বিনিয়োগে স্থবিরতা

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৭ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার প্রভাবে ব্যবসায়-বাণিজ্যে স্থবিরতা অব্যাহত রয়েছে। জানা গেছে, করোনার নেতিবাচক প্রভাবে বিনিয়োগে মন্দা দেখা দেয়ায় নতুন শিল্প স্থাপনের গতিও মন্থর হয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয়; এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগও কমে গেছে। গত অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছিল ১৭ কোটি ডলার।

অথচ চলতি অর্থবছরের একই সময়ে মাত্র ৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার এসেছে। তাছাড়া গত অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে শেয়ারবাজারে ৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার বিদেশি বিনিয়োগ এলেও চলতি অর্থবছরের একই সময়ে নতুন করে কোনো বিনিয়োগ তো আসেইনি; বরং পূর্বের বিনিয়োগের স্থিতি থেকে ১৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার তুলে নেয়া হয়েছে। যদিও অর্থনীতিবিদ-ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেই আশার বাণী শোনাচ্ছেন; বলছেন, এ স্থবিরতা দ্রুত কেটে গিয়ে আশার আলো দেখা যাবে। কিন্তু তারপরও এ মুহূর্তে দেশের সার্বিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি আমাদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ বৈকি।

কবে নাগাদ করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আসবে- এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো দেশই সুনির্দিষ্ট কিছু বলতে পারেনি। ফলে সঙ্গত কারণেই বিশ্বব্যাপী ব্যবসা-বাণিজ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে। তাছাড়া কাজের ক্ষেত্র সংকুচিত হওয়ার প্রেক্ষিতে ভোক্তার আয় কমে যাওয়ায় কমেছে পণ্যের চাহিদা ও উৎপাদন। এসব কারণেও বিনিয়োগকারীরা নতুন বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে বিনিয়োগের উন্নতি হবে না, তা বলাই বাহুল্য। এ অবস্থায় আমাদের অর্থনীতিকে এক ধরনের মন্দার মধ্য দিয়েই টিকে থাকার প্রয়াস চালাতে হবে এবং সম্ভাবনার নিরিখে নতুন কৌশল নিয়ে অগ্রসর হতে হবে।

বিশ্বের খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা করোনার প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি ও আর্থিক কাঠামোর করুণ পরিণতির ব্যাপারে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। করোনাভাইরাসের প্রকোপ বিশ্ব অর্থনীতিকে যেমন সংকটে নিমজ্জিত করেছে, একইভাবে দেশের অর্থনীতিও নেতিবাচক পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে। লন্ডনভিত্তিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের ইন্টেলিজেন্স ইউনিট করোনাভাইরাস মহামারীর প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশেই ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও বিপর্যয় নেমে আসার পূর্বাভাস দিয়েছে। এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ‘রূপান্তরিত করোনাভাইরাস’ যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডস ও অস্ট্রেলিয়ার পর এশিয়ার দেশগুলোতেও হানা দিয়েছে। বাংলাদেশেও করোনার ‘নতুন স্ট্রেইন’ শনাক্তের সংবাদ পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় দেশের ব্যবসায়-বাণিজ্যে পুনরায় স্থবিরতা সৃষ্টির আলামত স্পষ্ট হতে শুরু করেছে, যা নিয়ে দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা গভীরভাবে চিন্তিত। আশার কথা, সরকার এসব সমস্যা সামাল দেয়ার জন্য শুরু থেকেই সতর্ক রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকগুলো প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে তা বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সুষম বণ্টনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, যথাযথ বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সঠিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা নিরসনের উদ্যোগ গ্রহণ করে প্রকৃত শিল্পোদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তা না হলে দুঃসহ এ পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা বাস্তবিকই কঠিন হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন