দুই স্কুলে জিয়ার নাম বদলের আদেশ হাইকোর্টে স্থগিত

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৯ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বগুড়ার গাবতলীতে দুটি বিদ্যালয় থেকে জিয়াউর রহমানের নাম বদলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেয়া আদেশ ছয় মাসের জন্য স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়েরুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে রুল জারি করেছেন আদালত। রুলে ওই দুই স্কুলের নাম পরিবর্তনের আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক, জেলা শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্টদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। স্কুল দুটি হল শহীদ জিয়াউর রহমান গার্লস হাইস্কুল। পরে নাম করা হয় সুখানপুকুর বন্দর গার্লস হাইস্কুল। আরেকটি হচ্ছে গাবতলী শহীদ জিয়া হাইস্কুল, পরিবর্তন করে নামকরণ করা হয় গাবতলী পূর্বপাড়া হাইস্কুল। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিমকোর্ট বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। তার সঙ্গে ছিলেন মো. আকতার রসুল মুরাদ, নুসরাত ইয়াসমিন, আবদুল্লাহিল মারুফ ফাহিম, নুরে আলম সিদ্দিকী। ১৯ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. কামরুল হাসান স্কুল দুটির নাম পরিবর্তন করতে আদেশ দেন।

পরে এ আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিমকোর্ট বারের সম্পাদক মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ২০০০ সালে প্রথম স্কুলটি শহীদ জিয়া হাইস্কুল নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্কুলের সব কার্যক্রম সেই নামেই পরিচালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল কোনো কারণ উল্লেখ ছাড়াই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এই নামটি পরিবর্তন করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই আদেশটি চ্যালেঞ্জ করে স্কুলের ম্যানিজিং কমিটির চেয়ারম্যান মো. এনামুল হক নতুন এর পক্ষে রিট করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। এদিকে, ১৯৯৬ সালে গাবতলী শহীদ জিয়াউর রহমান গার্লস হাইস্কুল নামে আরেকটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং এই নামেই স্কুলের সব কাজ পরিচালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল এই নামটি পরিবর্তন করা হয় কোনো কারণ উল্লেখ ছাড়াই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই আদেশটি চ্যালেঞ্জ করে স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোর্শেদ মিল্টনের পক্ষে অপর একটি রিট করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। ওই দুই রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট আজ এ আদেশ দেন।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন