শিল্পপতি এমএ হাসেমের দাফন আজ

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য এমএ হাসেমের জানাজা আজ বাদ জুমা গুলশান আজাদ মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

পারটেক্স গ্রুপ থেকে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে। দেশের প্রথম সারির এ শিল্পোদ্যোক্তা করোনায় আক্রান্ত হয়ে বুধবার রাত ১টা ২০ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

এমএ হাসেমের ছেলে শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘কোভিড পরিস্থিতির কারণে আমরা জানাজার বিষয়ে বিশেষ কিছু বলছি না। ওনাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

করোনা পজিটিভ হওয়ার পর ১১ ডিসেম্বর এমএ হাসেমকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৬ ডিসেম্বর অক্সিজেন স্যাচুরেশন ১০০-এর নিচে নেমে গেলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়।

এমএ হাসেমের মৃত্যুতে বিভিন্ন সংগঠন, ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীরা শোক জানিয়েছেন। শোক জানিয়েছেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।

বাংলাদেশ টেক্সটাইলস মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন এক শোকবার্তায় বলেন, এমএ হাসেম দেশে শিল্পায়ন, বেসরকারি ব্যাংক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটি শোকবার্তায় জানায়, তার মৃত্যু এনএসইউ পরিবারের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

এমএ হাসেম ১৯৪৩ সালের ৩০ আগস্ট নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬২ সালে তামাকের ব্যবসা দিয়ে ব্যবসাজগতে পা রাখেন। সত্তরের দশকের গোড়ার দিকে তিনি মেসার্স হাসেম কর্পোরেশন প্রাইভেট লি. প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

এর প্রধান কার্যালয় ছিল বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি আয়রন, ইস্পাত, সিমেন্ট, চিনি, চাল, মসলা, গম, লবণ, দুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে যুক্ত হন।

একপর্যায়ে আমদানি করা এসব পণ্য উৎপাদন শুরু করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে জন্ম নেয় পারটেক্স গ্রুপ। বর্তমানে পারটেক্স গ্রুপ আসবাবপত্র, বোর্ড, খাদ্য ও পানীয়, প্লাস্টিক, কাগজ, তুলা, সুতা, পাট, রিয়েল এস্টেট, টেক্সটাইল, শিপিং, এগ্রো, গার্মেন্টস, এরোমারাইন লজিস্টিকস ব্যবসায় জড়িত। এ গ্রুপের ৬০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এমএ হাসেম বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যাংক ও বীমা সংস্থাগুলোর পথিকৃৎ। তিনি দেশের দুটি বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংক সিটি ব্যাংক লিমিটেড ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। তিনি জনতা বীমা লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন।

পরোপকারী ও বিদ্যোৎসাহী হিসেবেও এমএ হাসেমের সুনাম রয়েছে। নিজ শহর নোয়াখালীতে তিনি স্কুল ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন।

নোয়াখালীর এমএ হাসেম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রতিষ্ঠাতা এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তিনি। ছিলেন ইবাইস ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্যও। 

২০০১ সালে নোয়াখালী-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এমএ হাসেম। পরে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেফতার হন। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ২০০৮ সালে তিনি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন।

মৃত্যুকালে এমএ হাসেম স্ত্রী সুলতানা হাসেম, পাঁচ পুত্র-আজিজ আল কায়সার টিটো, আজিজ আল মাহমুদ, আজিজ আল মাসুদ, রুবেল আজিজ ও শওকত আজিজ রাসেলকে রেখে গেছেন।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন