১ কোটি ৪০ লাখ মার্কিনির রুটি-রুজি নিয়ে তামাশা ট্রাম্পের

সই করলেন না রিলিফ প্যাকেজ বিলে
 যুগান্তর ডেস্ক 
২৮ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মহামারীতে চাকরি হারিয়ে অসহায় এক কোটি ৪০ লাখ মার্কিনির রুটি-রুজি নিয়ে তামাশা করছেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে নগদ সহায়তা তহবিলের ৯০ হাজার কোটি ডলারের প্যাকেজে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করেন তিনি।

এর মধ্য দিয়ে মার্কিনিদের জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়। একে প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে অবহেলা ও ফলে ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে সতর্ক করেছেন পরবর্তী প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত জো বাইডেন। এএফপি।

দীর্ঘ আলোচনার পর কংগ্রেস করোনার আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ৯০ হাজার কোটি ডলারের তৃতীয় সহায়তা প্যাকেজ পাস করে সোমবার। এ তহবিল থেকে প্রতি আমেরিকান ৬০০ ডলার পাবেন। বেকাররা আরও ৩০০ ডলার করে সাপ্তাহিক ফেডারেল বেকার ভাতা পাওয়ার কথা। কিন্তু কংগ্রেসে বিলটি পাস হওয়ার পর থেকে এটিকে আর্থিক অপচয় বলছেন ট্রাম্প।

বিলে সংশোধনী আনার জন্য কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়ে টুইট করে যাচ্ছিলেন তিনি। ফলে বিলটিতে ট্রাম্পের স্বাক্ষর না করা বা ভোটো দেয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। শনিবার বিলটিতে স্বাক্ষরের একেবারে শেষ সময়েও যদি ট্রাম্প স্বাক্ষর করতেন তাতেও এক সপ্তাহের ভাতাপ্রাপ্তি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যেত। কিন্তু একদিকে তিনি অপচয় বলে বিলে স্বাক্ষর করেননি।

অন্যদিকে ‘গ্রেট মার্কিনিদের’ দুই হাজার ডলার করে দেয়ার জন্য বলছেন। অনেকটা দায়িত্ব এড়ানো ও স্ববিরোধী অবস্থান প্রেসিডেন্টের। বাইডেনের বক্তব্যে সেটাই উঠে এসেছে। বেকারদের বিস্তৃতভাবে ভাতা দেয়ার বিলে স্বাক্ষরের মেয়াদ শেষ হয় শনিবার। চলতি বছরের শেষ দিন পর্যন্ত ভাতা দেয়ার বিলম্বাধিকার আছে।

তারপর নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহ থেকে বেকার অহসায় মানুষের জীবনে নেমে আসবে অনিশ্চয়তা। করোনায় সৃষ্ট আর্থিক সংকটে পড়া মানুষের জন্য এই ভাতা ছিল লাইফ লাইন। এক বিবৃতিতে বাইডেন বলেন, ‘ক্রিসমাসের পরের দিনই কোটি পরিবার জানে না তারা ন্যূনতম রুটি-রুজির ব্যবস্থা করতে পারবে কি না।

এ জন্য দায়ী ট্রাম্প। কারণ তিনি কংগ্রেসের উভয় দলের সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পাসও হওয়া রিলিফ বিলে স্বাক্ষর করছেন না।’

বিলটিতে এককালীন ৬০০ ডলার, সাপ্তাহিক ফেডারেল বেকার ভাতা ৩০০ ডলার এবং অতিরিক্ত আরও ১১ সপ্তাহ রাজ্য পর্যায়ের সুবিধা যুক্ত করা হয়। বুধবার ক্রিসমাসের ছুটি কাটাতে ফ্লোরিডায় নিজের মার-এ-লাগো রিসোর্টে যাওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, এটি ‘অসম্মানজনক’। কংগ্রেসকে অবিলম্বে ‘অপ্রয়োজনীয় ও অপচয়ের’ বিষয়গুলো থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। শনিবার ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চাই বিলে বর্তমানে থাকা ৬শ’ ডলারের পরিবর্তে আমাদের মহান মানুষেরা দুই হাজার ডলার করে পাবেন।’

বাইডেন বলছেন এ ৬শ’ ডলার ডাউনপেমেন্ট। ক্ষমতা নেয়ার আগেই মানুষকে দিতে চান তিনি। পরে এপ্রিলে ১২শ’ ডলারের নতুন চেক দেয়া হবে। কিন্তু সেটি আবার রিপাবলিকান সিনেটররা বাধাগ্রস্ত করছেন। বর্তমানে প্রায় দুই কোটি আমেরিকান বেকারভাতার ওপর নির্ভরশীল।

আরও আট লাখ ৬৯ হাজার মানুষ ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত বেকার সহায়তার জন্য আবেদন করেছেন। চার লাখ মানুষ মহামারী সহায়তা চেয়ে আবেদন করেছেন। এ অবস্থায় সময়মতো ভাতা না পেলে মানুষ রাস্তায় নেমে আসতে পারে। কারণ তাদের খাবার নেই। বাড়িভাড়া দেয়ার ও দৈনন্দিন অপরিহার্য খরচ মেটানোর মতো কোনো অর্থ নেই।

বেকারত্বের ওপর করোনার আঘাত পরিস্থিতি মারাত্মক করে তুলেছে। এ অবস্থায় নানা ছুতোর আশ্রয় নিয়েও প্রেসিডেন্ট থাকার জন্য ফল বদলাতে ব্যর্থ হওয়া ট্রাম্প পরিস্থিতি বেগতিক হওয়াই কামনা করছেন।

রাজনীতি করবেন ও বই লিখবেন ইভাঙ্কা : প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ মেয়ে ইভাঙ্কা বই লিখবেন ও রাজনীতি শুরু করবেন। ২০ জানুয়ারি ট্রাম্প হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর নতুন এ ভূমিকা নেবেন ইভাঙ্কা। হোয়াইট হাউসের দিনলিপি নিয়ে একটি বই লিখার পরিকল্পনা করছেন তিনি।

পাশাপাশি ফ্লোরিডা থেকে নিজের মতো করে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করতে চান ফ্যাশন সচেতন ইভাঙ্কা। ফার্স্ট ডটার হিসেবে হোয়াইট হাউসে যেসব ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি, তা গত চার বছর আলাদা করে নোট রেখেছেন।

শেষ পর্যন্ত বই লিখলে তা হবে তার তৃতীয় বই। এর আগে ২০০৯ সালে তিনি লিখেছেন ‘দ্য ট্রাম্প কার্ড’ এবং ২০১৭ সালে লিখেছেন, ‘ওমেন হু ওয়ার্ক’। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তৃতীয় বইটি লেখার প্রতি খুব বেশি আগ্রহ রয়েছে ইভাঙ্কার। এতে অনেক ইস্যু রেকর্ড আকারে উপস্থাপন করতে চান তিনি। এমনকি সমালোচকদের জবাব দিতে চান।

গুজব রয়েছে তার দক্ষতায় ঘাটতি আছে। কারণ তাকে একপেশে করে রেখেছিলেন ট্রাম্প। এ ছাড়া ফার্স্ট লেডি ও তার সৎ মা মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে তার তিক্ত সম্পর্ক থাকার কথাও শোনা গেছে। এসব সমালোচনার জবাব দিতে চান তিনি। এ জন্য বই লেখা সবচেয়ে ভালো মাধ্যম। এ ছাড়া তিনি বইতে নারীদের বিভিন্ন ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরতে পারেন।

উদার মিডিয়া, ডেমোক্র্যাট রাজনীতিকরা ও নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল তার জীবন ও ব্যবসাকে টার্গেট করেছে বলে দাবি ইভাঙ্কার। তিনি এসব বিষয়ও তুলে ধরবেন বইয়ে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন