চট্টগ্রামে আইসিইউতে চাপ বাড়ছে করোনা রোগীর

 এমএ কাউসার, চট্টগ্রাম 
২৯ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীর চাপ বেড়েছে আইসিইউতে। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালসহ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে করোনার প্রথম ঢেউয়ের মতো আইসিইউর হাহাকার শোনা যাচ্ছে। অতিরিক্ত সংক্রমণ আর গুরুতর রোগীর চাপ বাড়লে প্রথমদিকের মতো আবারও বেকায়দায় পড়তে হবে স্বাস্থ্য বিভাগকে। যদিও জেলা সিভিল সার্জনের দাবি, সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা থাকায় করোনা রোগীর চিকিৎসায় সংকট হবে না। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী করোনা পরীক্ষা দিতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বিদেশগামীদের। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে ভিড়ের মধ্যে খোলা জায়গায় তাদের করোনার নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ফলে নতুন করে সুস্থ ব্যক্তি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসের রূপ পাল্টে শক্তিশালী আকার ধারণ করলে সৃষ্টি হতে পারে বিপজ্জনক পরিস্থিতি। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসা সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়বে। কেননা, কোভিড চিকিৎসায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে চালু হওয়া ফিল্ড হাসপাতালগুলো বন্ধ হওয়ার পর আর চালু হয়নি। করোনার প্রথম ধাপে যে পরিমাণ বেড ছিল, এখন সেগুলো নেই। করোনার প্রথম ধাপে চট্টগ্রামে ১০টির মতো ফিল্ড হাসপাতাল চালু হয়েছিল। সংক্রমণ কমে আসায় এগুলোর বেশির ভাগই বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে চালু রয়েছে মাত্র তিনটি। এগুলো হল- বিদ্যানন্দ, বিজিএমইএ ও আল মানাহিল ফিল্ড হাসপাতাল। করোনা শুরুর পর সংক্রমণ বেড়ে গেলে কয়েক মাস চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে তীব্র সংকট ছিল আইসিইউ আর অক্সিজেনের। যা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় সংশ্লিষ্টদের। সাড়ে তিন মাস সংক্রমণ কমায় স্বস্তি ফিরলেও আবার বাড়ছে সংক্রমণ। ফলে আইসিইউতে চাপ বাড়ছে রোগীর। সংকটাপন্ন রোগীর প্রয়োজনে আইসিইউ শয্যা খালি না পাওয়ার ঘটনা ঘটছে।

সোমবার সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের সরকারি-বেসরকারি আটটি এবং কক্সবাজারের একটি ল্যাবে এক হাজার ৫৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫৪ জনের দেহে। এদের মধ্যে ১৩৯ জন নগরীর বাসিন্দা এবং ১৫ জন বিভিন্ন উপজেলার। একই সময়ে নগরীতে করোনা আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের প্রধান করোনা পরীক্ষাগার ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি) বিদেশগামীদের বাধ্যতামূলক করোনা টেস্টসহ ৮০০ জনের নমুনা পরীক্ষা করানো হয়। তাতে করোনা শনাক্ত হয় ৩০ জনের দেহে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি যুগান্তরকে বলেন, আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। তাই আইসিইউতে রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। হাসপাতালগুলোতে রোগী কিছুটা বাড়লেও এখনও সক্ষমতা ছাড়িয়ে যায়নি। তবে শঙ্কা রয়েই গেছে। যে কোনো সময় ভাইরাসটি শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। তিনি বলেন, আইসিইউ বসালে হবে না, এর জন্য অভিজ্ঞ জনবল প্রয়োজন। আইসিইউ শয্যার চেয়েও করোনা রোগীর জন্য অক্সিজেন সরবরাহ এবং হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা বেশি প্রয়োজন। এজন্য হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন লাইন ও হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা নিয়ে কাজ করছি। কোভিড হাসপাতাল হিসেবে সবচেয়ে বেশি রোগীর চাপ থাকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে। করোনার সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের ১০টি আইসিইউ শয্যার সবই রোগীতে পরিপূর্ণ থাকছে।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আবদুর রব বলেন, বর্তমানে প্রায় প্রতিদিন আইসিইউ শয্যাগুলোতে রোগী ভর্তি থাকছে। হাসপাতালের ১০টি আইসিইউ ও আটটি এইচডিইউ শয্যা রয়েছে। ১০০ শয্যার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালটিতে সোমবার আইসিইউতে সাতজনসহ মোট ৮০ জন রোগী ভর্তি রয়েছে।

করোনা পরীক্ষায় বিদেশগামীদের ভোগান্তি : সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশ যাত্রার আগে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যাত্রীকে করোনা পরীক্ষার সনদ সংগ্রহ করতে হয়। এজন্য বিদেশগামীদের টিকিট, ভিসা এবং পাসপোর্ট দেখিয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে গাড়ি রাখার স্থানে উপরে ত্রিপলের ছাউনি দিয়ে বিদেশগামীদের বসার স্থান তৈরি করা হয়েছে। সেখানেই চট্টগ্রাম নগরী ও উপজেলার বিদেশ যাত্রীরা এসে ভিড় করেন। করোনাভাইরাসের নমুনা দিতে প্রতিদিন হাজারো বিদেশগামী যাত্রীর সঙ্গে একাধিক আত্মীয়স্বজন আসেন। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত থাকে ভিড়। সেখানে এক পাশে বসানো হয়েছে করোনার বুথ। পাশাপাশি দুটি টেবিলে রাখা হয়েছে করোনার নমুনা নেয়ার বিভিন্ন উপকরণ। একজন বিদেশগামী যাত্রীর নাম ডাকেন, আরেকজন নাক ও গলার ভেতর থেকে লালা সংগ্রহ করছেন। এরপর আরেকজন নমুনা সংরক্ষণ করছেন। ভিড়ের মধ্যে খোলা জায়গায় এভাবেই নেয়া হচ্ছে করোনার নমুনা।

মধ্যপ্রাচ্যগামী ইকবাল হোসেন বলেন, করোনা পরীক্ষা করতে এসে অনেক বিদেশগামী পজিটিভ শনাক্ত হচ্ছেন। এত ভিড়ে একজন করোনা রোগী থাকলেই তো সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর মধ্যে অল্প জায়গায় হাজারো মানুষকে অবস্থান করতে হচ্ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন