রোগীর মৃত্যু

জামালপুরে হাসপাতালে হামলা ভাংচুর

 জামালপুর প্রতিনিধি 
২৬ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে শুক্রবার বিকালে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ডাক্তারের অবহেলার অভিযোগ তুলে হামলা ও ভাংচুর চালিয়েছে স্বজনরা। পরে হাসপাতাল গেটে ইন্টার্ন ডাক্তারদের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এ সময় দুই চিকিৎসকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন ডা. চিরঞ্জিৎ, ডা. হাবিবুল্লাহ, হাসপাতালের কর্মচারী কিরণ, রোগীর স্বজন শহিদুল্লাহ (৪০), জিহাদ (২০) ও সাইদুর।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোগীর মৃত্যুতে ডাক্তারের অবহেলার অভিযোগ তুলে স্বজনরা ডাক্তার ও কর্মচারীদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে হাসপাতাল ভাংচুর শুরু করেন তারা। বাধা দিতে গেলে উভয়পক্ষে সংঘাত বেধে যায়। এ সময় ডা. চিরঞ্জিত ও ইর্ন্টান ডা. হাবিবুল্লাহ এবং রোগীর কয়েকজন স্বজন আহত হন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে রোগীর স্বজন ও ইন্টার্ন ডাক্তারা পুনরায় সংগঠিত হয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় উভয়পক্ষে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমানসহ ৭ ইন্টার্ন ডাক্তারকে আটক করে পরে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

রোগীর ভাতিজা সাইদুর জানান, শহরের ইকবালপুর জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে গিয়ে দ্বিতীয় তলা থেকে পড়ে যান আমার চাচি করিমন নেছা (৫৫)। তাকে হাসপাতালে নেয়ার পর জরুরি বিভাগে ফেলে রাখা হয়। দীর্ঘ সময় পর ডা. চিরঞ্জিত ডক্টরস রুম থেকে বের হয়ে রোগী দেখে জানান তিনি মারা গেছেন। সময় মতো রোগী দেখে অক্সিজেন দিলে হয়তো এমন ঘটনা ঘটত না। এ বিষয়ে আহত চিকিৎসক ডা. চিরঞ্জিত বলেন, রোগীর মৃত্যুতে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ সঠিক নয়। আমি যথাসময়ে রোগীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করি। কিন্তু হঠাৎ করে রোগীর স্বজনরা আমার ওপর হামলা চালায় এবং জরুরি বিভাগের আসবাবপত্র ভাংচুর শুরু করে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফেরদৌস হাসান বলেন, ভুল বোঝাবুঝির কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। আমরা সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করছি।

জামালপুর সদর থানার ওসি রেজাউল করিম খান বলেন, বিষয়টি স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে সমঝোতা করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন