জামালপুরে রোগীদের দুর্ভোগ
jugantor
চিকিৎসকদের কর্মবিরতি
জামালপুরে রোগীদের দুর্ভোগ

  জামালপুর প্রতিনিধি  

২৯ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জামালপুরের সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকরা চার দিন ধরে কর্মবিরতি পালন করছেন। ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে হামলা, ভাংচুর ও চিকিৎসকদের নির্যাতনের ঘটনায় সব হাসপাতালে সাধারণ চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে। সোমবারও দূর-দূরান্ত থেকে আগত রোগীরা সেবা না পেয়ে চলে গেছেন। স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ ও বিএমএ’র আহ্বানে শুক্রবার থেকে চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগীরা।

চার দফা দাবিতে জেলার সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে। স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের জামালপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক ও স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. মো. মোশায়ের উল ইসলাম জানান, হাসপাতালে বহিরাগতদের হামলা, ভাংচুর ও চিকিৎসকদের লাঞ্ছিত করার ঘটনায় আন্দোলন চলছে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা সাধারণ সেবা কার্যক্রম বন্ধ রেখেছি। তবে রোগীদের কথা চিন্তা করে জরুরি বিভাগ, করোনা রোগী ও প্রসূতি মায়েদের জন্য চিকিৎসাসেবা চালু রেখেছি। তিনি বলেন, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান ও ডা. চিরঞ্জিতসহ অন্য চিকিৎসকদের ওপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, চিকিৎসকদের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন ও চিকিৎসা সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় তাদের আন্দোলন চলবে বলেও তিনি জানান। চিকিৎসকদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন বিএমএ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, স্বাধীনতা চিকিসৎসক পরিষদ (স্বাচিপ), ডক্টরস ফাউন্ডেশন, ৩৯তম বিসিএস, ৩৩তম বিসিএস, ২৮তম বিসিএস, হেলথ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনসহ কয়েকটি সংগঠন।

ইসলামপুর থেকে আসা রোগী রমজান আলী বলেন, পায়ের সমস্যা নিয়ে জামালপুর সদর হাসপাতালে এসেছিলাম। কিন্তু চিকিৎসকরা চেম্বারে না থাকায় চিকিৎসা না করিয়েই চলে যেতে হচ্ছে। পাশের শেরপুর জেলার কুসুমহাটি থেকে আসা রোগী আবদুল আজিজ জানান, শ্বাসকষ্টে ভুগছি। চিকিৎসক দেখাতে এসেছিলাম। কিন্তু হাসপাতালে এসে শুনি চিকিৎসকরা আন্দোলন করছেন। চিকিৎসা না পেয়ে চলে যাচ্ছি।

উল্লেখ্য, শুক্রবার বিকালে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনের সঙ্গে চিকিৎসকদের তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে হাসপাতাল ভাংচুর, হাতাহাতি, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে ডা. চিরঞ্জিত, ডা. হাবিবুল্লাহ, কর্মচারী কিরণ, রোগীর স্বজন শহিদুল্লাহ, জিহাদ ও সাইদুরসহ ১০ জন আহত হন।

চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

জামালপুরে রোগীদের দুর্ভোগ

 জামালপুর প্রতিনিধি 
২৯ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জামালপুরের সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকরা চার দিন ধরে কর্মবিরতি পালন করছেন। ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে হামলা, ভাংচুর ও চিকিৎসকদের নির্যাতনের ঘটনায় সব হাসপাতালে সাধারণ চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে। সোমবারও দূর-দূরান্ত থেকে আগত রোগীরা সেবা না পেয়ে চলে গেছেন। স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ ও বিএমএ’র আহ্বানে শুক্রবার থেকে চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগীরা।

চার দফা দাবিতে জেলার সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে। স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের জামালপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক ও স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. মো. মোশায়ের উল ইসলাম জানান, হাসপাতালে বহিরাগতদের হামলা, ভাংচুর ও চিকিৎসকদের লাঞ্ছিত করার ঘটনায় আন্দোলন চলছে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা সাধারণ সেবা কার্যক্রম বন্ধ রেখেছি। তবে রোগীদের কথা চিন্তা করে জরুরি বিভাগ, করোনা রোগী ও প্রসূতি মায়েদের জন্য চিকিৎসাসেবা চালু রেখেছি। তিনি বলেন, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান ও ডা. চিরঞ্জিতসহ অন্য চিকিৎসকদের ওপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, চিকিৎসকদের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন ও চিকিৎসা সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় তাদের আন্দোলন চলবে বলেও তিনি জানান। চিকিৎসকদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন বিএমএ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, স্বাধীনতা চিকিসৎসক পরিষদ (স্বাচিপ), ডক্টরস ফাউন্ডেশন, ৩৯তম বিসিএস, ৩৩তম বিসিএস, ২৮তম বিসিএস, হেলথ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনসহ কয়েকটি সংগঠন।

ইসলামপুর থেকে আসা রোগী রমজান আলী বলেন, পায়ের সমস্যা নিয়ে জামালপুর সদর হাসপাতালে এসেছিলাম। কিন্তু চিকিৎসকরা চেম্বারে না থাকায় চিকিৎসা না করিয়েই চলে যেতে হচ্ছে। পাশের শেরপুর জেলার কুসুমহাটি থেকে আসা রোগী আবদুল আজিজ জানান, শ্বাসকষ্টে ভুগছি। চিকিৎসক দেখাতে এসেছিলাম। কিন্তু হাসপাতালে এসে শুনি চিকিৎসকরা আন্দোলন করছেন। চিকিৎসা না পেয়ে চলে যাচ্ছি।

উল্লেখ্য, শুক্রবার বিকালে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনের সঙ্গে চিকিৎসকদের তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে হাসপাতাল ভাংচুর, হাতাহাতি, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে ডা. চিরঞ্জিত, ডা. হাবিবুল্লাহ, কর্মচারী কিরণ, রোগীর স্বজন শহিদুল্লাহ, জিহাদ ও সাইদুরসহ ১০ জন আহত হন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন