যমুনা গ্রুপ যুগান্তর ও যমুনা টিভি পরিদর্শনকালে দোরাইস্বামী

বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতা আরও জোরদারের সম্ভাবনা রয়েছে

 কূটনৈতিক রিপোর্টার 
২৮ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।

তিনি বলেছেন, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা অপার। এগুলো চিহ্নিত করে তা কাজে লাগানোর জন্য তার দেশ বদ্ধপরিকর।

ভারতের হাইকমিশনার রোববার যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপির সঙ্গে বৈঠককালে এ অভিমত ব্যক্ত করেন। এ সময় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম ইসলাম, পরিচালক মনিকা ইসলাম, যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলম, যমুনা টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক ফাহিম আহমেদ, ভারতীয় হাইকমিশনের প্রথম সচিব শাশ্বতি আরিয়া ও দ্বিতীয় সচিব দেবব্রত পাল উপস্থিত ছিলেন।

যমুনা ফিউচার পার্কে যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যানের দফতরে বৈঠকটি প্রায় ১ ঘণ্টা চলে। এ সময় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সালমা ইসলাম এমপি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

তিনি দ্রুত তিস্তা চুক্তি সম্পাদন এবং সীমান্ত হত্যা বন্ধে উদ্যোগ নেয়ার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানান। সালমা ইসলাম এ সময় বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান একসঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করছি।’

শামীম ইসলাম ও মনিকা ইসলাম দু’দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোকপাত করেন। বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী পরে দেশের অন্যতম প্রধান সংবাদপত্র যুগান্তর ও সংবাদভিত্তিক জনপ্রিয় যমুনা টেলিভিশন কার্যালয় পরিদর্শন করেন।

দোরাইস্বামী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের সত্যিকার ক্রেডিট বাংলাদেশের জনগণের। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ছিল সত্যিকার একটা জনযুদ্ধ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন জানাতে পেরে আমরা গর্বিত। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের জনগণের ভিত্তি তার ওপর প্রতিষ্ঠিত। একপর্যায়ে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের বিজয় ছিল অনিবার্য। ভারতের সহায়তায় তা ত্বরান্বিত হয়েছে।

তিস্তা চুক্তি দ্রুত সম্পাদনে সালমা ইসলামের আহ্বানের সঙ্গে একমত পোষণ করেন দোরাইস্বামী। তিনি বলেন, ‘তিস্তা চুক্তি দ্রুত সম্পাদন হওয়া প্রয়োজন। এ ব্যাপারে আমি সম্পূর্ণ একমত। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারও সেটি চায়। এখন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সম্মতি সাপেক্ষে এটা হতে পারে। ১৯৯৬ সালে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির সময়েও পশ্চিমবঙ্গের সম্মতি ছিল। তিস্তার ক্ষেত্রেও পশ্চিমবঙ্গের সম্মতির অপেক্ষায় রয়েছি। ভারতের সংবিধানে পানিসম্পদ কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে নয়; রাজ্য সরকারের অধীন।

সীমান্ত হত্যা সম্পর্কে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধে আমরা উভয় দেশ একত্রে কাজ করছি। চোরাচালানকে ঘিরে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এটা কমাতে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর মধ্যে সহযোগিতা দরকার। যৌথভাবে টহল দেয়া দরকার।

দোরাইস্বামী বলেন, দু’দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। এ অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। এ লক্ষ্যে কী কী সমস্যা আছে সেগুলো খুঁজে বের করতে হবে।

তিনি সুনির্দিষ্টভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যের সমস্যা তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আলাপ-আলোচনা করে এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। এজন্য ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করার বিভিন্ন উপায় খুঁজে পেতে হবে। তিনি ভারতের বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান।

হাইকমিশনার বলেন, আমরা সব সম্ভাবনা কাজে লাগাচ্ছি না। ভারতের বিভিন্ন কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পণ্য বিক্রি করতে পারে। বাংলাদেশের কোম্পানি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে সস্তায় কাঁচামাল আমদানি করতে পারে। উৎপাদিত পণ্য রফতানি করতে পারে। এ সময় ভারতের হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ভারতকে ট্রানজিট দেয়ার ফলে বাংলাদেশ লাভবান হবে। বাংলাদেশি ট্রাক পণ্য পরিবহন করবে।

যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকের পর ভারতের হাইকমিশনার যমুনা টেলিভিশনে যান। সেখানে প্রধান বার্তা সম্পাদক ফাহিম আহমেদ তাকে স্বাগত জানান। তিনি তার সহকর্মীদের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারকে পরিচয় করিয়ে দেন। এ সময় সেখানে ছিলেন- উপ-প্রধান বার্তা সম্পাদক মিজান আহমেদ, অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর রোকসানা আঞ্জুমান নিকোল, বিশেষ প্রতিনিধি মোহসিনুল হাকিম, মাহফুজ মিশু, আবদুল্লাহ তুহিন, আলমগীর স্বপন ও সুশান্ত সিনহা।

যুগান্তর কার্যালয়ে দোরাইস্বামী : বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী পরে যুগান্তর কার্যালয়ে আসেন। এ সময় যুগান্তর সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম তাকে স্বাগত জানান। যুগান্তরের সম্মেলন কক্ষে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচিত হন।

এ সময় ভারতের হাইকমিশনারকে স্বাগত জানিয়ে সাইফুল আলম বলেন, মহামারীর মধ্যেও যুগান্তরে আসায় আমরা খুব খুশি হয়েছি। যুগান্তর ও ভারতের হাইকমিশন অনেক বছর ধরে পরস্পরকে চমৎকার সহযোগিতা করছে। আমাদের পত্রিকা সর্বদা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করে থাকে।

এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সৈন্যরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ করেছেন। ভারত লাখ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। স্বাধীনতার পর দুই জাতি দুই দেশের জনগণের কল্যাণের লক্ষ্যে কাজ করছে।

যুগান্তরের সাংবাদিকদের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, যুগান্তর বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদপত্র। আমরা এ অংশীদারিত্বকে আরও সামনে নিয়ে যেতে চাই। আমরা পরস্পরের মধ্যে অবাধ যোগাযোগ সৃষ্টি করতে চাই। বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশই বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

এ বিশ্বাস সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত। অবাধ, স্বাধীন, গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ ও সেক্যুলার বাংলাদেশ হল ভারতের জাতীয় স্বার্থ। বাংলাদেশের জন্য যা ভালো, ভারতের জন্যও তা ভালো। ভারতের জন্য যা ভালো বাংলাদেশের জন্যও তা ভালো। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বৃহত্তর চিত্র হল একে অন্যের কল্যাণ সাধন।

ভারতের হাইকমিশনার যুগান্তরের বার্তাকক্ষ ও ছাপাখানা ঘুরে দেখেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- যুগান্তরের উপ-সম্পাদক আহমেদ দীপু, এহসানুল হক, ফিচার সম্পাদক রফিকুল হক দাদুভাই, নগর সম্পাদক বিএম জাহাঙ্গীর, প্রধান প্রতিবেদক মাসুদ করিম, যুগ্ম বার্তা সম্পাদক হোসেন শহীদ মজনু, সম্পাদকীয় বিভাগের প্রধান আসিফ রশিদ, সহকারী সম্পাদক মাহবুব কামাল, মোকাম্মেল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি মিজান মালিক, শেখ মামুনূর রশীদ, মুজিব মাসুদ প্রমুখ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন