অবশেষে লিওর ইচ্ছাপূরণ

 সেলিম কামাল 
১৭ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
লিওনার্দো ডি’ক্যাপ্রিও
লিওনার্দো ডি’ক্যাপ্রিও

ক্যারিয়ারের একটা পর্যায়ে এসে মনের কোনো একটি ইচ্ছা বারবার উঁকি দিচ্ছিল লিওনার্দো ডি’ক্যাপ্রিওর। যদি একবার সুপারহিরো হতে পারতাম! অবশেষে সেই ইচ্ছাপূরণ হতে চলেছে অস্কার জয়ী এ অভিনেতার।

হলিউডের শীর্ষ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মার্ভেল ইউনিভার্স থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সুপারহিরো হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তারা। প্রতিষ্ঠানটির নতুন একটি ছবিতে সুপারহিরো চরিত্রে অভিনয় করবেন ডি’ক্যাপ্রিও। তবে নতুন কোনো সুপারহিরো নয়। আগের প্রশংসিত একটি জনপ্রিয় সুপারহিরো চরিত্র আবারও ফিরিয়ে আনছে মার্ভেল। সে চরিত্রের জন্যই লিওনার্দোকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

মার্কিন গণমাধ্যম বলছে, কাজটি করতে রাজিও নাকি হয়েছেন টাইটানিকের জ্যাক। অবশ্য বেশি কিছু বলতে রাজি হয়নি মার্ভেল কিংবা লিওনার্দো। অথচ এ সুপারহিরো হওয়ার জন্য এক সময় মার্ভেল থেকেই তার কাছে প্রস্তাব এসেছিল। ছবিটির নাম ছিল স্পাইডারম্যান। সমালোচকদের ধারণা এ স্পাইডারম্যানেরই নতুন কিস্তিতে দেখা যেতে পারে লিওনার্দোকে। এতদিন সুপারহিরোর প্রতি আগ্রহী ছিলেন না কেন?

এমন প্রশ্নের উত্তরে এক সাক্ষাৎকারে এ অভিনেতা বলেছেন, ‘মনের মতো সুপারহিরো প্রজেক্ট খুঁজে পাইনি। স্যাম রাইমির স্পাইডার-ম্যান ছবির জন্য আমাকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু কাজটি করিনি। কারণ, তখন আমার মনে হয়েছিল, স্পাইডার-ম্যানের পোশাক গায়ে তোলার জন্য প্রস্তুত নই আমি।’ শুধু তাই নয়, ‘ব্যাটম্যান ফরেভার’ ছবিতেও তাকে রবিন চরিত্রে অভিনয় করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। সে ছবি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন অদ্ভুত এক অজুহাতে।

বলেছেন জোল শুমাখারের মতো মেধাবী নির্মাতার ছবিতে কাজ করার যোগ্য নন তিনি। ঘটনা এখানেই শেষ নয়। এমন আরও একাধিক ছবি আছে যেগুলো মুক্তির পর সুপারহিট হয়েছে, সেগুলোতে অভিনয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন লিওনার্দো। এগুলো হচ্ছে, ক্যানি ওর্তেগা পরিচালিত ছবি হোকাস পোকাস (১৯৯৩), নেইল জর্ডান পরিচালিত ‘ইন্টারভিউ উইথ দ্য ভ্যাম্পায়ার’ (১৯৯৪), পল থমাস এন্ডারসনের ‘বুগি নাইটস’ (১৯৯৭), অ্যান্থনি মিঙ্গেলার ‘দ্য ট্যালেন্টেড মি. রিপ্লে’ (১৯৯৯), ওয়াচোস্কির সাইন্স ফিকশন ‘ম্যাট্টিক্স’ (১৯৯৯), মেরি হ্যারন পরিচালিত ‘আমেরিকান সাইকো’ (২০০০), জর্জ লুকাসের ‘স্টারওয়ার্স : এডিসোড টু-অ্যাটাক অব দ্য ক্লোনস’ (২০০২), কুইন্টিন টারান্টিনোর ‘ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ডস’ (২০০৯) ও ড্যানি বোল পরিচালিত ছবি ‘স্টিভ জবস’ (২০১৫) অথবা এ ছবিগুলো তাকে এনে দিতে পারত আরও যশ ও খ্যাতি।

কারণ ১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত টাইটানিকের পর লিওনার্দোকে সেভাবে আর আবিষ্কার করতে পারেননি দর্শকরা। দীর্ঘ দুই যুগে অনেক ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। জিতেছেন অস্কারও। তবুও টাইটানিকের জ্যাককে তিনি কখনই অতিক্রম করতে পারেননি। এখন অপেক্ষা তাকে সুপারহিরোর ভূমিকায় দেখার। ভক্তদের অপেক্ষার জায়গা কতটা পূরণ করতে পারবেন লিও, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

বর্তমানে নেটফ্লিক্সের ব্যানারে নির্মিত নতুন ছবি ‘ডন্ট লুক আপ’ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন লিওনার্দো। সাইন্স ফিকশন ধাঁচের এ ছবিতে তার সঙ্গে আরও দেখা মিলবে মেরিল স্ট্রিপ ও জেনিফার লরেন্সকে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন