ট্রাম্পের ক্ষত বইবেন জো বাইডেন

অনিশ্চয়তা ও আইনি লড়াইয়ের মুখে থাকবেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট
 যুগান্তর ডেস্ক 
১৭ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সব অনিশ্চয়তা কাটিয়ে জো বাইডেনের শপথ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদায় নিশ্চিত হয়েছে। ২০ জানুয়ারি, ২০২১ বাইডেন শপথ নেবেন। সেদিনই হোয়াইট হাউস ছেড়ে যাবেন ট্রাম্প। তবে ট্রাম্প চলে গেলেও তার রেখে যাওয়া নানা ক্ষত-ভোগান্তি বয়ে বেড়াতে হবে বাইডেনকে।

করোনার কারণে ২০২০ সালে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দাসহ আরও কিছু সমস্যার মোকাবেলা করতে হবে। অন্যদিকে দায়িত্ব ছাড়ার পর ট্রাম্পকে মোকাবেলা করতে হবে কিছু আইনি হুমকি ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা। এএফপি, রয়টার্স।

পশ্চিমা অনেক উন্নত দেশের জন্য ২০২০ সাল শেষ হতে না চাওয়া হরর মুভি সিরিজের মতো। কখন এটি শেষ হবে সেই অপেক্ষায় তারা। করোনায় অর্থনীতি, রাজনীতি ও সামাজিক কাঠামোতে ঝাঁকুনি দেয়া বছরটি বিদায় নিলেও ২০২১ সালেই সব কিছু দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাবে না।

এ অবস্থা অন্যান্য দেশের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেলায় একটু বেশিই প্রযোজ্য। কারণ করোনার আঘাত ছাড়াও ট্রাম্প কিছুটা ইচ্ছায় এবং অনেকটা তার খামখেয়ালি স্বভাবের কারণে মার্কিন অনেক প্রতিষ্ঠানের বারোটা বাজিয়ে গেছেন।

নড়বড়ে করে ফেলেছেন বহির্বিশ্বের অনেক দেশ ও সংস্থার সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কের কাঠামোও। বাইডেনকে সেই আগোছালো অবস্থা কাটিয়ে উঠতে হবে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বাইডেন এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েই বিজয়ী হয়েছেন। নিজের ভাষায় তিনি বলেছেন ‘শিষ্টাচার’ ফেরাবেন। চলতি সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর বাইডেন বলেন ‘এখন সময় এই পৃষ্ঠা (ট্রাম্পযুগ) উল্টে ফেলার।’

পর্যবেক্ষকরা বাইডেনের আগমন ও ট্রাম্পের বিদায়কে দেখছেন- আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি মনযোগ প্রত্যাশী প্রেসিডেন্টের বিদায় এবং তার স্থলে নম্র-ভদ্র, উত্তপ্ত পরিস্থিতি সুস্থির করতে চাওয়া একজনের আগমন হিসেবে।

উড়ে এসে জুড়ে বসা আরেক শত্রু আছে বাইডেনের ঘাড়ে- করোনাভাইরাস। ২০২০ সালের হাতেগোনা কয়েকটি সুখবরের একটি হচ্ছে অতিদ্রুত করোনা ভ্যাকসিন উন্নয়ন করে ক্রেডিট নিতে চেয়েছেন ট্রাম্প। ভ্যাকসিন আসতে শুরু করলেও ভাইরাসটি এখনও সবচেয়ে প্রাণঘাতী অবস্থায় আছে।

যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক হাজরো মানুষের মৃত্যু ঘটাচ্ছে। ভ্যাকসিন ৫০টি রাজ্যের মানুষের কাছে পৌঁছানো, তাদেরকে টিকায় আগ্রহী করার মতো দুরূহ কাজ করতে হবে বাইডেনকে। অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দায় করোনা মহামারীর ওপর চাপানোর সুযোগ ট্রাম্পের থাকলেও বাইডেনের অজুহাত দেয়ার সুযোগ নেই। চাঙ্গা করতে হবে অর্থনীতি।

২০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউস ছেড়ে গেলেও সহসাই আলোচনা থেকে বিস্মৃত হবেন না রিয়েল এস্টেট মোগল ট্রাম্প। ট্রাম্প পরিবার ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দৌড়ের প্রস্তুতি নিতে পারে। মিডিয়ায় আবার সরব উপস্থিত হতে পারেন ট্রাম্প। এছাড়া আইনি ঝামেলা ও বাণিজ্যিক নানা চ্যালেঞ্জ আছে ট্রাম্প ও তার পরিবারের সামনে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, অনেক কিছু অনিশ্চিত হলেও ট্রাম্পের ক্ষেত্রে একটি বিষয় নিশ্চিত। সেটি হল পাদপ্রদীপের আলোয় থাকার তার বাসনা তাকে অন্য সাবেক প্রেসিডেন্টদের মতো নীরব জীবন বেছে নিতে দেবে না।

প্রেসিডেন্টের মেয়াদে সব কিছুকে তটস্থ করে রাখার মতো দায়িত্ব ছাড়ার পরও তিনি উচ্চকণ্ঠ থাকবেন। টিভি রিয়েলিটি শো’ উপস্থাপন ও বিভিন্ন মামলা মোকাবেলার পাশাপাশি বাইডেন ও তার প্রশাসনের সমালোচনায় সোচ্চার থাকবেন ট্রাম্প। কারণ তিনি কখনও প্রকাশ্যে নিজের পরাজয় ও বাইডেনের বিজয় স্বীকার করবেন না বলে ঘনিষ্ঠজনদের জানিয়েছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন-২০২০