ট্রাম্পের ৪ বছরে ইরানে ১৫ হাজার নিষেধাজ্ঞা

করোনা প্রণোদনা প্যাকেজের বিলে সই না করার হুশিয়ারি ট্রাম্পের * বিদায়ের আগে দণ্ডপ্রাপ্ত ১৫ জনকে ক্ষমা করলেন ট্রাম্প
 যুগান্তর ডেস্ক 
২৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ইরানের বিরুদ্ধে ১৫ হাজারের বেশি নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তি থেকে একপাক্ষিকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পর গত চার বছরে নজিরবিহীন এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মঙ্গলবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি মাজিদ তাখতে রাভাঞ্চি। এদিন পরমাণু চুক্তির ব্যাপারে ইউরোপের ভূমিকারও কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, পরমাণু চুক্তি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

করোনা মহামারীকালেও ধ্বংসাত্মক মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেছে সংস্থাটি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কংগ্রেসে পাস হওয়া ৮৯ হাজার ২০০ কোটি ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ বিলটি সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

প্যাকেজটিকে ‘অপ্রয়োজনীয় ও অপব্যয়ের খাত’ অভিহিত করে তাতে স্বাক্ষর না করার হুমকিও দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প বলেছেন, ‘অতি শিগগির কংগ্রেস যেন এই বিল থেকে অপ্রয়োজনীয় ও অপব্যয়ের খাতগুলো বাদ দিয়ে একটি যুতসই বিল আমার কাছে পাঠায়।’

বিলে প্রত্যেক মার্কিনীকে ৬০০ ডলার করে এককালীন অর্থ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। ট্রাম্প এটি বাড়িয়ে ২ হাজার ডলার করার প্রস্তাব দিয়েছেন। ফার্স, ইরনা ও এএফপি।

২০১৫ সালে ছয় জাতি-গোষ্ঠীর সঙ্গে সই হওয়া চুক্তি থেকে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে একতরফাভাবে প্রত্যাহার করে নেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সঙ্গে তেহরানের ওপর আগের সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা বহাল করেন।

আগের চুক্তি বাতিল করে নতুন করে চুক্তি চায় ওয়াশিংটন। তেহরান তা না মানায় গত চার বছর ধরে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন এবং এখনও তা অব্যাহত রয়েছে।

মার্কিন নির্বাচনের আগ মুহূর্তেও এ ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি পরাজয়ের পর তেহরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করেন ট্রাম্প। তবে সিনিয়র উপদেষ্টাদের বিরোধিতার মুখে তা থেকে বিরত হন।

এর পরই ইরানি শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদে হত্যাকাণ্ডে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। বিদায়ের আগ মুহূর্তে ট্রাম্পের মদদে এটি ঘটানোর কথাও শোনা যায়।

সম্প্রতি পরমাণু সমঝোতায় ফিরতে নিজেদের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাসহ শীর্ষ উপদেষ্টারাও একই ধরনের কথা বলছেন।

তবে তা নিঃশর্ত হওয়ার কথা বারবার বলে আসছেন ইরানি প্রেসিডেন্টসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু সমঝোতায় ফেরার বিষয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি মাজিদ তাখতে রাভাঞ্চি বলেন, আগের শর্ত মেনেই চুক্তিতে ফিরতে হবে ওয়াশিংটনকে।

এ নিয়ে নতুন করে আলোচনা বা পুনর্মূল্যায়ন সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য। তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন আলোচনার পর অনেক শর্তে ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা সই করে ছয় জাতি-গোষ্ঠী।’

বিদায়ের আগে দণ্ডপ্রাপ্ত ১৫ জনকে ক্ষমা করলেন ট্রাম্প : ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়ার আগে বিভিন্ন অপরাধে দোষী সাব্যস্তদের ক্ষমা করে দেয়া মার্কিন ইতিহাসে নতুন ঘটনা নয়। এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন ট্রাম্প।

গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপির লক্ষ্যে রুশ সংযোগে অভিযুক্ত ঘনিষ্ঠ ২ সহযোগীসহ বিভিন্ন অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত ১৫ জনকে ক্ষমা করে দিয়েছেন তিনি।

যদিও তিনি নির্বাচনের ফলাফলকে এখনও সরাসরি মেনে নেননি। ক্ষমাপ্রাপ্ত ১৫ জনের মধ্যে রয়েছেন, ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে তদন্তের সময় এফবিআইকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সাজাপ্রাপ্ত দু’জন।

ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা শিবিরের সদস্য জর্জ পাপাডোপুলুস এবং অ্যাটর্নি অ্যালেক্স ভান ডের জাওয়ান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাধারণ ক্ষমার তালিকায় পড়েছেন। এছাড়া ২০০৭ সালে ইরাকে গণহত্যার সঙ্গে জড়িত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চারজন সদস্যকে ক্ষমা করে দিয়েছেন ট্রাম্প।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : মার্কিন-ইরান সংকট