তিন কচ্ছপের বনভোজন

 আশরাফুল আলম পিনটু 
০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তিন কচ্ছপ- জো, স্টিভ আর পনচো ঠিক করল, তারা বনভোজনে যাবে।

কুকিজ, কোমল পানীয়ের বোতল আর স্যান্ডউইচ দিয়ে বনভোজনের ঝুড়ি ভরল জো।

সমস্যা হল, বনভোজনের জায়গাটি ১০ মাইল দূরে। সেখানে যেতে তাদের পুরো ১০ দিন লাগল। যেতে যেতেই খুব তৃষ্ণা আর ক্ষুধা পেয়ে গেল তাদের।

জো ঝুড়ি থেকে খাবারগুলো একে একে বের করল। পানীয় বোতল বের করার পর বুঝতে পারল, তারা ছিপি খোলার চাবিটা আনতে ভুলে গেছে।

জো আর স্টিভ চাইল, পনচো বাড়ি ফিরে গিয়ে ওটা নিয়ে আসুক। কিন্তু পনচো যেতে চাইল না। সরাসরি নাকচ করে দিল। তার সন্দেহ হল, সে ফিরে আসার আগেই এরা দু’জন সব খেয়ে ফেলবে।

যা হোক, ঘণ্টা দুয়েকের সাধ্যসাধনায় তারা পনচোকে যেতে রাজি করাতে পারল। তবে বাপ-দাদার দিব্যি কেটে কথা দিতে হল, সে ফিরে না আসা পর্যন্ত তারা এসব খাবার খাওয়া তো দূরের কথা, ছুঁয়েও দেখবে না।

কাজেই পনচো ফিরতি পথে রওনা হয়ে গেল।

বারো দিন পার হল। কিন্তু পনচোর কোনো খবর নেই। জো আর স্টিভ আরও ক্ষুধার্ত ও কাহিল হয়ে পড়ল। কিন্তু শপথ তো শপথ-ই।

আরও একদিন পার হল। তবু পনচোর দেখা নেই। স্টিভ অধৈর্য হয়ে উঠল। কাতর স্বরে বলল, ‘আমার খাবার দরকার।’ সে নিয়ে আসা খাবারের দিকে ইঙ্গিত করল।

‘না।’ জো প্রতিবাদ করে বলল, ‘এগুলো খাওয়া যাবে না। আমরা পনচোকে কথা দিয়েছি।’

আরও পাঁচদিন কেটে গেল। এখনও পনচোর টিকিটির দেখা মিলল না। জো বুঝতে পারল, পনচো হয়তো বাড়িতে গিয়ে বসে আছে। কষ্ট করে আর এতদূর আসতে চাইছে না। নয়তো তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে রাস্তা ভুলে গেছে। বোধহয়, আর আসতেই পারবে না। এদিকে ক্ষুধায় তাদের দু’জনের মরো মরো অবস্থা। কী আর করা! তাই শেষ পর্যন্ত কাহিল হয়ে এগিয়ে গেল খাবারের দিকে। স্যান্ডউইচ তুলে নিল। হা করল খাওয়ার জন্য।

আর ঠিক তখনই একটা বড় পাথরের আড়াল থেকে বেরিয়ে এল পনচো। বলল, ‘জানতাম, তোরা এ রকমই করবি। কথা রাখবি না। আর এ জন্যই আমি বাড়ি যাইনি!’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন