তিন বছরের মধ্যে ভারতের সঙ্গে প্রথম চাল নিয়ে চুক্তি

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভারত থেকে দেড় লাখ টন চাল আমদানি করবে বাংলাদেশ। এজন্য একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি চূড়ান্ত করেছে দু’দেশ। স্থানীয় বাজারে দাম রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ সরকার চাল আমদানির জন্য তিন বছরের মধ্যে প্রথম কোনো দেশের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি করল। খবর রয়টার্স। 

ভারত বিশ্বের অন্যতম চাল রফতানিকারক দেশ। বাম্পার ফলনের পর উদ্বৃত্ত চাল থেকে রফতানির জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের চেয়ে বেশি ছাড় দিচ্ছে দেশটি।

ভারতের জাতীয় কৃষি সমবায় বিপণন ফেডারেশন বা এনএএফইডির এক মুখপাত্র জানান, আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করছি। বাংলাদেশে পাঁচ লাখ টন চাল সরবরাহ করার মতো অবস্থান রয়েছে আমাদের। 

বাংলাদেশের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, তারা জিটুজি চুক্তির আওতায় ১ লাখ টন সিদ্ধ এবং ৫০ হাজার টন সাদা চাল কিনতে পারেন।

ভারত সরকারের এক সূত্র জানিয়েছে, দেশটি প্রতি টন সিদ্ধ চাল ৪০৭ ডলার এবং সাদা চাল ৪১৭ ডলারে বিক্রি করছে। থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনামের তুলনায় এই দাম সস্তা বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

বাংলাদেশের খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ভারতীয় চালের দাম পড়বে প্রতি কেজি ৩৩ থেকে ৩৫ টাকা।

ভারতের একজন কর্মকর্তা জানান, চালের পুরো চালানটি ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া বন্দর দিয়ে আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকে বাংলাদেশে যাবে।

তবে ভারত ও বাংলাদেশের বাণিজ্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। 

বন্যা বা খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ মাঝে মাঝে চাল আমদানি করে। বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ চাল উৎপাদক। দেশটি বছরে গড়ে ৩ কোটি ৫০ লাখ টন চাল উৎপাদন করে।

বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ স্থানীয় সরবরাহ বাড়াতে গত নভেম্বরে তিন বছরের মধ্যে প্রথম চাল ক্রয়ের টেন্ডার জারি করে। আগামী জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ পাঁচ লাখ টন চাল আমদানি করতে পারে।

ইন্ডিয়ান রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বি ভি কৃষ্ণ রাও বলেন, দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলো ভারতের চাল রফতানিকে ত্বরান্বিত করবে। রফতানির জন্য পর্যাপ্ত উদ্বৃত্ত থাকায় সরকারের এ ধরনের আরও চুক্তি করার চেষ্টা করা উচিত।

বাংলাদেশের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আরও বলেন, সরকার আমদানি করেই মজুদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতে চালের দাম সবচেয়ে কম। বাজার নিয়ন্ত্রণে না এলে বেসরকারি আমদানি উৎসাহিত করতে কর কমানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন