বিজয়ের চেতনায় নিজেকে সাজাই

 কেয়া আমান 
১৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
ছবি সংগৃহীত

আগামীকাল ১৬ ডিসেম্বর- বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে নতুনের কেতন উড়িয়ে বাংলাদেশ নামে একটি ভূখণ্ড জন্ম নেয়। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা একটি দিন। বিজয়ের রঙে রাঙানো এ দিনটিতে ইতিহাসের স্বর্ণালি পাতায় বীর-বাঙালি হিসেবে জায়গা করে নিই আমরা।

আমাদের এ বিজয় অর্জনের পেছনে রয়েছে অনেক ত্যাগ ও সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস। এ বিজয়ের জন্য ১৯৭১ সালে দীর্ঘ ৯ মাস এক সাগর রক্ত আর ৩০ লাখ তাজা প্রাণ দিতে হয়েছিল, হারাতে হয়েছিল দেশ গড়ার কারিগর তীক্ষ্ণ মেধাসম্পন্ন সন্তান আর লাখো মা-বোনের সম্ভ্রম। তাই বাঙালি জাতি শ্রদ্ধাবনত চিত্তে ডিসেম্বর মাসের বিজয় দিবসের এ দিনটিকে স্মরণ করে। স্মরণ করে জাতির অকুতোভয় বীর সন্তানদের।

বিজয় দিবস এলে আমরা উজ্জীবিত হই। নতুন করে শক্তি পাই। এ দিনে আমরা অনুপ্রাণিত হই আমাদের গৌরবময় ইতিহাসের কথা স্মরণ করে। উদ্বুদ্ধ হই বিজয়ের চেতনায় অগ্রগতির পথযাত্রায় এগিয়ে যেতে। প্রতি বছর বিজয় দিবস পালনের মাধ্যমে আমরা নতুন প্রজন্ম এবং বিশ্বকে মনে করিয়ে দেই মুক্তিযুদ্ধের কথা ও বীর শহীদদের কথা। বিজয় দিবসে পুরো দেশ সেজে ওঠে লাল-সবুজে।

দোকানে, রাস্তায়, অফিসে, স্কুল-কলেজে এমনকি গাড়ির সামনে শোভা পায় জাতীয় পতাকা। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নানা ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। করোনার কারণে যদিও এবার বিজয় দিবসের আয়োজন সীমিত করা হয়েছে। তারপরও বিজয়ের চেতনা আমাদের মনে-প্রাণে রয়ে যাবে।

তরুণ প্রজন্ম কতটুকু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বিজয়ের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করতে পারছে, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে আমাদের নতুন প্রজন্মকে। জানাতে হবে, কত ত্যাগ আর রক্তের মূল্যে কেনা আমাদের এই স্বাধীনতা। তবে তরুণ প্রজন্মের অনেকেই এখনও জানে না মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস। তাই নতুন প্রজন্ম বা আমাদের সন্তানদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে মা-বাবাকেই এগিয়ে আসতে হবে।

শিশুদের মুক্তিযুদ্ধের গল্প, স্বাধীনতার গল্প ও বিজয়ের গল্প শোনাতে হবে; মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে হবে; মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই কিনে দিতে হবে। প্রতিটি ঘরেই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক এমন কিছু রাখা উচিত, যা দেখে শিশুরা মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে ধারণা পায়। শিশুকে দেশাত্মবোধক ও মুক্তিযুদ্ধের গানের সিডি কিনে দিতে পারেন। পাশাপাশি দেশাত্মবোধক ও মুক্তিযুদ্ধের গান গাইতে অনুপ্রাণিত করুন। বাচ্চাদের লেখার জন্য খাতা তো কিনতেই হয়।

আজকাল স্টেশনারি দোকানে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন চিত্রসংবলিত প্রচ্ছদের খাতা পাওয়া যায়। শিশুদের লেখার জন্য এ ধরনের খাতা কিনে দিতে পারেন। এতে মুক্তিযুদ্ধের প্রচ্ছদের সঙ্গে শিশুরা পরিচিত হতে পারবে। খাতা ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের চিত্রসংবলিত ড্রইং বইসহ শিশুদের প্রয়োজনীয় নানাকিছু এখন বাজারে পাওয়া যায়, যেগুলোয় ফুটে ওঠে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন খণ্ডচিত্র।

বিশেষ দিনগুলোয় এসব জিনিস উপহার দেয়ার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে শিশুকে পরিচয় করাতে পারেন। বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসে শিশু থেকে শুরু করে বয়স্কদের জন্যও এখন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নানা মোটিফের পোশাক তৈরি হয়।

এ ধরনের পোশাক অঙ্গে জড়িয়েও বিজয়ের রঙে রাঙাতে পারেন বিশেষ এ দিনটিতে। বিজয় দিবস বা অন্য কোনো ছুটির দিনে পরিবারের সবাই মিলে ঘুরতে যেতে পারেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর, রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ ও সাভার স্মৃতিসৌধসহ ঐতিহাসিক বিভিন্ন স্থানে। এভাবেই প্রতিদিন জীবনযাপনের ভেতর দিয়েই অভিভাবকরা শিশুকে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়।

বিজয় দিবস বাঙালি জাতির চেতনায় রক্তে মেশানো উৎসব। বিজয়ের উৎসবে তাই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হতে হবে। ভুলকে শুধরে শুদ্ধতার পথে চলার চেষ্টা করতে হবে। হিংসা-বিদ্বেষ-অহঙ্কার ছুড়ে ফেলে সবাই মিলে এক হয়ে দেশ গড়ার প্রত্যয়ে উজ্জীবিত হতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন