঘদিন। বিদায়ী বছরের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় করোনা মহামারী। এ ছাড়াও অনেকগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগও দেখেছে বিশ্ব।

দাবানল ও ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব ছিল বছরব্যাপী। অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত- বিশ্বের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দেশ ও অঞ্চলকে ভুগিয়েছে দাবানল ও অগ্ন্যুৎপাত। সারা বছরে পৃথিবীব্যাপী ৪৮টি দাবানল, আগ্নেয়গিরি ও বন-জঙ্গলে অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছে।

২০২০ সাল জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়ংকর রেকর্ড গড়েছে। ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণ বছর ছিল এটি।

অস্ট্রেলিয়া

বিদায়ী বছরের জানুয়ারির প্রথম দিনই অস্ট্রেলিয়ায় দাবানলের শুরু। টানা মার্চ মাস পর্যন্ত চলেছে নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের ওই দাবানল। তাতে সরাসরি আগুনে ৩৩ জন ও দাবানলের অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আরও ৪৪৫ জনসহ মোট ৪৭৮ জন মানুষ প্রাণ হারান।

দাবানলে এক কোটি ৩০ লাখ একর বন পুড়ে যায়। ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে দাবানলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। নিউ সাউথ ওয়েলসে দাবানলে মারা যায় প্রচুর মাছ।

রাজধানী ক্যানবেরাতেও জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে হয়। মার্চ মাসে পাঁচ হাজার কোলাস মারা যায়। দাবানলে মোট ৩শ’ কোটি প্রাণীর মৃত্যু বা বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটে। নভেম্বর মাসে কুইন্স অঙ্গরাজ্যে দাবানলে ৭৪ কিলোমিটার পুড়ে যায়। এটি ১২২ কিলোমিটার একটি বনের অর্ধেকের বেশি।

যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এপ্রিল মাসে দাবানলে এক হাজার একর জমি পুড়ে যায়। ফ্লোরিডায় দাবানলে হাজারো মানুষকে বাড়ি থেকে সরিয়ে নিতে হয়। আরিজোনা থেকেও অগ্ন্যুৎপাতের কারণে বহু মানুষকে ঘরছাড়া করতে হয়। নর্থ ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানলে পুড়ে যায় ২৩ হাজার একর।

সেপ্টেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪৯টি নতুন দাবানলের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৩৬ জনের মৃত্যু হয়। অক্টোবরেও দাবানল চলতে থাকে। এক লাখের বেশি মানুষকে ঘরছাড়া হতে হয়। নভেম্বরে নেভাডায় নতুন দাবানলে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

ইউক্রেন

ইউক্রেনের চেরনোবিলে অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে। এতে চারজনের মৃত্যু, ৯ জন আহত ও ১১০টি বাড়ি পুড়ে যায়। ইউক্রেনের লুশাঙ্কে ১১ জনের মৃত্যু ও ১৭ জন আহত হন অক্টোবরে।

ভারত

ফেব্রুয়ারিতে বনে অগ্ন্যুৎপাতে কেরালা রাজ্যে অন্তত তিনজন বন কর্মকর্তা মারা যান। একই রাজ্যে মার্চ মাসে এক শিশুসহ তিন জনের মৃত্যু হয় অগ্ন্যুৎপাতে।

চীন

চীনের সিচুয়ান প্রদেশে বনে অগ্ন্যুৎপাতে ১৮ দমকল কর্মীসহ ১৯ জন মারা যান।

ফিলিপাইন

বছরের শুরুতেই ফিলিপাইনে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে অন্তত ৩৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। দেশটির পর্যটন আকর্ষণীয় অঞ্চল তালে ১২ জানুয়ারি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে।

এতে প্রাণহানির পাশাপাশি হাজারো মানুষকে ঘরবাড়ি থেকে সরিয়ে নিতে হয়। অনেক অঞ্চল অগ্ন্যুৎপাতের ছাইয়ে ঢেকে যায়। এ ঘটনায় হতাহতের পেছনে কর্তৃপক্ষের অসচেতনতাকে দায়ী করা হয়।

আমাজন

পৃথিবীর ফুসফুস’খ্যাত ব্রাজিলের আমাজনের রেইনফরেস্টে জুন মাসে দাবানলের ঘটনা বেড়েছে ২০ শতাংশ। ১৩ বছরের মধ্যে এক মাসে এটি সর্বোচ্চ দাবানল

ব্রাজিলের কর্মকর্তারা জানান, ১৮৮০ সাল থেকে নিয়ে ২০১৯ পর্যন্ত দুই হাজার ২৪৮টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে আমাজনে।

তুরস্ক

তুরস্কে হাজারো গাছ পুড়ে যায়। হ্যাথান প্রদেশে পৃথক দাবানলে ১০ জন আহত হন। পৃথক ঘটনায় তুরস্কে অনেক কৃষিভূমি পুড়ে যায়। গ্রিসেও ঘটে অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা। ডিসেম্বরে কাসটামুন প্রদেশের ইনেবোলু জেলায় অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে। ১০ ঘণ্টার চেষ্টায় এটির নিয়ন্ত্রণ আনেন দমকল কর্মীরা।

এছাড়া স্কটল্যান্ডে গরম হাওয়া থেকে সৃষ্ট অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে। স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদেও দাবানলের ঘটনা ঘটে। তাতে কিছু বাড়ি খালি করতে হয় ও আগুন নেভাতে হিমশিম খেতে হয় ফায়ার ফাইটারদের। অক্টোবর মাসে শ্রীলংকা, লেবানন ও ইসরাইলেও দাবানলে ঘটনা ঘটে। আলজেরিয়ার রাজধানীতে দাবানলে দু’জন মারা যান। এর বাইরে আরও কিছু ছোট দাবানল ও অগ্ন্যুপাতের ঘটনা ঘটে।

এসব কারণে করোনা মহামারীতে সব কিছু থমকে থাকার পরও বিদায়ী বছরটি ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণ বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ তিনটি বছরের একটি বলেছে ওয়ার্ল্ড মেটেওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন।

২০২০ সালের বৈশ্বিক জলবায়ু প্রতিবেদনে বলা হয়, সমুদ্রের তাপমাত্রা রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছে। রিপোর্টে বলা হয়, কোভিড-১৯ এর কারণে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কিছুটা কমলেও বিশ্ব এখনও তাপমাত্র ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধির দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

জলবায়ুর প্রভাবে মানুষের স্বাস্থ্যগত নানা সমস্যা জটিল আকার ধারণ করছে।

ফিরে দেখা ২০২০ : পর্ব - ১

১২ মাসই গেল দাবানলে

জলবায়ু বিপর্যয়ের এক ভয়ংকর বছর দেখল বিশ্ব * পৃথিবীর ফুসফুস পুড়ে ছাই
 যুগান্তর ডেস্ক 
২৯ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে আরেকটি বছর। সময়ের অতল গহ্বরে হারিয়ে গেলেও ২০২০-এর নেতিবাচক প্রভাব ও ক্ষয়ক্ষতির ছাপ মানুষের মনে থেকে যাবে দীর্ঘদিন। বিদায়ী বছরের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় করোনা মহামারী। এ ছাড়াও অনেকগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগও দেখেছে বিশ্ব।

দাবানল ও ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব ছিল বছরব্যাপী। অস্ট্রেলিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত- বিশ্বের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দেশ ও অঞ্চলকে ভুগিয়েছে দাবানল ও অগ্ন্যুৎপাত। সারা বছরে পৃথিবীব্যাপী ৪৮টি দাবানল, আগ্নেয়গিরি ও বন-জঙ্গলে অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছে।

২০২০ সাল জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়ংকর রেকর্ড গড়েছে। ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণ বছর ছিল এটি।

অস্ট্রেলিয়া

বিদায়ী বছরের জানুয়ারির প্রথম দিনই অস্ট্রেলিয়ায় দাবানলের শুরু। টানা মার্চ মাস পর্যন্ত চলেছে নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের ওই দাবানল। তাতে সরাসরি আগুনে ৩৩ জন ও দাবানলের অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আরও ৪৪৫ জনসহ মোট ৪৭৮ জন মানুষ প্রাণ হারান।

দাবানলে এক কোটি ৩০ লাখ একর বন পুড়ে যায়। ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে দাবানলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। নিউ সাউথ ওয়েলসে দাবানলে মারা যায় প্রচুর মাছ।

রাজধানী ক্যানবেরাতেও জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে হয়। মার্চ মাসে পাঁচ হাজার কোলাস মারা যায়। দাবানলে মোট ৩শ’ কোটি প্রাণীর মৃত্যু বা বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটে। নভেম্বর মাসে কুইন্স অঙ্গরাজ্যে দাবানলে ৭৪ কিলোমিটার পুড়ে যায়। এটি ১২২ কিলোমিটার একটি বনের অর্ধেকের বেশি।

যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এপ্রিল মাসে দাবানলে এক হাজার একর জমি পুড়ে যায়। ফ্লোরিডায় দাবানলে হাজারো মানুষকে বাড়ি থেকে সরিয়ে নিতে হয়। আরিজোনা থেকেও অগ্ন্যুৎপাতের কারণে বহু মানুষকে ঘরছাড়া করতে হয়। নর্থ ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানলে পুড়ে যায় ২৩ হাজার একর।

সেপ্টেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪৯টি নতুন দাবানলের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৩৬ জনের মৃত্যু হয়। অক্টোবরেও দাবানল চলতে থাকে। এক লাখের বেশি মানুষকে ঘরছাড়া হতে হয়। নভেম্বরে নেভাডায় নতুন দাবানলে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

ইউক্রেন

ইউক্রেনের চেরনোবিলে অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে। এতে চারজনের মৃত্যু, ৯ জন আহত ও ১১০টি বাড়ি পুড়ে যায়। ইউক্রেনের লুশাঙ্কে ১১ জনের মৃত্যু ও ১৭ জন আহত হন অক্টোবরে।

ভারত

ফেব্রুয়ারিতে বনে অগ্ন্যুৎপাতে কেরালা রাজ্যে অন্তত তিনজন বন কর্মকর্তা মারা যান। একই রাজ্যে মার্চ মাসে এক শিশুসহ তিন জনের মৃত্যু হয় অগ্ন্যুৎপাতে।

চীন

চীনের সিচুয়ান প্রদেশে বনে অগ্ন্যুৎপাতে ১৮ দমকল কর্মীসহ ১৯ জন মারা যান।

ফিলিপাইন

বছরের শুরুতেই ফিলিপাইনে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে অন্তত ৩৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। দেশটির পর্যটন আকর্ষণীয় অঞ্চল তালে ১২ জানুয়ারি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে।

এতে প্রাণহানির পাশাপাশি হাজারো মানুষকে ঘরবাড়ি থেকে সরিয়ে নিতে হয়। অনেক অঞ্চল অগ্ন্যুৎপাতের ছাইয়ে ঢেকে যায়। এ ঘটনায় হতাহতের পেছনে কর্তৃপক্ষের অসচেতনতাকে দায়ী করা হয়।

আমাজন

পৃথিবীর ফুসফুস’খ্যাত ব্রাজিলের আমাজনের রেইনফরেস্টে জুন মাসে দাবানলের ঘটনা বেড়েছে ২০ শতাংশ। ১৩ বছরের মধ্যে এক মাসে এটি সর্বোচ্চ দাবানল

ব্রাজিলের কর্মকর্তারা জানান, ১৮৮০ সাল থেকে নিয়ে ২০১৯ পর্যন্ত দুই হাজার ২৪৮টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে আমাজনে।

তুরস্ক

তুরস্কে হাজারো গাছ পুড়ে যায়। হ্যাথান প্রদেশে পৃথক দাবানলে ১০ জন আহত হন। পৃথক ঘটনায় তুরস্কে অনেক কৃষিভূমি পুড়ে যায়। গ্রিসেও ঘটে অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা। ডিসেম্বরে কাসটামুন প্রদেশের ইনেবোলু জেলায় অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে। ১০ ঘণ্টার চেষ্টায় এটির নিয়ন্ত্রণ আনেন দমকল কর্মীরা।

এছাড়া স্কটল্যান্ডে গরম হাওয়া থেকে সৃষ্ট অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে। স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদেও দাবানলের ঘটনা ঘটে। তাতে কিছু বাড়ি খালি করতে হয় ও আগুন নেভাতে হিমশিম খেতে হয় ফায়ার ফাইটারদের। অক্টোবর মাসে শ্রীলংকা, লেবানন ও ইসরাইলেও দাবানলে ঘটনা ঘটে। আলজেরিয়ার রাজধানীতে দাবানলে দু’জন মারা যান। এর বাইরে আরও কিছু ছোট দাবানল ও অগ্ন্যুপাতের ঘটনা ঘটে।

এসব কারণে করোনা মহামারীতে সব কিছু থমকে থাকার পরও বিদায়ী বছরটি ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণ বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ তিনটি বছরের একটি বলেছে ওয়ার্ল্ড মেটেওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন।

২০২০ সালের বৈশ্বিক জলবায়ু প্রতিবেদনে বলা হয়, সমুদ্রের তাপমাত্রা রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছে। রিপোর্টে বলা হয়, কোভিড-১৯ এর কারণে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কিছুটা কমলেও বিশ্ব এখনও তাপমাত্র ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধির দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

জলবায়ুর প্রভাবে মানুষের স্বাস্থ্যগত নানা সমস্যা জটিল আকার ধারণ করছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ফিরে দেখা ২০২০

২৯ ডিসেম্বর, ২০২০