ঘুরবে এবার অর্থনীতির চাকা

 মুসাহিদ উদ্দিন আহমদ 
২৮ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর পুরোটাই আজ দৃশ্যমান। ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে শরীয়তপুর জেলার জাজিরার নাওডোবায় নদীশাসনের কাজ এবং মাওয়া প্রান্তে মূল পাইলিং কাজের উদ্বোধন করেন।

২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সেতুর জাজিরা পয়েন্টে ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পায়ারের ওপর প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতুর স্প্যান বসানোর কাজ শুরু হয়।

মাঝ পদ্মা নদীতে ৪১ নম্বর স্প্যানই ছিল সেতুর শেষ স্প্যান। সেটিও বসানো সম্পন্ন হয়েছে সম্প্রতি। ৪২ নম্বর পায়ারটি জাজিরার নওডোবা নদীর পাড়ে। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা বহুমুখী প্রকল্পের আওতায় রয়েছে মূল সেতু, নদীশাসন, সংযোগ সড়ক ও সার্ভিস এলাকাসহ পাঁচ পর্যায়ের নির্মাণকাজ।

মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরার মধ্যে স্থাপিত দ্বিতল এই পদ্মা সেতু। ভাঙ্গার অংশ যোগ করলে মোট দৈর্ঘ্য দাঁড়াবে প্রায় ৯ কিলোমিটার। পদ্মা সেতুর ১১ কিলোমিটার সংযোগ সড়কের মধ্যে সাড়ে ৯ কিলোমিটার সড়কই জাজিরা পয়েন্টে এবং বাকি ২ কিলোমিটারের মতো সড়ক মাওয়া অংশে পড়েছে।

এছাড়া সংযোগ সড়কের মধ্যে থাকছে ৯৭০ মিটারের ৫টি সেতু, ২০টি বক্স-কালভার্ট, ৮টি আন্ডারপাস এবং ২টি টোল প্লাজা। সেতু প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে পদ্মার দুই পাড়ে ৭টি পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপন করার প্রকল্প রয়েছে। পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোতে জনসাধারণের জন্য মসজিদ, খেলার মাঠ, মার্কেটসহ সব ধরনের ব্যবস্থা রাখারও পরিকল্পনা রাখা আছে।

সেতুটি খুলে দেয়া হলে ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার সড়ক ও রেল যোগাযোগে আশাতীত সাফল্য আসবে। এশিয়ান হাইওয়ের সংযোগ হিসেবেও সেতুটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। স্বপ্নের পদ্মা সেতু দিয়ে যুগপৎভাবে সড়ক ও রেলপথ উন্মুক্ত হলে ঘুরতে শুরু করবে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির চাকা।

বিশেষ করে দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সঙ্গে রাজধানীর যাতায়াত ব্যবস্থা সুগম হবে। জেলাগুলোতে আরও আধুনিক শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে। মানুষের কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগের মধ্য দিয়ে জীবন-জীবিকার পথ উন্মুক্ত হবে। দেশের কোটি কোটি মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। পদ্মা নদীপারের তিন জেলা মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরে উন্নয়নের ধারায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

সেতু নির্মাণ শেষে সেতুর ওপর দিয়ে সড়ক ও রেলপথে যানবাহন চলাচল উন্মুক্ত হলে এর সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ, যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় রাখাসহ কঠোর নিয়ন্ত্রণ, তদারকি, বিশেষ করে সড়ক ও সেতু ব্যবহারকারীদের দায়িত্ববোধের ওপর নির্ভর করবে দেশের এমন একটি মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ গ্রহণের সার্থকতা।

মুসাহিদ উদ্দিন আহমদ : প্রাবন্ধিক, গল্পকার

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন