হুমকির মুখে বেড়িবাঁধ

দেলদুয়ার ও ঈশ্বরগঞ্জে নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন
 দেলদুয়ার (টাঙ্গাইল) ও ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 
২৯ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
হুমকির মুখে বেড়িবাঁধ
ফাইল ছবি

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ড্রেজার বসিয়ে ধলেশ্বরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। এতে হুমকির মুখে পড়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ ও বাজার।

আর এ সরকারি সম্পদ লুটের মদদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের বাবুপুর-লাউহাটী পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের বাবুপুর স্লুইসগেটের দক্ষিণ পাশের নদীর চরে দুটি ড্রেজার বসিয়ে উত্তোলন করা হচ্ছে এ বালু।

সরেজমিন গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেউলী ইউনিয়নের মাইঠাইন গ্রামের রাজিব ও রায়হান নামের দুই যুবক ধলেশ্বরী নদীর পাড়ে দুটি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে স্থানীয়দের মাঝে বিক্রি করছেন।

দু’তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পাঁচ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইন তৈরি করে উত্তোলন করা হচ্ছে বালু। তাদের এ কাজে স্থানীয় এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

সংবাদকর্মীরা বালু উত্তোলনের ছবি তুলতে গেলে দ্রুত ঘটনাস্থলে চলে আসেন ড্রেজারের মালিক মো. রাজিব মিয়া।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ধলেশ্বরীর পাড়ে মৎস্য চাষ প্রকল্পের জন্য পুকুর খনন করতে ড্রেজার দুটি বসানো হয়েছে।

উত্তোলন করা বালু কেন নদীর পাড়ে স্তূপাকারে না রেখে পাইপলাইন বসিয়ে এলাকায় বিক্রি করছেন এমন প্রশ্নে তিনি সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, এ নিউজ ছাড়া আপনাদের আর কোনো নিউজ নেই?

বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত থাকা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. ফজলুল হক বলেন, দেওলী বেড়িবাঁধের দক্ষিণে নদীর পাড়ে ড্রেজার বসাতে উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসকের অনুমতিপত্র আমার কাছে রয়েছে।

এ ব্যপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইমরান খান বলেন, উপজেলার কোথাও ড্রেজার মেশিন বসানোর কোনো অনুমতি দেয়া হয়নি। বরং ড্রেজার ধ্বংসে এসিল্যান্ড অফিস সব সময় সোচ্চার।

অনুমতি দেয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গণি বলেন, এ ধরনের অনুমতি দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এদিকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলার রাজিপুর ইউনিয়নের লাঠিয়ামারি বালু ঘাটের সরকারি কোনো অনুমোদন নেই। তারপরও ওই ঘাট থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে। সোমবার সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, লাঠিয়ামারি বালু ঘাটে অর্ধশতাধিক ট্রলি ও ট্রাক্টর বালু বোঝাই করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, এলাকার মোশারফ, সাইফুল, সোহেল মিয়া, মোছা মিয়া, বাদল, জুলহাস, সরাফতসহ আরও অনেকে বালু এ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন।

এদের নেপথ্যে রয়েছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। এ ব্যাপারে ব্যবসায়ী বাদল বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান সরকারি ও তার ব্যক্তিগত কাজের জন্য কিছু বালু নিয়েছেন।

এছাড়া ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার গুচ্ছগ্রামের মাটি ভরাট করে দিতে বলায় আমরা ব্যক্তিগত খরচে তা দিয়েছি। ইউএনও জাকির হোসেন বলেন, নদী থেকে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করার কোনো নিয়ম নেই। বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন