ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

বিশ্বনেতাদের কাউকেই কাবু করতে পারেনি করোনা

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৮ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বের প্রত্যেক প্রান্তেই হানা দিয়েছে করোনাভাইরাস মহামারী। নবীন কিংবা প্রবীণ, ধনী কিংবা গরিব নির্বিশেষে আক্রান্ত করেছে কোটি কোটি মানুষকে, প্রাণ নিয়েছে লাখ লাখ। এমনকি বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ও প্রভাবশালী নেতাদেরকেও ছাড় দেয়নি।

কিন্তু হাতেগোনা কয়েকজন বাদে বেশির ভাগ নেতাকেই কাবু করতে পারেনি ভাইরাসটি। করোনা ছড়িয়ে পড়ার পর গত এক বছরে অন্তত ২৫ জন রাজনীতিক আক্রান্ত হয়েও ভাগ্যগুণে বেঁচে গেছেন।

চলতি বছরের অক্টোবরে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের বেশ কয়েকজন স্টাফসহ আক্রান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বয়সের কারণেই ব্যাপক ঝুঁকির মুখে ছিলেন তিনি। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেয়া হয় উন্নত চিকিৎসা। তিনদিন পর হোয়াইট হাউসে ফিরে আসেন।

এর কয়েকদিন পর ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা তাকে করোনামুক্ত বলে ঘোষণা করেন। শুধু তাই নয়, নির্বাচনী প্রচারণাতেও অংশ নেন তিনি। করোনাভাইরাসকে পাত্তাই দিতে চাননি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো। একে ‘লিটল ফ্লু তথা ছোটখাটো ভাইরাস’ বলে উপহাস করেন।

জুলাই মাসের দিকে নিজেই করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর জানান তিনি। চিকিৎসায় বহুল আলোচিত হাইড্রোক্সিক্লোরকুইন গ্রহণ করে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি।

ব্রেক্সিট আলোচনা নিয়ে সংকটের মধ্যে মার্চের দিকে করোনায় আক্রান্ত হন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। দ্রুতই আইসোলেশনে চলে যান তিনি। কিন্তু একপর্যায়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে ভর্তি হন। নেয়া হয় আইসিইউতেও। কয়েকদিন পরই সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি।

এজন্য ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সময়ে করোনার হামলা হয় ব্রিটিশ রাজবাড়িতেও। সংক্রমিত হয়ে রীতিমতো কোয়ারেন্টিনে যেতে হয়েছে রাজ্যের উত্তরাধিকার প্রিন্স চার্লসকে।

অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। মার্চের দিকে করোনা ধরা পড়ে তার স্ত্রী সোফি গ্রেগোয়ারের। কোয়ারেন্টিনে চলে যান ট্রুডো। বড়দিন সামনে করে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে আক্রান্ত হন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাত্রেঁদ্ধা।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি হাই-প্রোফাইল বৈঠকের পর তার ভাইরাস ধরা পড়ে। আইসোলেশনে চলে যান তিনি ও তার সংস্পর্শে আসা ইউরোপীয় নেতারা। কয়েকদিন পর এখন অনেকটাই সুস্থ তিনি।

মে মাসে সস্ত্রীক (দক্ষিণ সুদানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী) করোনা আক্রান্ত হন দক্ষিণ সুদানের ভাইস প্রেসিডেন্ট রিক ম্যাচার। বেলারুশের প্রেসিডেন্ট অ্যালেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো এ বছরের জুলাইয়ে করোনা আক্রান্ত হন। যদিও তিনি করোনাকে একটি মানসিক জটিলতা উল্লেখ করে এ থেকে বাঁচতে ভদকা খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস