পরামর্শকের পেছনে বড় ব্যয়

অযৌক্তিক শর্তের ঋণ পরিহার করাই শ্রেয়
 সম্পাদকীয় 
২৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বব্যাংক ও এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) ঋণ সহায়তায় টয়লেট নির্মাণ, পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যবিধি শেখানো সংক্রান্ত একটি প্রকল্পের জন্য ৭৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকার পরামর্শক নিয়োগের প্রস্তাবকে আমাদের কাছে অযৌক্তিক বলেই প্রতীয়মান হয়।

তবে অবাক করার বিষয় হল, পরামর্শক নিয়োগে প্রস্তাবিত ব্যয়ের পরিমাণ নাকি আরও বেশি ছিল। পরিকল্পনা কমিশনের আপত্তির মুখে তা কিছুটা কমে এই অঙ্কে দাঁড়িয়েছে। বস্তুত দাতা সংস্থা বা উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ সহায়তায় প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা ধরনের শর্ত আরোপ করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে থাকে ঋণের উচ্চ সুদ এবং স্বল্প সময়ে অর্থ পরিশোধের মতো কঠিন শর্ত।

উন্নয়ন সহযোগীদের শর্ত অনুযায়ী পরামর্শক নিয়োগের বাধ্যবাধকতা তো থাকেই। তাদের শর্ত মেনে অনেক সময় অপ্রয়োজনেও পরামর্শক নিয়োগ দিতে হয়। এ কারণে এসব উন্নয়ন সহযোগীর সহায়তা যতটা সম্ভব পরিহার করে নিজস্ব অর্থায়নে এবং নিজেদের অভিজ্ঞতার আলোকে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে মনোযোগী হওয়াই শ্রেয়। বড় এনজিওগুলোকেও এসব কাজে যুক্ত করা যেতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। দাতা গোষ্ঠীর নানা শর্তের বিষয়টি তো সংশ্লিষ্ট সবারই জানা।

কোভিড-১৯-এর প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত ‘মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮৮২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৫০ কোটি ৮২ লাখ টাকা এবং বিশ্বব্যাংক ও এআইআইবির ঋণ সহায়তা থেকে ১ হাজার ৮৩১ কোটি ৭৬ লাখ টাকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রকল্পের সিংহভাগ অর্থায়ন উন্নয়ন সহযোগীরা করলেও মনে রাখতে হবে এটি ঋণ, অনুদান নয়।

এ অর্থ সুদসহ পরিশোধ করতে হবে। বস্তুত আমরা মনে করি, কোনো উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবেই অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো যেমন উচিত নয়, তেমনি কোনো প্রকল্পে অপচয়ও কাম্য নয়। এ ব্যাপারে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশনাও রয়েছে।

সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ ও টাকা বাড়ানোর ধারা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তারপরও দুর্ভাগ্যজনকভাবে একের পর এক প্রকল্পে অপচয়ের খবর মিলছে। বর্তমানে করোনাভাইরাসের কারণে সরকারের আয় কমেছে এবং ব্যয় বেড়েছে। জানা গেছে, ব্যয় সাশ্রয়ের চিন্তা থেকে অন্তত ৫০০ প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় বাহুল্য ব্যয় বাদ দিয়ে বা কমিয়েই যে কোনো প্রকল্প প্রস্তাব দেয়া উচিত।

একটি প্রকল্প যখন চূড়ান্ত হয়ে একনেকে আসে, তখন তার চুলচেরা বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয় না। এর আগেই প্রকল্পের কোনো খাতে কোনো অপচয়ের ব্যাপার থাকলে তা রোধ করতে হবে। করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির বিষয়টিও সংশ্লিষ্টদের ভেবে দেখতে হবে। তাছাড়া প্রকল্প প্রস্তাবে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানোর পেছনে দুর্নীতি বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা দরকার। উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ সহায়তার প্রকল্প প্রস্তাবে অযৌক্তিক শর্ত আরোপ করা হলে তা অনুমোদনের বিষয়টি ভেবে দেখা উচিত বলেই আমরা মনে করি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন