ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

বড়দিনের উৎসবে করোনার ছায়া

সীমিত পরিসরে আনন্দ, গির্জায় গির্জায় মৃত স্বজনদের জন্য শোক-প্রার্থনা
 যুগান্তর ডেস্ক 
২৬ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
বড়দিনের উৎসবে করোনার ছায়া
ছবি: সংগৃহীত

কোনো আনন্দ-উল্লাস নেই। নেই বড় কোনো সভা-সমাবেশ। দেশে দেশে এবারের বড়দিনের উৎসব যেন করোনাভাইরাস মহামারীর কালো ছায়ায় ঢেকে গেছে।

যিশুখ্রিস্টের (হজরত ঈসা আ:) আবির্ভাব বা জন্মদিনের এমন নিরানন্দ উদযাপন এর আগে কখনও দেখেনি বিশ্ব।

করোনার বিধিনিষেধের কারণে সীমিত করা হয়েছে উৎসব-আনন্দানুষ্ঠান। সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে সমাবেশ বা প্রার্থনা সভায় যোগদান থেকে বিরত থেকেছে কোটি কোটি খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।

ঘরে বসেই প্রার্থনায় যোগ দিয়েছে। শোক জানিয়েছে মহামারীতে মৃত স্বজনদের জন্য। দ্য গার্ডিয়ান, আলজাজিরা।

বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য সংকট সৃষ্টি করেছে করোনা। শুক্রবার পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে প্রায় আট কোটি মানুষ। মৃত্যু ১৭ লাখ। এমন পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হয়েছে বড়দিনের উৎসব।

এর মধ্যে নতুন বৈশিষ্ট্যের করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় ব্রিটেন ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশ বিধিনিষেধ নতুন করে জোরালো করেছে। বড়দিনের বিশেষ সমাবেশ সংক্ষিপ্ত করেছেন খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসও।

করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার বড়দিনে তেমন কোনো আয়োজন ছিল না যিশুখ্রিস্টের জন্মস্থান ফিলিস্তিনের বেথেলেহেমেও। বড়দিনের আগের দিন ঐতিহ্যগতভাবে ‘চার্চ অব দ্য নেটিভিটি’তে বড়দিনের সমাবেশ হয়ে থাকে। যোগ দিয়ে থাকে লাখো মানুষ।

তবে এ বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে জনসাধারণের জন্য এ সমাবেশ বন্ধ রাখা হয়। অনলাইনে সম্প্রচার করা হয় এ অনুষ্ঠান। শুধু, ধর্মযাজক ও নির্বাচিত মানুষরাই প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার ইতালিতে সেন্ট পিটারের বাসিলিয়ায় বড়দিনের বিশেষ সমাবেশ করেন পোপ ফ্রান্সিস।

তবে খুব সীমিত পরিসরে এর আয়োজন করা হয়। ২০০ জনেরও কম মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তাদের বেশির ভাগই ভ্যাটিকানের কর্মী। সবাই মাস্ক পরে ছিলেন। ঐতিহ্যগতভাবে এ অনুষ্ঠান সাধারণত মধ্যরাতে হয়ে থাকলেও বৃহস্পতিবার এর আয়োজন করা হয় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে।

করোনা পরিস্থিতির কারণে ইতালিতে এখন কারফিউ চলছে। ধর্মোপদেশমূলক বাণীতে পোপ ফ্রান্সিস বলেন, ‘একটি শিশুর জন্ম মানুষকে মনে করিয়ে দেয় যে নিজের ভাগ্য গড়তে গড়তে যেন আমরা আমাদের সময় ব্যয় না করি; বরং যারা দুর্ভোগে আছে তাদের অশ্রু মুছে দিই, গরিবেরসেবা করি।’

বড়দিনে নিজ বাসভবন অ্যাপস্টোলিক প্যালেসথেকে ভিডিও বার্তা দেন পোপ। সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে ভিড় এড়াতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার কামিশলিতে মুখে মাস্ক পরে বড়দিনের উৎসবে শামিল হন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা। ক্রিসমাস ট্রিতে আলোকসজ্জা করার উৎসবও করা হয়।

মারিয়া ডানহু নামে আগতদের একজন বলেন, ‘আমরা ভয় পাচ্ছিলাম, এ বছর না করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে বড়দিনের অনুষ্ঠান বাতিল হয়ে যায়।

তবে দেখুন না, এখন এখানে সবাই উদযাপন করছে এবং আমরা খুশি।’ করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দেশের বিখ্যাত ক্রিসমাস মার্কেটগুলো বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে জার্মানি।

কুয়েতে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত গির্জাগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। বড়দিনে বাবা-মাকে কাছে পেতে করোনা আক্রান্ত শিশুদের জন্য প্লাস্টিকের পোশাকের ব্যবস্থা করেছে ইতালির রোমের একটি হাসপাতাল। ক্রিসমাস উপলক্ষে আক্রান্ত শিশুদের সব থেকে বড় উপহার দেয়ার জন্য রোমের সান রাফালে পিসানা হাসপাতাল এই সিদ্ধান্ত নেয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস