করোনার প্রভাব

সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ কমেছে ৩৯ শতাংশ

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৯ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের প্রভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যে চলা মন্দায় দেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) এক বছরের ব্যবধানে কমেছে ৩৯ শতাংশ। এর মধ্যে বিদেশ থেকে পুঁজি হিসেবে আনা বিনিয়োগ কমেছে ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ। দেশে চলমান বিদেশি কোম্পানিগুলোর মধ্যে একটি থেকে অন্যটির ঋণ গ্রহণ বা আন্তঃকোম্পানি ঋণ কমেছে ৯০ শতাংশ। তবে কোম্পানিগুলোর অর্জিত মুনাফা থেকে পুনরায় বিনিয়োগ বেড়েছে ১০ দশমিক ৮ শতাংশ।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ‘এফডিআই ও বৈদেশিক’ ঋণ শীর্ষক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এ প্রতিবেদনে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ ও বৈদেশিক ঋণ তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের (বিল্ড) চেয়ারম্যান আবুল কাশেম খান বলেন, বাংলাদেশে মার্চ থেকে করোনার আঘাত এলেও চীনসহ অনেক দেশে ডিসেম্বর থেকেই এসেছে। ফলে ওই সময় থেকে ব্যবসা-বাণিজ্যে একটা মন্থরতা ছিল। করোনার প্রকোপ মার্চে প্রকট হলে তা আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। এ কারণে দেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগও কমেছে।

প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছিল ৩৮৯ কোটি ডলার। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এসেছে ২৩৭ কোটি ডলার। আলোচ্য সময়ে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ১৫২ কোটি ডলার। শতকরা হিসাবে কমেছে ৩৯ শতাংশ। তবে গত অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারি-জুন সময়ে বিদেশি বিনিয়োগ ১ কোটি ডলার বেড়েছে। মূলত আন্তঃকোম্পানি ঋণ বাড়ার কারণে সার্বিক এফডিআই বেড়েছে। পুঁজি হিসাবে বিদেশ থেকে আনা বিনিয়োগ বাড়েনি।

প্রতিবেদনে বিদেশি বিনিয়োগকে তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে মূল বিনিয়োগ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এসেছিল ১১৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এসেছে ৭২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আলোচ্য সময়ে মূল বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ। দেশে কার্যরত বিদেশি কোম্পানিগুলোর অর্জিত মুনাফা থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিনিয়োগ করা হয়েছিল ১৩৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের এ খাতে বিনিয়োগ করা হয়েছে ১৫১ কোটি ডলার। এ খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। আন্তঃকোম্পানি ঋণ বাবদ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিনিয়োগ করা হয়েছিল ১৩৩ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে বিনিয়োগ করা হয়েছে ১৩ কোটি ২৪ লাখ ডলার। ওই সময়ে এ খাতে বিনিয়োগ কমেছে ৯০ শতাংশ।

জানুয়ারি থেকে জুন-এই ছয় মাসে দেশে নিট বৈদেশিক বিনিয়োগ এসেছে ১১৯ কোটি ডলার। এর মধ্যে ৬০ দশমিক ১ শতাংশই কোম্পানিগুলোর অর্জিত মুনাফা থেকে বিনিয়োগ করা। এক কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানি ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করেছে ২৮ শতাংশ এবং মাত্র ১১ দশমিক ৯ শতাংশ এসেছে পুঁজি হিসেবে বিদেশি বিনিয়োগ। অর্থাৎ, মোট বিনিয়োগের ৮৮ দশমিক ১ শতাংশই এসেছে দেশে বিদেশি কোম্পানিগুলোর অর্জিত মুনাফা ও মূলধন থেকে।

এতে বলা হয়, মোট বিনিয়োগের মধ্যে অঞ্চলভেদে সবচেয়ে বেশি এসেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো থেকে ২৯ দশমিক ২ শতাংশ। আসিয়ান দেশগুলো থেকে এসেছে প্রায় ১৩, ইসলামিক দেশগুলো থেকে ১২, সার্ক দেশগুলো থেকে সাড়ে ৪ দশমিক ৫, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে ১ দশমিক ২ এবং এশিয়ার দেশগুলো থেকে সাড়ে ১৭ শতাংশ।

দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে সাড়ে ১৮ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১১ দশমিক ৭, নরওয়ে থেকে ৮ দশমিক ৭, সিঙ্গাপুর থেকে ৮ দশমিক ৪, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৮, নেদারল্যান্ডস থেকে ৬ দশমিক ৭, হংকং থেকে ৬, ভারত থেকে ৫ দশমিক ২, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৩ দশমিক ৬, চীন থেকে ৩ দশমিক ৪, থাইল্যান্ড থেকে ২ দশমিক ৬, জাপান থেকে আড়াই, তাইওয়ান থেকে ২, সুইজারল্যান্ড থেকে ১ দশমিক ৯ এবং মালয়েশিয়া থেকে ১ দশমিক ৯ শতাংশ বিনিয়োগ এসেছে।

মোট বিনিয়োগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছে টেলিযোগাযোগ খাতে ২৪ দশমিক ৭ শতাংশ, গ্যাস ও পেট্রোলিয়াম খাতে প্রায় ১৮, বিদ্যুৎ খাতে ১২ দশমিক ৭, বস্ত্র খাতে সাড়ে ১০, ব্যাংকিং খাতে ৮ দশমিক ২, খাদ্যপণ্য খাতে ৪ দশমিক ৬, বাণিজ্যে ৩, নির্মাণে ২ দশমিক ৩, তথ্যপ্রযুক্তিতে ১ দশমিক ৮, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় ১ দশমিক ৬ এবং অন্যান্য খাতে ১২ দশমিক ৭ শতাংশ।

এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অপর এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরেও এফডিআই কমেছে। গত বছরের ওই সময়ে এফডিআই এসেছিল ১৭ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে এসেছে ৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আলোচ্য সময়ে বিনিয়োগ কমেছে ১০ কোটি ২০ লাখ ডলার।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন