পাপুল পরিবারের ৬১৭ হিসাব ফ্রিজের আদেশ

আদেশ দেয়া হয়েছে সম্পত্তি জব্দেরও * স্ত্রী ও মেয়ের জামিন * পৃথক মামলায় ছয়জনের ৫৩ হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ
 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৮ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল, তার স্ত্রী সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিন প্রধানের ৬১৭টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের (ফ্রিজ) আদেশ দিয়েছেন আদালত।

অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় রোববার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত এ আদেশ দেন।

বিচারক কেএম ইমরুল কায়েশ একই সঙ্গে পাপুলের দুটি ফ্ল্যাটসহ ৯২টি তফসিলভুক্ত সম্পদ জব্দেরও আদেশ দেন। তবে আদালত এদিন সেলিনা ইসলাম ও ওয়াফা ইসলামের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

এছাড়া এদিন পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) করা অর্থ পাচার মামলায় পাপুলসহ ছয়জনের ৫৩টি ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ দিয়েছেন একই আদালত।

দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর এবং ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল যুগান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। শুনানিতে দুদকের পক্ষে আরও ছিলেন আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

মাহমুদ হোসেন বলেন, তদন্তের স্বার্থে এমপি পাপুল এবং তার পরিবারের সদস্যদের ৬১৭টি ব্যাংক হিসাব জব্দের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন। এর মধ্যে এমপি পাপুলের ১৪৮টি, স্ত্রী সেলিনা ইসলামের ৩৪৫টি, মেয়ে ওয়াফা ইসলামের ৭৬টি এবং শ্যালিকা জেসমিন প্রধানের ব্যাংক হিসাব রয়েছে ৪৮টি। একই সঙ্গে গুলশানে পাপুলের দুটি ফ্ল্যাটসহ ৯২টি সম্পদ জব্দের আদেশ চেয়ে আদালতে আবেদন করেন উপপরিচালক। শুনানি নিয়ে আদালত ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ ও সম্পদ ক্রোকের আদেশ দেন।

তাপস কুমার বলেন, পল্টন থানায় করা অর্থ পাচার আইনের মামলায় এমপি পাপুলসহ ছয়জনের ৫৩টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের আদেশ চেয়ে আদালতে আবেদন করেন সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন। আবেদনে বলা হয়, এসব হিসাবে (এফডিআরসহ) মোট ৩৫৫ কোটি ৮৬ লাখ ২৯ হাজার ৬৭০ টাকা পাওয়া গেছে। এসব টাকার প্রধান উৎস মানব পাচার। আদালত শুনানি নিয়ে এসব ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের নির্দেশ দেন।

২২ ডিসেম্বর ওই ছয়জনের নামে মামলা করে সিআইডি। আসামিরা হলেন : সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম, ভাই কাজী বদরুল আলম, শ্যালিকা জেসমিন প্রধান, ব্যক্তিগত কর্মচারী মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান এবং জব ব্যাংক ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা।

এছাড়া জব ব্যাংক ইন্টারন্যাশনাল (মালিক বদরুল আলম) এবং জেডব্লিউ লীলাবলী প্রতিষ্ঠানকেও (মালিক জেসমিন প্রধান) আসামির তালিকায় রাখা হয়।

মাহমুদ হোসেন আরও জানান, পরে বিকাল ৩টার দিকে সেলিনা ইসলাম ও ওয়াফা ইসলাম আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আমরা (মোশাররফ হোসেন ও মাহমুদ হোসেন) জামিনের বিরোধিতা করি। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আসামিদের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন।

সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ১১ নভেম্বর মামলা করে দুদক। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৩১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ১৪৮ কোটি টাকার অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়। এজাহারে বলা হয়, পাপুল, সেলিনা, জেসমিন ও ওয়াফার পাঁচটি হিসাবের মাধ্যমে ২০১২ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ১৪৮ কোটি টাকা পাচার হয়। জেসমিন ও ওয়াফার বৈধ কোনো আয়ের উৎস নেই।

জেসমিন এফডিআর হিসাবে ২ কোটি ৩১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৮ টাকা দেখিয়েছেন। কিন্তু তার কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি। এ মামলায় ২২ ডিসেম্বর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে আসামিদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।

সিআইডির মামলার এজাহারে বলা হয়, মানব পাচার করে প্রত্যেকের কাছ থেকে পাঁচ-সাত লাখ টাকা করে হাতিয়ে নিতেন আসামিরা। গত চার বছরে আসামিরা দুই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কুয়েতে মানব পাচার করে সোয়া ৩৮ কোটি টাকা পাচার করেছেন।

কুয়েত সিটির বাসা থেকে ৬ জুন রাতে দেশটির গোয়েন্দারা এমপি পাপুলকে গ্রেফতার করেন। পরে তার বিরুদ্ধে মানব ও মুদ্রা পাচারের অভিযোগ আনা হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২৮ জানুয়ারি ওই মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য রয়েছে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন