জিনিয়ার ফিরে আসা

 মুহাম্মদ শফিকুর রহমান 
০৫ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নয় বছরের জিনিয়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় পরিচিত মুখ। ফুল হাতে ছুটে বেড়ায়। ফুল বিক্রি করে ফুলের মতোই এ কোমলমতি মেয়েশিশুটি। গ্রামের বাড়ি ভৈরব।

মাকে নিয়ে তার টিএসসি এলাকায় বসবাস। তার মা টিএসসি এলাকায় পান-সিগারেট বিক্রি করেন। পথশিশু জিনিয়া ১ সেপ্টেম্বর রাত থেকে নিখোঁজ হয়। ২ সেপ্টেম্বর মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে শাহবাগ থানায় একটি জিডি করেন তার মা। এরপর ৫ দিন কেটে যায়। পুলিশ কোনো ক্লু-ই খুঁজে পাচ্ছিলেন না, যেটি ধরে কেস এগানো যাবে। ঘটনাটি আরাফাতের কানে পৌঁছে। এগিয়ে আসেন তিনি।

আরাফাত চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। মতিঝিল জোনের এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। তিনি রমনা জোনের এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। নিখোঁজের দিন রাত সাড়ে নয়টার দিকে ছোট মেয়ে সিনথিয়াকে স্বোপার্জিত স্বাধীনতা ভাস্কর্যের পাশে রেখে জিনিয়াকে ডাকতে যান মা সেনুরা বেগম।

তখন জিনিয়া দুই নারীর সঙ্গে বসে ফুচকা খাচ্ছিল। এরপর থেকে পাওয়া যাচ্ছিল না জিনিয়াকে। আরাফাত চৌধুরী এসব বিষয় মাথায় রেখে এগোন। তিনি নিজামের চটপটির দোকান, শিল্পীর চা-সিগারেটের দোকান, জিনিয়ার মা ও আশপাশের দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলেন। তথ্য সংগ্রহ করেন।

জিনিয়া কোথায় যায়, কখন যায়, কাদের সঙ্গে গল্প করে ও কোন পথ দিয়ে চলাচল করে- নোট করেন তিনি। অপরাধীদের পোশাক ও গড়ন সম্পর্কে তার হাতে তথ্য চলে আসে।

এ প্রসঙ্গে আরাফাত বলেন, টিএসসি জনতা ব্যাংকের এটিএম বুথসংলগ্ন সিসি ক্যামেরা দুর্ভাগ্যবশত ওই দিন কাজ করছিল না। এটি চালু থাকলে সব পরিষ্কার ধরা পড়ত। আবার জগন্নাথ হল প্রভোস্টের বাংলোর সামনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখা প্রয়োজন ছিল। হল প্রভোস্টকে বিষয়টি অবগত করতেই তিনি তা দেখাতে রাজি হন। ৫ সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানার পুলিশ কর্মকর্তাদের সব তথ্য দিই।

৬ সেপ্টেম্বর পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তিন ঘণ্টার ফুটেজ দেখে চুলচেরা বিশ্লেষণ করি। সিসিটিভি ফুটেজ অপরাধীদের শনাক্ত করতে সহায়তা করে। পুলিশের একজন সোর্স শারীরিক গড়নের বিবরণ শুনে এক নারীকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে। ৭ সেপ্টেম্বর গোয়েন্দা পুলিশের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে জিনিয়াকে নারায়ণগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয়।

জিনিয়াকে ফিরিয়ে আনতে আমার এ উদ্যোগ কাজে লেগেছে, এজন্য আমি খুশি। অপরাধীরা জিনিয়াকে ভালো খাবার ও থাকার লোভ দেখিয়ে নারায়ণগঞ্জ নিয়ে যায়। রোশনি নাম দেয়। একটি ঘরে আটকিয়ে রাখে। টুকটাক নির্যাতনও করে। জিনিয়াকে অপহরণের অভিযোগে নাজমা আক্তার লুপা তালুকদার ওরফে লুপা বেগম (৪২) নামে এক নারীকে গ্রেফতার করেছেন পুলিশ।

এ প্রসঙ্গে ঢাকার রমনা জোনের পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) এসএম শামীম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আরাফাত চৌধুরী তথ্য দিয়ে সহায়তা করার কারণে শিশু জিনিয়াকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন