জানুয়ারিতেই শেষ চেষ্টা ট্রাম্পের

ইলেকটোরাল কলেজের ফলাফল ট্যালি ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের একাংশ
 যুগান্তর ডেস্ক 
১৮ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সুইং স্টেটগুলোতে বিরোধী জো বাইডেনের কাছে স্পষ্ট ব্যবধানে হেরেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম-কারচুপি হয়েছে দাবি করে করা তার মামলাগুলোও প্রায় সব নাকচ হয়ে গেছে।

এমনকি সম্প্রতি তার দাবি অমূলক অভিহিত করে উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন সুপ্রিমকোর্টও। সর্বশেষ সোমবার বাইডেনের পক্ষেই পড়েছে ইলেকটোরাল কলেজের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট। যার মধ্যদিয়ে অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গেছে তার পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়া।

এরপরও এখনও পরাজয় মেনে নেননি। চুপ করে আছেন ট্রাম্প। তার চোখ এখন আগামী ৬ জানুয়ারির দিকেই। এটাই তার শেষ ভরসাও।

নির্বাচনের ফল উল্টে তার পক্ষে নিয়ে আসতে এদিনই মার্কিন কংগ্রেসের ইলেকটোরাল কলেজের ফলাফল ট্যালি ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের একাংশ।

সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে ট্রাম্পশিবির। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বিষয়টা ট্রাম্পের জন্য খুব একটা সুবিধের হবে না।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও অনুগতদের একটি দল এখনও মনে করছেন, ট্রাম্পের রাজনীতিতে টিকে যাওয়া এবং হোয়াইট হাউসে আরও চার বছর থেকে যাওয়ার আর একটি মাত্র পথই অবশিষ্ট আছে।

সেই নাটক মঞ্চস্থ হবে আগামী ৬ জানুয়ারি। তাহলে কি ঘটতে যাচ্ছে ওইদিন। ইলেকটোরাল কলেজের ভোটের যে ফল জানা গেছে সোমবার সেটা এখনও ‘আনুষ্ঠানিক’ ফল নয়। এই ভোটের ফল এখন পাঠানো হবে ফেডারেল রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে।

আগামী ৬ জানুয়ারি ইলেকটোরাল ভোট আনুষ্ঠানিকভাবে গণনা করা হবে কংগ্রেসের এক যৌথ অধিবেশনে। এতে সভাপতিত্ব করবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৬ জানুয়ারির ঘটনাবলী হয়তো ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোটের ফল বদলে দেয়ার ক্ষেত্রে ‘শেষ সুযোগ’ এনে দিতে পারে। এমন একটি প্রয়াস নিচ্ছেন কয়েকজন সিনেটর ও কংগ্রেস সদস্য।

তারা আরিজোনা, পেনসিলভানিয়া, নেভাদা, জর্জিয়া ও উইসকন্সিন; এই রাজ্যগুলোতে অবৈধ ভোট ও জালিয়াতির লিখিত অভিযোগ জমা দেবেন যাতে অন্তত একজন সিনেটরের স্বাক্ষর থাকবে।

এর লক্ষ্য হবে ওই রাজ্যগুলোর ভোট ‘ডিসকোয়ালিফাই’ বা বাতিল করা। আলাবামা রাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর ব্রুক্স তাদের একজন। নিউইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলছেন, মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী সেদিন সুপ্রিমকোর্টসহ যে কোনো আদালতের বিচারকের চেয়ে বড় ভূমিকা রয়েছে কংগ্রেস সদস্যদের।

আমরা যা বলব তাই হবে, সেটাই চূড়ান্ত।

এ ধরনের অভিযোগ উঠলে এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ফলাফল প্রত্যয়ন করতে অস্বীকার করলে কী হবে- তা নিয়ে মার্কিন বিশ্লেষকরা নানা রকম চিত্র তুলে ধরছেন। ব্রুক্স বলছেন, ‘আমার এক নম্বর লক্ষ্য হল আমেরিকার ত্রুটিপূর্ণ

নির্বাচনী ব্যবস্থা- যা ভোটার জালিয়াতি বা ভোট চুরিকে খুব সহজে মেনে নিচ্ছে- তা মেরামত করা। আর এটা থেকে একটা বোনাস মিলে যেতে পারে যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইলেকটোরাল ভোটে আনুষ্ঠানিকভাবে জিতে গেলেন।

কারণ আপনি যদি অবৈধ ভোটগুলো বাদ দেন এবং যোগ্য আমেরিকান নাগরিকদের আইনসঙ্গত ভোটগুলোই শুধু গণনা করেন, তাহলে তিনিই জিতেছেন।’ কিন্তু বাস্তবে এ রকম কোনো প্রক্রিয়া হবে জটিল এবং দীর্ঘ। প্রতিটি অভিযোগ নিয়ে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই ঘণ্টাব্যাপী বিতর্ক ও ভোটাভুটি হতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন-২০২০