২৪ পৌরসভা নির্বাচন

সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন হোক
 সম্পাদকীয় 
২৮ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আজ প্রথম ধাপে দেশের ২৩ জেলার ২৪টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বস্তুত এর মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে নির্বাচনের প্রথম পর্বের ভোটগ্রহণ শুরু হল। সবকটি পৌরসভায়ই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করে ভোট নেয়া হচ্ছে, যা একটানা সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে। উল্লেখ্য, গত ২২ নভেম্বর প্রথম ধাপের ২৫টি পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এসবের মধ্যে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভায় মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী মারা যাওয়ায় ওই পৌরসভায় ১৬ জানুয়ারি ভোটের দিন নির্ধারণ করে পুনঃতফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।

ইতোপূর্বে ঢাকার ধামরাই, কুষ্টিয়া ও বরিশালসহ কয়েকটি পৌরসভায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে নির্বাচনপূর্ব সংঘর্ষ ও নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে এবং তাতে অন্তত ২৮ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া সংঘর্ষের সময় একজন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এর বাইরে বেশ কয়েকটি পৌরসভায় নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, সংঘর্ষ-ভাংচুর ছাড়াও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়। তাছাড়া এগুলো নির্বাচন আচরণবিধির সুস্পষ্ট লংঘনও বটে। আমরা আশা করব, আজ ভোটের দিনে পূর্বেকার এসব ঘটনার কোনো নেতিবাচক প্রভাব নির্বাচনের ওপর পড়বে না।

অতীতে স্থানীয় সরকার পর্যায়ের কোনো নির্বাচন দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান না থাকলেও বর্তমানে এসব নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। ফলে এসব নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কাও আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। আর তাই নির্বাচনের প্রতি বাড়তি মনোযোগ দেয়া নির্বাচন কমিশনের জন্য জরুরি। নির্বাচন কমিশন আন্তরিক হলে ধাপে ধাপে অনুষ্ঠেয় পৌরসভা নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করা মোটেই অসম্ভব নয়।

তবে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে এককভাবে নির্বাচন কমিশনের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। আমরা সবাই যার যার মতো চলব আর কমিশন আমাদের নির্বাচন করে দেবে এবং সেই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে- এমনটি ভাবা ঠিক নয়। দেশের সর্বত্র যদি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, পরমতসহিষ্ণুতা, আইনের শাসন, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ইত্যাদি অনুপস্থিত থাকে- সেখানে নির্বাচন কমিশনের মাত্র কয়েকজন ব্যক্তির পক্ষে একটি ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেয়া সম্ভব নয়, তা বলাই বাহুল্য। স্বাধীন প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি যোগ্য ও ন্যায়নিষ্ঠ নির্বাচন কমিশন, রুচিশীল ও পরিচ্ছন্ন মনমানসিকতার ধারকবাহক রাজনৈতিক দল এবং সংবেদনশীল নাগরিক সমাজ যদি যূথবদ্ধভাবে কাজ করে, তাহলে এবারের পৌরসভা নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন