স্টাইলিশ শাল

শাল ব্যবহারের রেওয়াজটা বেশ পুরনো হলেও জনপ্রিয়তা আর ফ্যাশনে এখনও এগিয়ে। শীতের ফ্যাশনেবল শাল নিয়ে আমাদের এ আয়োজন। বিস্তারিত জানাচ্ছেন-
 কেয়া আমান 
২২ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
ছবি সংগৃহীত

চারদিকের হিমহিম বাতসের সঙ্গে গরম কাপড় আর গরম চা ছাড়া যেন সকালটাই জমে না। শীতে গরম কাপড়ের তালিকায় শাল সেকেলে হলেও শালের আবেদন কখনও ফুরানোর নয়। বরং স্টাইলিশ শীত পোশাকের তালিকায় শালের রয়েছে উজ্জ্বল উপস্থিতি। আর তাই তো ফ্যাশন ডিজাইনাররা শালকে এখন নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করছেন। শুধু রং-নকশা আকৃতিতেই নয়, শাল পরার কায়দাতেও এসেছে নতুনত্ব। শালকে এখন অনেকেই ফ্যাশন অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করছেন।

ছেলেমেয়ে সবার কাছেই শালের জনপ্রিয়তা রয়েছে সব সময়। সালোয়ার-কামিজ, শাড়ি, কুর্তি, টপস, ফতুয়া-জিনস, টি-শার্ট ও শার্ট সবকিছুর সঙ্গেই জড়িয়ে নেয়া যায় শাল। পরা যায় নতুন নতুন নানা স্টাইলে। আর শীতে শাল অনেক বেশি আরামদায়ক। শাল এখন রীতিমতো ফ্যাশনের একটা অংশ। তাই এর সঙ্গে যে কোনো সাধারণ পোশাকেও হয়ে উঠা যায় স্টাইলিশ।

অঞ্জন’স-এর স্বত্বাধিকারী ও ফ্যাশন ডিজাইনার শাহীন আহম্মেদ বলেন, ‘এখন ছেলেমেয়ে সবাই সালোয়ার-কামিজ, শাড়ি, টপস, কুর্তি ও লং ড্রেসসহ বিভিন্ন ফ্যাশনেবল পোশাকের সঙ্গে শাল পরতে পছন্দ করছেন। কখনও কখনও ওড়নার পরিবর্তে নানা স্টাইলে ওড়নার মতো করে জড়িয়ে নেয়া হচ্ছে শাল। পেঁচিয়ে নেয়া হচ্ছে স্কার্ফ ও মাফলারের মতো করেও। একইভাবে ছেলেরাও স্টাইলিশ নানা স্টাইলে জড়াচ্ছে শাল। তাই শাল এখন ফ্যাশনেবল শীত অনুষঙ্গ। আমরা এ বছর অনেক কালারফুল শাল নিয়ে এসেছি। নরসিংদীর কিছু শালে স্ক্রিনপ্রিন্ট করা হয়েছে। দেখতে খুবই চমৎকার। এছাড়া শালে হ্যান্ডপেইন্ট ও ব্লকও করা হয়েছে। এতে করে শালগুলো দেখতে অনেক গর্জিয়াস হয়েছে। এগুলো নরমাল ব্যবহার যেমন করা যাবে, তেমনি উৎসব অনুষ্ঠানেও পরা যাবে। তবে প্রাইস রিজনেবল। আসলে করোনার চিন্তা করেই আমরা দামটা রিজনেবল রেখেছি।’

শালের ক্ষেত্রে খাদি শালের চাহিদা এখন ব্যাপক। খাদি কাপড়ে এমনিতেই আলাদা একটা স্ট্রাকচার আছে। যে কারণে খুব বেশি নকশা করার দরকার পড়ে না। তারপরও খাদি শালের নকশায় এখন নতুনত্ব আনা হচ্ছে। এক রঙের পাশাপাশি চেকের খাদি শালও আকর্ষণীয়। পাশাপাশি এ বছর ফ্যাশন সচেতনদের কাছে খেশ, জামদানি, সিল্ক ও তাঁতের শালেরও চাহিদা তুঙ্গে। পশমিনা শালেরও জনপ্রিয়তা রয়েছে বেশ কয়েক বছর ধরেই। দিন দিন দেশীয় শালের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। দেশীয় শালে প্রতি বছর যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন নকশা। তাতে কখনও উঠে আসছে প্রিন্ট, অ্যাম্ব্রয়ডারি, হাতের কাজ, সিকোয়েন্সের কাজ, জরি, চুমকি, পুঁতির কাজ তো কখনও দু’রঙের ব্যবহার ও কয়েক টুকরো কাপড় একসঙ্গে জোড়া নকশা প্রভৃতি দেখা দেখা যাচ্ছে। একরঙা পাতলা ওড়না শালগুলো হালকা শীতের জন্য আরামদায়ক এবং আকর্ষণীয়। টুকরো টুকরো কাপড় জুড়েও এখন শালে করা হচ্ছে ডিজাইন। যাকে বলা হয় প্যাচওয়ার্ক। এ শালগুলোর প্রতিও এখন অনেকের আগ্রহ রয়েছে। কাঁথা দিয়ে পুরো শরীরটাকে জড়িয়ে রাখার থিম থেকেই করা হচ্ছে এমন ডিজাইন। প্যাচওয়ার্কে থাকে বহু রঙের সমাহার। একরঙা শালের কিছু অংশেও প্যাচওয়ার্কের কাজ পাওয়া যাবে। ফ্যাশন উপযোগী এসব শাল বেশ আরামদায়কও। এ শালগুলো চাইলে আটপৌরে ব্যবহার করতে পারেন, আবার অনায়াসে যে কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় গায়ে জড়িয়ে যেতে পারেন। সিল্কের কাপড়ের ওপর নকশিকাঁথার ফোঁড় এপার-ওপার ঘুরে বেড়িয়েও নকশা তোলা হচ্ছে শালে। টাইডাই, ব্লক নকশার শাল পুরনো হলেও এখনও ঐতিহ্যের অংশ।

দেশীয় হালকা নকশার শালগুলো আপনি ঘরে পরার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া, ঘুরতে যাওয়া কিংবা কর্মক্ষেত্রে যেতেও ব্যবহার করতে পারেন। তবে পার্টির ক্ষেত্রে একটু গর্জিয়াস শাল ভালো লাগবে। এসব জায়গার জন্য আপনার পছন্দের তালিকায় রাখতে পারেন জামদানি, পশমিনা, সিল্ক ফেব্রিকের নকশি শাল। রঙের ক্ষেত্রে সাদা-কালো, সবুজ, বাদামি, ম্যাজেন্টা রং পছন্দ করতে পারেন। উৎসব অনুষ্ঠানের জন্য আবার অনেকেই পছন্দ করেন বিদেশি শাল।

বিদেশি শালের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে কাশ্মীরি শাল। এ শালের জমকালো নকশা এবং উষ্ণতার কারণে অনেকেই পছন্দ করেন। গত বছর থেকে আমাদের দেশেও ভেলভেটের শালের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। ভেলভেটের শালে যেমন উষ্ণতা পাওয়া যায়, তেমনি তা গর্জিয়াস লুক আনে। কারচুপি, স্যামো সিল্কের পাইপিং, অ্যাম্ব্রয়ডারি, হ্যান্ড পেইন্টসহ নানা ধরনের কাজ উঠে আসছে ভেলভেটের শালে। শালের চারপাশে অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার হচ্ছে ফ্রিল, টার্সেল। এছাড়া রয়েছে লুধিয়ানা, জয়পুরি, চায়নিজ, বার্মিজসহ আরও নানা রকম শাল।

তবে শাল শুধু রং আর নকশা দেখেই নির্বাচন করা উচিত নয়। শালের ক্ষেত্রে রং-নকশার পাশাপাশি এর উষ্ণতার বিষয়টিতেও নজর দিন। আর শীতল বাতাসে নিজেকে জড়িয়ে রাখুন শালের উষ্ণ ওমে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন