নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ফেল করা প্রার্থীকে খাতা ‘টেম্পারিংয়ে’ শিক্ষক নিয়োগ!

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।

লিখিত পরীক্ষায় প্রাপ্ত কম নম্বর কাটাছেঁড়া করে (টেম্পারিং) এবং নম্বর বাড়িয়ে এএসএম শরিফুর রহমানকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অপরদিকে লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার পরও ড. নাহিদ সুলতানাকে মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হয়নি।

এমনকি তার প্রাপ্ত নম্বর কাটাছেঁড়া করে (টেম্পারিং) তাকে ফেল দেখানো হয়েছে। নিয়োগবঞ্চিত ড. নাহিদ সুলতানার অভিযোগ, তৎকালীন উপাচার্য এম অহিদুজ্জামানের পছন্দের প্রার্থী হওয়ায় শরিফুর রহমান লিখিত পরীক্ষায় ফেল করলেও নম্বর কাটাছেঁড়া করে তার নম্বর বাড়িয়ে দেয়া হয়।

অপরদিকে তার (নাহিদ) নম্বর কাটাছেঁড়া করে (টেম্পারিং) নম্বর কম দেখানো হয় এবং ফেল করানো হয়। লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার পরও তাকে মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হয়নি। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) তথ্য প্রমাণ দাখিল করেছি।

এ ব্যাপারে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক শরিফুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি পরীক্ষা দিয়েছি এবং নিয়োগ পেয়েছি।’

জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রাণিবিদ্যা বিভাগে একজন সহকারী অধ্যাপক ও দু’জন প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সহকারী অধ্যাপক পদে ১৪ জন এবং প্রভাষক পদে ৭৫ জন প্রার্থী আবেদন করেন। লিখিত পরীক্ষায় ২৫ নম্বরের মধ্যে ১২ নম্বর পান ড. নাহিদ সুলতানা। অপরদিকে শরিফুর রহমান ৬ নম্বর পান। শরিফুর রহমানের প্রাপ্ত নম্বর ৬ কাটাছেঁড়া করে ১০ দেখানো হয়। অপরদিকে, নাহিদ সুলতানার প্রাপ্ত নম্বর ১০ কাটাছেঁড়া করে সাড়ে ৭ দেখানো হয়।

এদিকে, সাবেক উপাচার্য এম অহিদুজ্জামানের দুর্নীতি ও অনিয়ম তদন্তে ৩০ সেপ্টেম্বর ইউজিসি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ২০১৫ সালের জুন থেকে ২০১৯ সালের মে পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, পদোন্নতি, আপগ্রেডেশনসহ প্রশাসনিক ও আর্থিক নীতিমালা ভঙ্গ, অসঙ্গতি হয়ে থাকলে তদন্ত কমিটির কাছে তথ্য-প্রমাণ জমা দেয়ার আহ্বান জানানো হয়। এতে কারও প্রতি কোনো অবিচার বা কেউ বঞ্চিত হয়ে থাকলে কমিটির কাছে তথ্য দিতে বলা হয়। এ কমিটির কাছেও ড. নাহিদ সুলতানা তথ্য-প্রমাণ পাঠিয়েছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত প্রার্থনা করেছে তিনি।

এ বিষয়ে ইউজিসির পরিচালক (সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) কামাল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ড. নাহিদ সুলতানার অভিযোগের বিষয়টি ইউজিসি তদন্ত করে দেখছে। এর আগে সাবেক উপাচার্য এম অহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে একই ধরনের আরেক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই কমিটিকে কাজ করতে দেয়া হয়নি। সরেজমিন তদন্তে গেলে কমিটির সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ড. নাহিদ সুলতানা বলেন, সাবেক ভিসি অহিদুজ্জামানের তৎকালীন প্রটোকল অফিসার আইয়ুব আলীর কাছ থেকে তথ্য জানতে পারি- লিখিত পরীক্ষায় আমি ভালো নম্বর পাই এবং প্রথম স্থান অর্জন করি। কিন্তু নম্বর কাটাকাটি করে তাকে ফেল করানো হয়েছে। এরপরই তিনি তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহে নামেন।

এ বিষয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রটোকল অফিসার এবং বর্তমান সহকারী রেজিস্ট্রার আইয়ুব আলী যুগান্তরকে বলেন, খাতা টেম্পারিংয়ের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর নাহিদ সুলতানার সঙ্গে আমার কথা হয়। আগে খাতা টেম্পারিংয়ের বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। অবশ্য খাতা টেম্পারিং হয়েছে এটা এখন সবাই জানেন, সবাই অবগত আছেন।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এম অহিদুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, নাহিদ সুলতানা প্রভাষক পদে আবেদন করেছেন। অপরদিকে শরিফুর রহমান সহকারী অধ্যাপক পদে আবেদন করেছেন। তাদের দু’জনের পদই তো আলাদা।

তিনি আরও বলেন, ওই প্রার্থীর (নাহিদ) বিরুদ্ধে একাডেমিক পানিশমেন্ট দাবি করে আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কাছে চিঠি দিয়েছি। উল্লেখ্য, নাহিদ সুলতানা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন