ছাদ বাগানিদের জন্য কিছু পরামর্শ

শখে কেউ ছাদে, কেউবা বেলকোনিতে বাগান করেন। বাগানে পোকামাকড়ের আক্রমণ হয়। গাছে ফল আসে না। ফুল আসলেও ঝরে পড়ে। এমন অনেক সমস্যাতে বাগানিরা পড়েন। কৃষিবিদ শফিকুর রহমান বিপ্লব এমন কিছু সমস্যার সমাধান বাতলে দিয়েছেন।
 গ্রন্থনা : মুহাম্মদ শফিকুর রহমান 
২২ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ছাদ বাগানের জন্য সবচেয়ে দরকারি উপাদান হল কৃষি মাটি। শফিকুর রহমান বিপ্লব বলেন, আমরা এদিকে নজর না দিয়ে জৈব অজৈব সার নিয়ে বেশি উৎসাহ দেখাই। কৃষি মাটি হল কর্ষণ তল ভূমির উপরিভাগের ওপর থেকে ৩০ সেমি গভীর পর্যন্ত যেখানে কৃষি ফসল উৎপন্ন হয়। যেমন- বেগুন যেখানে হয়, ছাদে বেগুন করতে ওই রকম জমির মাটি ব্যবহার করতে হবে। অনান্য সবজি, ফলের গাছের বেলায় একই কথা। যদিও এ বিষয়টা অনেকেই জানেন না।

ছাদ বাগানের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল পটিং মিকচার (মানে মাটি প্রস্তুতকরণ)। সংগৃহীত মাটিতে নানা উপাদান মিশাতে হয়। যেগুলো পরবর্তীতে গাছের পুষ্টি নিশ্চিত করবে। সংগৃহীত কৃষি মাটি, গোবর সার বা জৈব সার, ভার্মিকম্পোস্ট, সামান্য রাসায়নিক সার টিএসপি/ডিএপি, এমওপি, সরিষার খৈল, কোকোপিট (প্রয়োজন বোধে) মিশাতে হবে। গাছ লাগানোর জন্য বেছে নেয়া উত্তম পোড়ামাটির টব বা সিমেন্টের টব।

প্রথমে সংগৃহীত উপাদান ভালো করে রোদে শুকাতে হবে (রাসায়নিক সার বাদে)। মাটি চালনি দিয়ে বেছে নিতে হবে। যেন বড় দানাগুলো আলাদা হয়। এরপর জৈব উপাদান ৩০-৪০ শতাংশ বাকি মাটি মেশাবেন প্রতি একশ কেজি মাটিতে ১৫০ গ্রাম টিএসপির ১০০ গ্রাম এমওপি সার ও ২৫০ গ্রাম সরিষার খৈল গুঁড়া দিতে হবে। সব কিছু মেশানো মাটি সামান্য পানি দিয়ে নিম্নে পনেরো দিন রেখে দিতে হবে। আরেকটা কথা, টবে মাটি ভরাট করার আগে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। টবের ছিদ্র্রের মুখে নারিকেলের ছোবড়া দিতে হবে। এ ধরনের মাটি ফল, ফুল, সবজির গাছের জন্য ব্যবহার করা যাবে।

ছাদে যেখানে পর্যাপ্ত আলো, বাতাস আসে এমন জায়গায় গাছ লাগাতে হবে। তাই তাড়াহুড়া না করে ভালো বীজ সংগ্রহ করতে হবে। ছাদ থেকে একটু ওপরে স্যান্ড করে গাছ রাখতে হবে। মাটি ছাদের কোনো ক্ষতি করে না তবে উর্বর মাটি ছাদে পড়লে ভেজা থাকলে শৈবাল জন্মে ও সবুজ শেওলা হয়, যার শিকড়ের টকসিন সিমেন্টের মজবুতি নষ্ট করে ধীরে ধীরে। গাছের রোগবালাই সম্পর্কে গোড়া পচা, কাণ্ড পচা, ফুল পচা, ফল পচা ছত্রাকজাতীয় রোগ। এ জন্য ছত্রাকনাশক দিতে হবে। জাব পোকা, সাদা মাছি গাছের চরম শক্রু। এদের দমনে ইমিডাক্লোরোপিড গ্রুপের কীটনাশক স্প্রে করে দিতে হবে। পাতা হলুদ হওয়া, ফুল, ফল ঝরে যাওয়ার কারণ হতে পারে গাছ পর্যাপ্ত পুষ্টি পাচ্ছে না। মাটিতে খাদ্যের অভাব আছে। যে কোনো ফল, ফুলের গাছের পাতা কুঁকড়ানোর জন্য কীটনাশক কার্যকর।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন