ব্যাংকিং খাতে তারল্য বৃদ্ধি: বিনিয়োগে মন্দাভাব কাটাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

 সম্পাদকীয় 
২৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যাংকে তারল্য বা অলস টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে মোট তারল্যের পরিমাণ ৩ লাখ ৭১ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকের হাতে ১ লাখ ১৫ হাজার ৮৮৩ কোটি, বিশেষায়িত ৩ ব্যাংকের হাতে ১ হাজার ৩১২ কোটি, বেসরকারি (কনভেনশনাল) ৩৪ ব্যাংকের হাতে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮৩৮ কোটি, বেসরকারি ইসলামিক ৮ ব্যাংকের হাতে ৪২ হাজার ৪৬২ কোটি এবং বিদেশি ৯ বেসরকারি ব্যাংকের হাতে রয়েছে ৩৩ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, ১ বছর আগেও দেশের বেশিরভাগ ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান তীব্র তারল্য সংকটে ভুগছিল। দেখা গেছে, বেসরকারি ব্যাংকগুলো নগদ জমা সংরক্ষণের হার (সিআরআর) ও সহজে বিনিময়যোগ্য সম্পদ (এসএলআর) সংরক্ষণে হিমশিম খাচ্ছিল। এ অবস্থায় সেসময় তারল্যের সংস্থান করতে বেশি সুদে অন্য ব্যাংকের আমানত বাগিয়ে নেয়ার প্রতিযোগিতায়ও নেমেছিলেন অনেক ব্যাংক কর্মকর্তা।

টাকার সংকট ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের জন্য যেমন এক ধরনের বিপদ; তেমনি বিনিয়োগ করতে না পারা অতিরিক্ত তারল্যও সমান বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। কারণ এর ফলে ব্যাংকের পোর্টফোলিও বড় হলেও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, করোনাকালে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি না হওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতিতে করোনার নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে মানুষের মনে তৈরি হওয়া উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার প্রতিফলন ঘটেছে দেশের ব্যাংকিং খাতে। বস্তুত গত কয়েক বছর ধরেই বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে আছে। বেসরকারি বিনিয়োগে অর্থায়নের প্রধান দুটি উৎস ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা নেই বললেই চলে এবং ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

শিল্প খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হলে সর্বাগ্রে পুঁজির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে ঋণের সুদহার সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করাও জরুরি। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, শিল্পের জন্য জমি প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে সরকারের পুরো প্রশাসনযন্ত্রকে সর্বোচ্চ সেবা প্রদানের মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

তবে বিনিয়োগের মন্দাভাব কাটাতে করোনাকালে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল ও আন্তরিক হতে হবে। দেশে পর্যাপ্ত বেসরকারি বিনিয়োগ না হলে অর্থবছর শেষে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে না। কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি অপরিহার্য। দেশে বাণিজ্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করে বিনিয়োগে মন্দাভাব কাটিয়ে ওঠার পদক্ষেপ নেয়া হবে, এটাই প্রত্যাশা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন