ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

হল খুলে পরীক্ষার দাবি ছাত্রলীগ ও বাম সংগঠনগুলোর

 সরকার মাসুম, ইবি 
২৬ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আবাসিক হল বন্ধ রেখে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর চূড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ২২ ডিসেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের-ইবি ১১৯তম একাডেমিক কাউন্সিলে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত হলে তার দায়ভার কর্তৃপক্ষ নেবে না। ছুটির পর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষা গ্রহণের অনুমতিও দেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী বিভাগগুলো ইতোমধ্যে পরীক্ষা নিতে তোড়জোড় শুরু করেছে। তবে আবাসিক ও পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে পরীক্ষায় অংশ নিতে আপত্তি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

হল খুলে পরীক্ষা গ্রহণের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমজুড়ে প্রতিবাদে সরব রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাট্টা প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলো। শিক্ষার্থীদের পরিবহন ও আবাসিক সুবিধা নিশ্চিত করে পরীক্ষা গ্রহণের পরিবেশ ও পরীক্ষা নেয়ার দাবি করেছেন। যৌক্তিক দাবি আদায়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনেও যেতে ইতোমধ্যে ইঙ্গিতও দিয়েছেন নেতাকর্মীরা। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে হল খুলে পরীক্ষার আয়োজন, অনলাইন ক্লাসে অধিকাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত না থাকাতে রিভিউ ক্লাসের মাধ্যমে কোর্স শেষ করে তারপর পরীক্ষা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে বিবৃতি দিয়েছে বাম সংগঠন ছাত্র মৈত্রী ও ছাত্র ইউনিয়ন।

ছাত্র মৈত্রী বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আবাসিক সুবিধা ছাড়া পরীক্ষা নেয়া হলে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে পরীক্ষা দেবে। এতে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিস্তার বাড়বে। এছাড়া অর্ধেক শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে অনুপস্থিত ছিল। তাই রিভিউ ক্লাসের ব্যবস্থাপূর্বক স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে আবাসিক হলসমূহ খুলে দিয়ে পরীক্ষা নেয়া হলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি যেমন কমবে, তেমনি পড়াশেখার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হবে। আবাসিক হল খুলে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে নয় দফা প্রস্তাবনাও দিয়েছেন তারা। ছাত্র ইউনিয়নের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একাডেমিক কাউন্সিলে আবাসিক হল বন্ধ রেখে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্তটি অযৌক্তিক ও অবিবেচনাপ্রসূত। হল বন্ধ রেখে পরীক্ষা নেয়া হলে শিক্ষার্থীরা অনেক ভোগান্তির শিকার হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকায় আবাসন সুবিধা পর্যাপ্ত নেই। এছাড়াও পরীক্ষাকালীন মেস ভাড়া বহন করা শিক্ষার্থীদের জন্য কষ্টসাধ্য। বিবৃতিতে নেতারা বলেন, আবাসিক হলগুলো খুলে না দেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন করোনা সংক্রমিত হওয়ার বিষয়টি সামনে এনেছেন। কিন্তু মেসে একই রুমে একাধিক শিক্ষার্থী থাকলে সেখানেও করোনা সংক্রমিত হওয়ার শঙ্কা আরও বেশি। এছাড়া যারা দূর দূরান্ত থেকে এসে পরীক্ষা দেবে তাদের জন্য সাময়িক থাকার ব্যবস্থায় নানা জটিলতা রয়েছে, বিশেষ করে মেয়েদের। অনেক ক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তার ঘাটতি সৃষ্টি হতে পারে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি স্বাস্থ্যবিধি মেনে আবাসিক হলগুলো খুলে দিন। যাতে শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে।

শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হল খুলে পরীক্ষা নেয়ার দাবি তুলেছেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান লালন যুগান্তরকে বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে আমরা একমত। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সঙ্গে আমরা কথা বলব। দাবি আদায় না হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে দাবি আদায়ে মাঠে নামব। প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, আবাসিক ও পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করে পরীক্ষা নেয়া হোক। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, এ ব্যাপারে আমিও ব্যক্তিগতভাবে পজিটিভ। তবে একাডেমিক কাউন্সিলের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আমরা সরকারের সবুজ সংকেতের দিকে চেয়ে আছি। ইউজিসির সঙ্গেও আমি এ ব্যাপারে কথা বলব।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন