করোনায় অভিভাবক হারানো শিল্পপরিবার

স্বপ্নদ্রষ্টাদের দেখানো পথেই এগিয়ে যাচ্ছেন তারা

 মনির হোসেন ও সাদ্দাম হোসেন ইমরান 
২৯ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্বপ্ন দেখছিলেন দেশের সমৃদ্ধি নিয়ে। চিন্তাচেতনার পুরোটাই ছিল মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি। আর সেই স্বপ্ন বিনির্মাণে নিয়েছিলেন বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা। মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য একে একে গড়ে তুলেছেন অসংখ্য শ্রমঘন শিল্পপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু বিশ্বকে তছনছ করে দেয়া করোনা নামের প্রলয়ংকরী ভাইরাসের আক্রমণে না-ফেরার দেশে পারি জমান, আজীবন সংগ্রামী সেই মানুষগুলো। হ্যাঁ, করোনায় মারা যাওয়া সময়ের সাহসী সন্তান সেই বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কথা বলছি।

মোটা দাগে করোনায় ও করোনাকালে মারা যাওয়া ২০ জন উদ্যোক্তার তথ্য পাওয়া গেছে। ওইসব পরিবারের সদস্যদের ক্ষতবিক্ষত করেছে অভিভাবক হারানোর বেদনা। কিন্তু তাদের কেউ থমকে দাঁড়াননি। তারা বলছেন, এমন এক কঠিন রোগে জাতির সূর্যসন্তানরা প্রাণ হারিয়েছেন, যখন সরকারি নির্দেশের কারণে পরিবারের সদস্যরা দাফনেও অংশ নিতে পারেননি। এই বেদনা তাদের আজীবন দগ্ধ করবে।

শোককে সাহস ও শক্তিতে রূপান্তর করে প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে নিয়ে চলেছেন উদ্যোক্তাদের দেখানো পথেই। তবে কোথাও এর ছন্দপতন হয়েছে। এখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি, দুই-চারটি পরিবার।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুসারে দেশের অর্থনীতিতে ৮০ ভাগ অবদান বেসরকারি খাতের। বিশেষ করে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানে সিংহভাগই অবদান এ খাতের। সফল শিল্প আইকন উদ্যোক্তাদের চলে যাওয়া দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তবুও জীবন থেমে নেই।এগিয়ে চলছে তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো।

করোনায় আক্রান্ত ও করোনাকালে মারা যাওয়া উদ্যোক্তাদের মধ্যে আছেন যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম, পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান সাবেক সংসদ সদস্য এমএ হাসেম, ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান, আবদুল মোনেম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল মোনেম, এস আলম গ্রুপের পরিচালক মোরশেদুল আলম, ব্যবসায়ী ও নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম, এপেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান সৈয়দ মঞ্জুর এলাহীর স্ত্রী নিলুফার মঞ্জুর, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক আব্দুল হান্নান সেলিম, ব্যবসায়ী ও ঢাকার এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লা, খুলনা ক্লাবের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী আহমেদ হাসান চুন্নু, সিলেটের সুরমা টি-স্টেট ও কেএস ব্রোকার লিমিটেডের পরিচালক আফসার মঈন, গার্মেন্ট ব্যবসায়ী মো. আব্দুল মতিন শেখ, কক্সবাজারের অন্যতম পর্যটন ব্যবসায়ী আবু সায়েম ডালিম, সিলেটের আরএল ইলেকট্রনিক্সের স্বত্বাধিকারী ইকবাল হোসেন খোকা, চট্টগ্রামের রিয়েল লজিস্টিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ বরণ চৌধুরী, খুলনার আকাঙ্খা গ্রুপের চেয়ারম্যান শেখ মজনু, চট্টগ্রামের কেএন হারবার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান মাহমুদ চৌধুরী, রাজশাহীর ব্যবসায়ী মুনসুর রহমান ও শহীদুল্লাহ শেলু।

দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পপরিবার যমুনা গ্রুপ। গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা আপসহীন যোদ্ধা নুরুল ইসলাম। একজীবনে দেশের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়ে গেছেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। একে একে ৪১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে অর্ধলক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন সফল এই স্বপ্নসারথি। চলতি বছরের ১৩ জুলাই রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মারা যান আজীবন সংগ্রামী মানুষটি।

তার মৃত্যুর পর গ্রুপের হাল ধরেন তার সহধর্মিণী সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, তিনবারের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার তার। আইন পেশায় রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। আগেই গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। বর্তমানে তিনি চেয়ারম্যান। এছাড়া এক ছেলে ও তিন মেয়েও আগে থেকে গ্রুপের পরিচালক হিসেবে রয়েছেন। তাদের সঙ্গে নিয়ে নুরুল ইসলামের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে চলেছেন সালমা ইসলাম।

জানতে চাইলে যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান সালমা ইসলাম এমপি যুগান্তরকে বলেন, নুরুল ইসলাম তার জীবদ্দশায় সব সময় স্বপ্ন দেখতেন কীভাবে দেশের উন্নয়ন করা যায়, কীভাবে আরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান করা যায়-সেই কথা ভাবতেন। ব্যবসার শুরুতে তিনি ছেলে-মেয়েদের সময় দিতে পারতেন না। সব সময় ব্যবসার কাজে বাইরে ব্যস্ত থাকতেন। আমাকে বাচ্চাদের পড়াশোনার দিকে খেয়াল রাখতে বলতেন। আমি এক ছেলে, তিন মেয়ের পড়াশোনার দায়িত্ব পালন করেছি। সব সময় পাশে থেকে তাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছি। ছেলে শামীম ইসলাম ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ থেকে পাস করে লন্ডনে এমবিএ করেছে। বড় মেয়ে সারিয়াত তাসরীন ডাক্তারি পাস করেছে। মেজো মেয়ে মনিকা ইসলাম অস্ট্রেলিয়া থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং ও ছোট মেয়ে রোজালিন ইসলাম অস্ট্রেলিয়া থেকে আইটিতে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছে। ওদের সেখানে লেকচারার হওয়ার অফার ছিল। কিন্তু বাবার কথা মেনে তারা দেশে ফিরে আসে এবং ব্যবসা পরিচালনায় যুক্ত হয়। বেঁচে থাকাবস্থায় তিনি ছেলে-মেয়েদের হাতে-কলমে ব্যবসা শিখিয়ে গেছেন। কারখানা কীভাবে চালাতে হয়, তার ট্রেনিং দিয়েছেন। কোথাও কোনো সমস্যা হলে দুপুরের খাবারের সময় সেগুলো নিয়ে আলোচনা করতেন। সালমা ইসলাম আরও বলেন, তিনি (নুরুল ইসলাম) সব ছেলে-মেয়েকে আলাদা আলাদা শিল্পের দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছিলেন। এখন ছেলে-মেয়েরা তার না থাকার কষ্ট বুকে নিয়ে বাবার দেখানো আদর্শ ধারণ করে সেসব দায়িত্ব পালন করছে। করোনার কারণে ব্যবসায় কিছুটা প্রভাব পড়লেও এখন তা কাটিয়ে উঠেছে যমুনা গ্রুপ। আমরা দেশবাসীর কাছে যমুনা গ্রুপের পক্ষ থেকে দোয়া ও সমর্থন চাই, যেন তার অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে পারি। অনেক কারখানার কাজ তিনি শেষ করে যেতে পারেননি। সেগুলোর কাজ চলছে। আমরা যেন তার দেখানো পথে এগোতে পারি। দেশ ও মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করতে পারি। তিনি আরও বলেন, আমি মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করি। প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছি। এখনও সংসদ সদস্য। তারপরও যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়ে কাজ করছি। এর পাশাপাশি যমুনা গ্রুপের মিডিয়া দৈনিক যুগান্তরের প্রকাশকের দায়িত্ব পালন করছি। যমুনা টেলিভিশনও মানুষের কল্যাণে কাজ করছে। স্বপ্নদ্রষ্টা নুরুল ইসলাম চলে গেছেন; কিন্তু তার আত্মা যেন শান্তিতে থাকে, সেজন্য মানুষের কল্যাণে কাজ করছি।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২৩ ডিসেম্বর প্রাণ হারান পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান সাবেক সংসদ সদস্য এমএ হাসেম। তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি স্ত্রী সুলতানা হাসেম এবং পাঁচ ছেলে আজিজ আল কায়সার, আজিজ আল মাহমুদ, আজিজ আল মাসুদ, রুবেল আজিজ এবং শওকত আজিজ রাসেলসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। এমএ হাসেম ১৯৪৩ সালের ৩০ আগস্ট নোয়াখালীতে জন্ম নেন। ১৯৬২ সালে তামাক ব্যবসার মাধ্যমে তার ব্যবসায়ী জীবনের সূচনা। পরবর্তীতে তিনি উৎপাদন ও পরিষেবা বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, যেমন ফার্নিচার, বোর্ড, খাদ্য ও পানীয়, প্লাস্টিক, কাগজ, তুলা, সুতা, বিস্কুট, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, পাট, রিয়েল এস্টেট, টেক্সটাইল, শিপিং, অ্যাগ্রো, গার্মেন্টস, এরোমেরিন লজিস্টিকসসহ ব্যাংক, বীমা, ইন্স্যুরেন্স, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসা ইত্যাদি গড়ে তোলেন। তিনি দেশের দুটি বেসরকারি ব্যাংক-সিটি ব্যাংক ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়াও জনতা ইন্স্যুরেন্স প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি নোয়াখালীর এমএ হাসেম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা এবং নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। ব্যবসার পাশাপাশি রাজনীতিতেও যুক্ত ছিলেন এমএ হাসেম। ২০০১ সালে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ আসনে জাতীয়তাবাদী দল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। তার মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যরা ব্যবসার হাল ধরেছেন। আগে থেকেই তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

জানতে চাইলে এপেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসির মঞ্জুর যুগান্তরকে বলেন, এ বছর আমরা এতগুলো সফল মানুষকে হারালাম, যারা পুরো বাংলাদেশের জন্য রোল মডেল। চিরদিন এরা দৃষ্টান্ত হিসেবে থাকবেন। ওনাদের চলে যাওয়ায় জাতি হিসেবে এ ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা আমাদের জন্য কঠিন। তিনি বলেন, আমার মা করোনায় মারা গেছেন। মায়ের চলে যাওয়া আমাদেরকে মানিয়ে নিতে হয়েছে। কারণ আমাদের কারও কিছু করার নেই। তবে মা হারানোর অনুভূতি পৃথিবীর কারও পক্ষে বলে বোঝানো সম্ভব নয়। আমাদের এখনও বিশ্বাস হয় না। সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হল, ওনাকে বিদায় দেয়ার সময় কেউ আমরা পাশে দাঁড়াতে পারলাম না। দাফনের সময়ও কাছে যাওয়া যায়নি। এ কষ্ট চিরদিন বয়ে বেড়াতে হবে।

অন্যতম শিল্প উদ্যোক্তা আবদুল মোনেম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল মোনেম ৩১ মে মারা যান। নিজের নামেই গ্রুপটি ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এখানে ১০ হাজারের বেশি লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়কসহ দেশের বেশ কয়েকটি মহাসড়ক এই গ্রুপের হাতে তৈরি। এছাড়াও খাদ্য, পানীয়, ওষুধ এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ নানা খাতে ব্যবসা আছে। তাদের পণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-ইগলু আইসক্রিম, কোক-পেপসি এবং ইগলু চিনি। দুই ছেলে এএসএম মাইনুদ্দিন মোনেম ও এএসএম মহিউদ্দিন মোনেম গ্রুপের পরিচালক। আবদুল মোনেমের মৃত্যুর পর ব্যবসার হাল ধরেছেন স্ত্রী মেহেরুননেসা। ব্যবসা এগিয়ে চলছে আগের মতো।

শিল্পের আরেক আইকন প্রতিষ্ঠান ট্রান্সকম গ্রুপ। সরাসরি করোনায় না হলেও করোনাকালে মারা গেছেন এই গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত গ্রুপটির রয়েছে ইলেকট্রনিক পণ্য, ওষুধ, বেভারেজ, চা শিল্প এবং দুটি গণমাধ্যম। বর্তমানে গ্রুপের হাল ধরেছেন তার স্ত্রী শাহনাজ রহমান। এ ছাড়াও পরিচালক হিসেবে রয়েছেন তাদের কন্যা সিমিন রহমান।

সিলেটে বিপাকে ব্যবসায়ী পরিবার : লকডাউন চলাকালে সিলেটে চারটি হাসপাতাল ঘুরে কোনো চিকিৎসা না পেয়ে গত ৫ জুন মারা যান ব্যবসায়ী হাজী ইকবাল হোসেন (খোকা)। তিনি সিলেট নগরীর কুমারপাড়ার বাসিন্দা। বন্দরবাজারের আরএল ও ন্যাশনাল ইলেকট্রনিক্সের স্বত্বাধিকারী তিনি। তার মৃত্যুর পর চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে পরিবার। থমকে গেছে ছেলেদের লেখাপড়া। এ অবস্থায় চেপে বসেছে ব্যাংক ঋণের বোঝা। ওই ব্যবসায়ীর বড় ছেলে নাসিফ লতিফ হোসেন বলেন, বাবার মৃত্যুর পর সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে। বড় চাচা বিদেশে থাকেন। ছোট চাচা জাকির হোসেন ও আমি ব্যবসা দেখাশোনা করছি। এমনিতেই করোনায় সারা দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা চলছে। বাবা মৃত্যুর আগে ব্যবসার জন্য ব্র্যাক ব্যাংকের জিন্দাবাজার শাখা থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। আগে কিছুটা পরিশোধ করলেও এখনও অনেক টাকা বাকি। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ঋণ পরিশোধের জন্য চাপ দিচ্ছে।

খুলনা : করোনায় ১৯ জুলাই মারা যান খুলনার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শেখ মজনু। দেশের স্বনামধন্য আকাঙ্খা গ্রুপের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। মৃত্যকালে স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে যান। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহবুব ব্রাদার্স লিমিটেড, আকাঙ্খা ডেভেলপমেন্ট, রাইস মিল, ময়দার মিল, রেডি মিক্স ফ্যাক্টরিসহ চাল, ডাল এবং কয়লা আমদানি তার অন্যতম ব্যবসা। মৃত্যুর পর তার বড় ছেলে শেখ মোস্তাফিজুর রহমান মনির আকাঙ্খা গ্রুপের চেয়ারম্যনের দায়িত্ব নিয়েছেন। মেজো ছেলে শেখ মাহবুবুর রহমান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কর্মরত। ছোট ছেলে শেখ মুশফিক রেশান লেখাপড়া করছেন। মেয়ে মিন্নী সুলতানা মুনিয়া ও রিফা তামান্না তানিয়া বিবাহিত।

রাজশাহী : করোনাকালে রাজশাহীর ব্যবসায়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুনসুর রহমান ও শহীদুল্লাহ শেলু মারা যান। মুনসুর রহমানের বাড়ি পবা উপজেলার নওহাটায়। নওহাটা জুটমিল নামে তার একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান আছে। ৬ বছর আগে তিনি প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। এতে প্রায় এক হাজার শ্রমিক কাজ করেন। এখনও আগের মতোই চলছে প্রতিষ্ঠানটি। দুই ছেলে সনি (২৬) ও অনি (২৩)। সনি বাবার শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ ঠিকাদারি কাজ দেখভাল করছেন। ১৪ অক্টোবর মারা যান আরেক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শহীদুল্লাহ শেলু। শেলুর চার সন্তান। তারা হলেন রেজওয়ানা আফরোজ (৩৬), ফারজানা আফরোজ (৩৩), ফাইজা আফরোজ (২৮) ও ওয়াহেদুল ইসলাম সিয়াম (২৭)। তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলে সিয়াম অবিবাহিত। তিনি বাবার অবর্তমানে ব্যবসার হাল ধরেছেন। সিয়াম বলেন, আমার বাবা কলেজজীবনে ব্যবসা শুরু করেন। তিনি অত্যন্ত সৎ ব্যবসায়ী হিসেবে রাজশাহী অঞ্চলে সুপরিচিত।

চট্টগ্রাম : করোনায় মারা যান এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোরশেদুল আলম। তার পরিবারের সদস্যরা গ্রুপের হাল ধরেছেন। অপরদিকে করোনার ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে চট্টগ্রামের আরেক ব্যবসায়ী হাসান মাহমুদ চৌধুরীর পরিবার। বাপেক্স, পেট্রোবাংলা, শেভরণসহ জ্বালানিভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে কাজ করত তার প্রতিষ্ঠান। শিপিং লাইন স্টিভিডোরিং, ট্রান্সপোর্ট ও সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসাও ছিল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ মানুষটিকে হারানোর পর পরিবারটিতে ছন্দপতন ঘটেছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন তিনি। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হাল ধরতে এগিয়ে এসেছেন তার ছেলে ও মেয়ে। এক ভাই হানিফ মাহমুদ চৌধুরী দোলন আগে থেকেই হাসান মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন। লন্ডন থেকে বার এট ল’ করা হাসান মাহমুদ চৌধুরীর মেয়ে সুমাইয়া নুর চৌধুরী ও অস্ট্রেলিয়া থেকে এমবিএ করা ছেলে জোবায়ের হাসান চৌধুরী কেএন হারবারের পরিচালক হয়েছেন। আরেক ছেলে আলিফ হাসান চৌধুরী অস্ট্রেলিয়ায় লেখাপড়া করছেন। এক ছেলে চট্টগ্রামে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক একটি স্কুলে লেখাপড়া করছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন