প্রতিবন্ধী অটোরিকশা চালকের মৃত্যু

রংপুরে দিনভর বিক্ষোভ আধা বেলা ধর্মঘট কাল

স্ত্রীসহ কনস্টেবল হাসানের রিমান্ড আবেদন
 রংপুর ব্যুরো 
২৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
রংপুরে দিনভর বিক্ষোভ আধা বেলা ধর্মঘট কাল
পুলিশ কনস্টেবল হাসান আলীর স্ত্রী সাথী বেগম

রংপুরে প্রতিবন্ধী অটোরিকশা চালক নাজমুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় বৃহস্পতিবার দিনভর বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও অটোরিকশা চালকরা।

তারা প্রায় আধা ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করেন। নাজমুল হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে তারা শনিবার নগরীতে আধা বেলা অটোরিকশা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।

এদিকে, বুধবার রাতে পুলিশ কনস্টেবল হাসান আলী ও তার স্ত্রী সাথী বেগমকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন নাজমুলের স্ত্রী শ্যামলী বেগম।

আসামিদের পাঁচদিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেছে পুলিশ। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পার্কের মোড়ে ঢাকা-রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও অটোরিকশা চালকরা।

নাজমুল হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে তারা সড়কও অবরোধ করেন। এতে সড়কটিতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়েছে। প্রায় আধা ঘণ্টা সড়কটি বন্ধ ছিল।

এছাড়া সকালে নগরীর শাপলা চত্বরে রিকশাচালক শ্রমিক লীগ এবং দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বাংলাদেশ ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে। নাজমুল হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে রংপুর মহানগর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যান জাতীয় শ্রমিক পার্টি আগামীকাল শনিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।

বুধবার রাতে তাজহাট থানায় পুলিশ কনস্টেবল হাসান ও তার স্ত্রী সাথীকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন নাজমুলের স্ত্রী শ্যামলী বেগম। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে হাজির করে পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আশরাফুল ইসলাম। তবে এ বিষয়ে আদালত কোনো নির্দেশনা দেননি।

বুধবার দুপুরে কনস্টেবল হাসানের কোর্টপাড়া ভাড়াবাসা থেকে অটোরিকশা চালক প্রতিবন্ধী নাজমুলের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় কনস্টেবল হাসান ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে নাজমুল হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ এনে সড়কে বিক্ষোভ করেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও অটোরিকশা চালকরা। বিক্ষোভের মুখে স্ত্রীসহ কনস্টেবল হাসানকে আটক করে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাজহাট থানার এসআই আশরাফুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফজলে ইলাহী খানের আদালতে আসামিদের হাজির করা হয়। আদালত তাদের রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠান। তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আদালতে আবেদন করা হয়।

তবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত আদালতের আদেশ পাওয়া যায়নি। এসআই আশরাফুল আরও বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে সুরতহাল রিপোর্টে হত্যাকাণ্ডের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।

রংপুর নগরীর আশরতপুর কোটপাড়ায় বাড়িভাড়া নিয়ে পরিবারসহ বসবাস করেন কনস্টেবল হাসান। অপরদিকে, নাজমুল আশরতপুর ইদগাপাড়ায় বাড়িভাড়া নিয়ে তিনি বসবাস করছিলেন। নাজমুলের স্ত্রী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, পায়ের সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে নাজমুল কনস্টেবল হাসানের ব্যাটারিচালিত রিকশা ভাড়ায় চালাতেন।

মঙ্গলবার রাতে রিকশা নিয়ে হাসানের সঙ্গে তার বিরোধ হয়। এরই জেরে তাকে বেধড়ক মারধর করেন হাসান। একপর্যায়ে অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে কোটপাড়ার বাড়িতে নিয়ে যান হাসান। সেখানে তার মৃত্যু হলে লাশ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রেখে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে হাসান প্রচার করেন। লালমনিরহাটের মুস্তফি এলাকায় নাজমুলের বাড়ি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, রংপুর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে কর্মরত কনস্টেবল হাসান ও স্ত্রী সাথী রিকশাচালক নাজমুলকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। অবিলম্বে তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তারা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন