ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

চবি গবেষকদের তথ্য

৬ দেশের সঙ্গে মিল চট্টগ্রামে ছড়ানো করোনার

 যুগান্তর রিপোর্ট ও চট্টগ্রাম ব্যুরো 
২৮ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে ছড়ানো করোনাভাইরাসের সঙ্গে ছয় দেশের করোনাভাইরাসের মিল খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৭ হাজার ৪৫২ জনে। এ সময় ১ হাজার ৪৯ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলার প্রতিটি উপজেলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণা করেন চবির একদল গবেষক। ৩৩টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করে ১২৬টি স্থানে মিউটেশন হয়েছে বলেও তথ্য দিয়েছেন তারা। চট্টগ্রাম জেলায় আক্রান্তদের কাছ থেকে সংগৃহীত নমুনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, সৌদি আরব, তাইওয়ান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার ভাইরাসের মিল পাওয়া গেছে।

জুলাই থেকে শুরু হওয়া এ গবেষণাকর্ম তত্ত্বাবধান করেন উপাচার্য শিরীন আকতার। চবি কেন্দ্রীয় জীববিজ্ঞান অনুষদ ও বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের পরীক্ষাগারে গবেষণাকর্ম সম্পন্ন হয়। গবেষণার মূল দায়িত্বে ছিলেন চবির চার শিক্ষক। তারা হলেন- বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রবিউল হাসান ভুঁইয়া, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ ওমর ফারুক রাসেল, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইমরানুল হক ও এইচএম আবদুল্লাহ আল মাসুদ।

গবেষণা দলে আরও ছিলেন উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র খন্দকার রাজিউর রহমান, ইমাম হোসেন, আরিফ হোসাইন ও সজীব রুদ্র, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ছাত্রী শান্তা পাল এবং বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের ছাত্র ওমর ফারুক।

গবেষকরা জানান, বিভাগের ১১ জেলা থেকে সংগ্রহ করা ৩০টি জিনোম বিন্যাস বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করা হয়েছে। গবেষণায় ১১টি জেলার প্রতিটি থানা থেকে করোনায় আক্রান্ত রোগীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর ‘আরএনএ’র পরিমাণ ও গুণের ওপর ভিত্তি করে ৪৬টি নমুনা জিনোম সিকোয়েন্স করা হয়। এর মধ্যে ৩৩টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স ৯৯ শতাংশের ওপরে উন্মোচিত হয়েছে।

রোববার চবি উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ ওমর ফারুক রাসেল যুগান্তরকে বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগে পাওয়া নমুনার জিনবিন্যাস বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, সৌদি আরব, তাইওয়ান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার ভাইরাসের সাদৃশ্য পাওয়া গেছে।

আর ৩০টি জিনবিন্যাস বিশ্লেষণে বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় এ করোনার জিন কাঠামোতে ১২৬টি ভিন্ন ভিন্ন মিউটেশন মিলেছে। এর মধ্যে পাঁচটি মিউট্যান্ট চট্টগ্রামে বেশি মাত্রায় ছড়িয়েছে।

এদিকে রোববার স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৭ হাজার ৪৫২ জনে। এ সময় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪৯ জন। সব মিলিয়ে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৫ লাখ ৯ হাজার ১৪৮ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাবে গত একদিনে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১ হাজার ৪৭৩ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন। এ পর্যন্ত সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ৪ লাখ ৫১ হাজার ৯৬১ জনে দাঁড়িয়েছে।

এতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১১৪টি আরটি-পিসিআর ল্যাব, ২৪টি জিন-এক্সপার্ট ল্যাব ও ২৯টি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ল্যাবে অর্থাৎ মোট ১৬৭টি ল্যাবে ১৩ হাজার পাঁচটি নমুনা সংগ্রহ করে ১২ হাজার ৬৫০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২৫ লাখ ১৭ হাজার ৬৮৩টি আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬ লাখ ৫৪ হাজার ২২৭টিসহ এ পর্যন্ত মোট ৩১ লাখ ৭১ হাজার ৯১০টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

গত একদিনে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে ১৬ জন পুরুষ আর নারী আটজন। তাদের ২৩ জন হাসপাতালে এবং একজন বাড়িতে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ১৫ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ৭ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে একজন এবং ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ছিল একজন।

মৃতদের মধ্যে ১৭ জন ঢাকা বিভাগের, তিনজন চট্টগ্রাম বিভাগের, দুইজন করে চারজন খুলনা এবং রংপুর বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ৭ হাজার ৪৫২ জনের মধ্যে ৫ হাজার ৬৭৫ জনই পুরুষ এবং ১ হাজার ৭৭৭ জন নারী। মোট মারা যাওয়াদের মধ্যে ৪ হাজার ৮১ জন ঢাকা বিভাগের, এক হাজার ৩৮৯ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৪৩১ জন রাজশাহী বিভাগের, ৫২৫ জন খুলনা বিভাগের, ২৩৬ জন বরিশাল বিভাগের, ২৯০ জন সিলেট বিভাগের, ৩৩৬ জন রংপুর বিভাগের এবং ১৬৪ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস