মালিতে দ্রুত নির্বাচন দেয়ার প্রতিশ্রুতি নয়া সেনাপ্রধানের

অভ্যুত্থানে সমর্থন বিরোধীদের

জাতিসংঘ কানাডার তীব্র নিন্দা * বিদ্রোহীদের ব্যারাকে ফেরার আহ্বান নিরাপত্তা পরিষদের
 যুগান্তর ডেস্ক 
২১ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির সামরিক অভ্যুত্থানকে সমর্থন দিয়েছে দেশটির বিরোধী দল। মুভমেন্ট ফাইভ-র‌্যালি অব প্যাট্রিওটিক ফোর্সেস

(এম৫-আরএফপি) নামের দলটি নতুন সামরিক জান্তাপ্রধানকেও সমর্থন দিয়েছে। এর আগে মালির সেনাবাহিনীর বিদ্রোহী জোট নিজেদের ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য স্যালভেইশন অব দ্য পিপল (সিএনএসপি)’ বলে ঘোষণা দিয়েছে।

কর্নেল আসিমি গৈতা নিজেকে সিএনএসপি’র প্রধান ঘোষণা করেছেন। মালির একটি সংবাদপত্র জানিয়েছে, বুধবার সকালে তিনি দেশটির ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের বলেছেন, ‘আমাদের কোনো রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই, আমরা সৈনিক। আমাদের উদ্দেশ্য দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তর।’

বিবিসি জানায়, বিদ্রোহী সেনাদের নেতৃত্বে আর যারা আছেন বলে শনাক্ত হয়েছে তাদের মধ্যে কর্নেল মালিক দিয়াও সিএনএসির ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। দেশটির বিমান বাহিনীর উপপ্রধান কর্নেল ইসমাইল ওয়াগি এই গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে এর আগে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে একটি বিবৃতি পড়ে শুনিয়েছিলেন।

মালির বিরোধী দল মুভমেন্ট-ফাইভ এক বিবৃতিতে জানায়, ‘নয়া জান্তা একটি বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে এবং একটি রোডম্যাপ উন্নয়নে কাজ করবে।’ ইতোমধ্যে বিদ্রোহী সেনা সদস্যদের এ জোটটি দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘোষণা দিয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে বিদ্রোহী সেনারা মালির প্রেসিডেন্ট ভবনে হানা দিয়ে অস্ত্রের মুখে প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম বৌবাকর কেইতা ও প্রধানমন্ত্রী বুবু সিসাসহ আরও কয়েকজনকে রাজধানী বামাকোর নিকটবর্তী একটি সামরিক শিবিরে আটক করে। তার কয়েক ঘণ্টা পর এক ভাষণে কেইতা পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং সরকার ও পার্লামেন্ট বিলুপ্ত ঘোষণা করেন।

মালি সাহারা মরুভূমিতে বিস্তৃত একটি বিশাল দেশ হলেও বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর অন্যতম। সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণ এখানে নতুন কোনো ঘটনা নয়, আগেও বেশ কয়েকবার দেশটিতে এমন ঘটনা ঘটেছে। মালি এখন ক্রমবর্ধমান জঙ্গি হামলার মোকাবেলা ও গোষ্ঠীগত হানাহানি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় আছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ছিলেন কেইতা।

কিন্তু জুন থেকে দুর্নীতি, অর্থনতিক অব্যবস্থাপনা ও আইনসভার বিতর্কিত নির্বাচন নিয়ে তার সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ চলে আসছিল। জঙ্গিদের সঙ্গে লড়াই ও বেতন নিয়ে সেনাদের মধ্যেও অসন্তোষ বিরাজ করছিল।

বিবিসি জানায়, এ পরিস্থিতিতে আফ্রিকার আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর কথার প্রতিধ্বনি করে বুধবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদও আটক সব সরকারি কর্মকর্তার আশু মুক্তি ও সাংবিধানিক শাসন পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়েছে। অবিলম্বে বিদ্রোহী সেনাদের ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এ সংস্থাটি।

এক বিবৃতিতে পরিষদের ১৫ সদস্য আইনের শাসন পুনরুদ্ধার এবং সাংবিধানিক আদেশে ফিরে যাওয়ার জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। মঙ্গলবার নাটকীয় অভ্যুত্থানের পরে ফ্রান্স ও নাইজারের অনুরোধে নিরাপত্তা পরিষদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে এই বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।

নিরাপত্তা পরিষদ বিদ্রোহের ব্যাপারে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে এবং ‘মালির সব পক্ষের প্রতি তাদের দেশের সংকট সমাধানে সংযম প্রদর্শন এবং সংলাপকে অগ্রাধিকার দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।’ এ অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঙ্কোইস-ফিলিপ্পে বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট কেইতাকে হঠানোর ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

মালির বিদ্রোহী সেনারা জানিয়েছে, দেশে বিশৃঙ্খলা আরও ছড়িয়ে পড়া রোধ করতেই তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছে। বেসামরিক সরকার গঠন করে নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা করবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা। কিন্তু আফ্রিকান ইউনিয়ন (এইউ) মালিকে বহিষ্কার করে বলেছে, ‘সামরিক অভ্যুত্থান অতীতের বিষয়, এটিকে আর আমরা মেনে নিতে পারি না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন