‘সেনাবাহিনীকে রাজনীতিতে টানা উচিত নয়’

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
‘সেনাবাহিনীকে রাজনীতিতে টানা উচিত নয়’
ছবি: সংগৃহীত

সেনাবাহিনীকে রাজনীতিতে না জড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন পাক সেনাপ্রধান জেনারেল কমর জাভেদ বাজওয়া। সেই সঙ্গে আন্দোলনের নামে অরাজকতা সৃষ্টির ব্যাপারেও রাজনীতিকদের হুশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

গত সপ্তাহে পার্লামেন্টে প্রধান রাজনীতিক ও নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে পাক সেনাপ্রধান বলেন, পার্লামেন্টের নেতাদের তিনি বলে দিয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর রেষারেষিতে সেনাবাহিনীকে টেনে নেয়া উচিত নয়।

দেশের কোনো রকম রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত নয় সেনাবাহিনী। তবে প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী বেসামরিক সরকারের পাশে দাঁড়াবে বলে জানান তিনি। বলেন, ‘কোনো অরাজকতা বরদাশত করা হবে না।’ এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

গিলগিট-বাল্টিস্তানকে একটি প্রদেশে উন্নীত করা ও ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবলিটি ব্যুরোর (এনএবি) ভূমিকাসহ চলমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সেনাপ্রধান কমর জাভেদ বাজওয়া এবং ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফায়েজ হামিদের সঙ্গে সাক্ষাতে মিলিত হন পার্লামেন্টারি নেতারা।

সূত্রের মতে, এতে উপস্থিত ছিলেন পিএমএলএনের শাহবাজ শরিফ, খাজা আসিফ ও আহসান ইকবাল। পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি, শেরি রেহমান প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ফের মাঠে নামছে সবকয়টি প্রধান বিরোধী দল। সেই জোটে নওয়াজ শরিফ এবং বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিও আছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বৈঠক বসে নওয়াজ শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন), পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি), জমিয়ত উলামা ও অন্য দলগুলো।

বিরোধীদের দাবি, পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনার প্রভাব চলবে না। নতুন দায়বদ্ধতা আইন আনতে হবে এবং ইমরান খানকে পদত্যাগ করতে হবে। নেতারা আরও বলেন, ইমরান নির্বাচনে জালিয়াতি করে জিতেছিলেন। আর সেই জালিয়াতিতে সাহায্য করেছিল সেনাবাহিনী।

পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনা প্রভাবের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও বহুবার সেনা এবং আইএসআইয়ের প্রভাব নিয়ে বহু খবর হয়েছে। বিরোধীরা সোচ্চার হয়েছেন। বার বার অভিযোগ উঠেছে, জনগণের ভোটে জিতে সরকার গঠন করলেও ক্ষমতার আসল চাবিকাঠি থাকে সেনার হাতে। নির্বাচিত সরকারকেও তাদের কথা শুনে চলতে হয়।

শেষ কথা সেনাই বলে। গিলগিট-বাল্টিস্তানকে নতুন প্রদেশ ঘোষণার জন্য বৈঠকে একমত হয়েছেন সবাই।

কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী শেখ রশিদ আহমেদ সোমবার একটি বেসরকারি নিউজ চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এই বৈঠকের কথা নিশ্চিত করেছেন। বলেছেন, গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হয়েছে ওই বৈঠক।

মন্ত্রী বলেছেন, বিরোধীদলীয় এসব প্রতিনিধিকে সেনাপ্রধান এটা পরিষ্কার করে বলেছেন, সেনাবাহিনীকে রাজনীতিতে টেনে আনা উচিত হবে না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন