তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা: দ্রুত বিচারের অন্যতম অন্তরায়

 সম্পাদকীয় 
২৬ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
পুলিশ
প্রতীকী ছবি

সাধারণ মামলা তো বটেই, এমনকি চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোরও একটি বড় অংশ তদন্তের দীর্ঘসূত্রতার কারণে বিচারবহির্ভূত থেকে যাচ্ছে। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডটির কথাই ধরা যাক। মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনী ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার তাদের ভাড়া বাসায় খুন হয়েছিলেন। থানা পুলিশ ও ডিবির হাত ঘুরে ঘটনার দুই মাস পর তদন্তের দায়িত্ব পায় র‌্যাব। এরপর দফায় দফায় সময় নিয়েও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি দায়িত্বপ্রাপ্তরা। সর্বশেষ ৭৬ বারের মতো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার তারিখ পেছানো হয়। ২৯ ডিসেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন বিচারিক আদালত। শুধু সাগর-রুনী নয়, খুনের অনেক মামলারই বিচার হতে পারছে না তদন্ত না হওয়ার কারণে। বলা বাহুল্য, বিচার বিলম্বিত হওয়ার কারণে বেড়ে চলেছে মামলাজট। মামলার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সুপ্রিমকোর্টসহ দেশের সব আদালতে ৩৬ লাখ ৭৪ হাজার ৭২৮টি মামলা বিচারের জন্য ঝুলে আছে। এর মধ্যে অধস্তন আদালতে ৩১ লাখ ৭২ হাজার ৪৩টি, হাইকোর্ট বিভাগে ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৬৮টি এবং আপিল বিভাগে ২৩ হাজার ৬১৭টি মামলা ঝুলে আছে।

বলা বাহুল্য, সময়মতো তদন্ত না হওয়ার কারণে মামলার বিচার হচ্ছে না, আর বিচার বিলম্বিত হওয়ার কারণে ঘটনার সময় গ্রেফতার আসামিরা বছরের পর বছর কাটাচ্ছেন জেলের অভ্যন্তরে। এদের কেউ কেউ উচ্চ আদালতে এসেছেন জামিনের জন্য; কিন্তু দীর্ঘদিনেও মামলার তদন্ত রিপোর্ট না পাওয়ায় আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। কখনও কখনও তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেছেন, দিচ্ছেন বিভিন্ন দিকনির্দেশনা। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেছেন, বিষয়টিতে সংশ্লিষ্ট দফতরের গুরুত্ব দেয়া উচিত। আমরা মনে করি, প্রয়োজনে লোকবল বাড়িয়ে বিষয়টির সুরাহা করা উচিত।

বিচারকার্য বিলম্বিত হলে তার ফল কী হয়, একমাত্র ভুক্তভোগীরাই তা টের পান। বিচারপ্রার্থীরা বছরের পর বছর যে আর্থিক, দৈহিক ও মানসিক ভোগান্তির শিকার হন, তা এককথায়-অবর্ণনীয়। মামলার নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হলে ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। বলা হয়ে থাকে- জাস্টিস ডিলেইড, জাস্টিস ডিনায়েড। সুতরাং ন্যায়বিচারের স্বার্থে এবং বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি দূর করতে বিচারব্যবস্থায় গতি ফেরাতে হবে। আর এই গতি ফেরানোর জন্য প্রথম দরকার সময়মতো মামলার তদন্ত প্রতিবেদন সম্পন্ন করা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে আন্তরিক হয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন