চট্টগ্রামে ফের বেপরোয়া কিশোর গ্যাং

ছিনতাই, চাঁদাবাজি, জমি দখল, খুনসহ নানা অপকর্মে জড়িত
 আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম 
২৮ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং। নগরীতে এক সপ্তাহে এ চক্রের সদস্যরা দুটি অঘটন ঘটিয়েছে।

আকবর শাহ থানা ১ নম্বর ঝিল এলাকার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ১৮ মামলার আসামি নুরে আলম প্রকাশ নুরুকে শনিবার বিকালে গ্রেফতারে থানা ও নগর গোয়েন্দা পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। অভিযানের শেষদিকে নুরে আলমের সহযোগীরা পুলিশের ওপর হামলা করে।

পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে নুরু ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়। পুলিশের ওপর এই হামলায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা অংশ নেয় বলে জানা গেছে।

একইভাবে ২১ ডিসেম্বর কিশোর গ্যাং চক্র পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকার শাহ আমানত কলোনিতে রামদা ও লাঠিসোটা নিয়ে জায়গা দখল করতে যায়। এ সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের তাড়া খেয়ে পালিয়ে যায় চক্রের সদস্যরা।

পুলিশ বলছে, দুই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বয়স বিবেচনায় নয়; অপরাধ বিবেচনায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর রোববার দুপুরে যুগান্তরকে বলেন, ‘দুটি ঘটনাকে আমরা গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি। আকবর শাহ এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় কারা কারা জড়িত ছিল, তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার পাড়ায় পাড়ায় চলছে কিশোর অপরাধীদের দাপট। খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ প্রায় সব ধরনের অপরাধেই জড়িয়ে পড়ছে তারা। তাদের নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ। এসব অপরাধীর অনেকে আবার মাদকাসক্ত। অস্ত্র ও মাদক ব্যবসাতেও আছে তাদের পদচারণা।

নগরীতে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত বেশ কয়েকটি খুন, ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ ঘটনায় যারা আটক হয়েছে তদের বেশির ভাগই উঠতি বয়সী। অস্ত্র, ইয়াবাসহ ধরা পড়ছে কিশোর ও যুবকরা।

হামজারবাগে ফিল্মিস্টাইলে জায়গা দখলে যাওয়ার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ৩০-৪০ জনের কিশোর গ্যাং হাতে ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোটা ও রড নিয়ে শাহ আমানত আবাসিকের গেট দিয়ে মিছিল নিয়ে প্রবেশ করে। রীনা আক্তার নামে এক নারীর মালিকানাধীন জমির ওপর থাকা সাইনবোর্ডে রামদা দিয়ে কোপাতে থাকে তারা।

আশপাশের ভবনের টিনের সীমানা প্রাচীরেও আঘাত করতে দেখা গেছে তাদের। আবার ওই জমির পাশে থাকা কেয়ারটেকারের ঘরের দিকেও কয়েকজনকে জমায়েত হতে দেখা গেছে। কয়েক মিনিট অবস্থান নিয়ে তারা বেরিয়ে আসে। এ সময় তারা কেয়ারটেকার হোসনে আরা বেগম ও তার ছেলে ইকবাল হোসেনকে মারধর করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

নগরীতে ছিনতাইয়ের কবলে পড়েছেন এমন কয়েক ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, যারা তাদের টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিয়েছে তাদের বেশির ভাগের বয়স ১৪ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে।

সন্ধ্যার পর নগরীর স্টেশন রোড, বিআরটিসি মোড়, কদমতলী, চকবাজার, মেডিকেল হোস্টেল, শিল্পকলা একাডেমি, সিআরবি, খুলশী, ফয়’স লেক, ডেবারপার, চান্দগাঁও শমসেরপাড়া, ফরিদের পাড়া, আগ্রাবাদ সিজিএস কলোনি, সিডিএ, ছোটপুল, হালিশহর, বন্দর কলোনি ও পতেঙ্গার বেশ কয়েকটি এলাকায় মাদক বেচাকেনা, মোটরসাইকেল ও সাইকেল ছিনতাই করছে তারা। গান-বাজনা, খেলার মাঠ, ডান্স ও ডিজে পার্টি, বিভিন্ন ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে চায় কিশোর গ্যাং।

২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র আদনানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। পরে পুলিশ গ্রেফতারে অভিযান শুরু করলে নগরীতে কিছুটা কমে যায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য। সাম্প্রতিক সময়ে আবার বেড়েছে তাদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড।

গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে ও ১১ সেপ্টেম্বর অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের ১৬ সদস্যকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন