রাজবাড়ীতে অবৈধ ক্লিনিক ডায়াগনস্টিকের ছড়াছড়ি

মোটা অংকের রাজস্ব ফাঁকি
 হেলাল মাহমুদ, রাজবাড়ী 
২২ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
রাজবাড়ীতে অবৈধ ক্লিনিক ডায়াগনস্টিকের ছড়াছড়ি
ফাইল ছবি

রাজবাড়ীতে যত্রতত্রভাবে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য মতে জেলায় ২৬টি ক্লিনিক ও ৬১টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর বাইরেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে আরও কিছু এমন প্রতিষ্ঠান।

তবে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের নেই স্বাস্থ্য বিভাগের লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র। আবার কিছু প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স থাকলেও সেটিরও নবায়ন নেই। ফলে মোটা অংকের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চলছে এসব প্রতিষ্ঠান।

অপরদিকে, বেসরকারি ক্লিনিকের ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী যে কয়েকজন নিজস্ব ডাক্তার ও ডিপ্লোমা নার্সসহ জনবল থাকার কথা তা নেই কোনো ক্লিনিকে। সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারের উপর নির্ভরশীল এসব ক্লিনিক চলছে প্রশাসনের নাকের ডগাতেই।

ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিস্থিতিও একই রকমের। অধিকাংশ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেই প্যাথলজিস্ট টেকনিশিয়ান ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। তারপরও বছরের পর বছর চলছে এসব প্রতিষ্ঠান।

ফলে উন্নত চিকিৎসাসেবার নামে মানুষ ঠকানোর ব্যবসায় পরিণত হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। জানা গেছে, ২০১১ সালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত হয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জননী ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অদ্যবধি লাইসেন্স নেই প্রতিষ্ঠানটির। নেই পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্রও। নেই নিজস্ব কোনো চিকিৎসক বা নার্স। পাশেই রয়েছে শাপলা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে আরও একটি প্রতিষ্ঠান।

২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটির লাইন্সেস থাকলেও সেটিও মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে কয়েক বছর আগেই। তবে নতুন করে নবায়নের জন্য আবেদনও করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

নিজস্ব কোনো ডাক্তার না থাকলেও সার্বক্ষণিক সব ধরনের অপারেশন করা হয় বলে রিসিপশনে সাইন বোর্ড টানিয়েছে এ ক্লিনিকটি। রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে আস্থা মা ও শিশু হাসপাতালটি।

২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটির এখন পর্যন্তও লাইসেন্স নেই। হাসপাতালটির নামে প্রতিবন্ধী শব্দ থাকায় ব্যবসা মন্দা চলছিল প্রতিষ্ঠানটির। তাই নতুন রূপে প্রতিবন্ধী শব্দটি কেটে শুধু ‘আস্থা মা ও শিশু হাসপাতাল’ নামে বড় বড় সাইন বোর্ড টানিয়েছেন মালিকপক্ষ।

অপরদিকে, শহরের প্রাণকেন্দ্র নতুন বাজার এলাকায় চৌধুরী মার্কেটের ৩য় তলায় দেখা গেছে আমেনা চক্ষু সেন্টার নামে আরও একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। অথচ সিভিল সার্জন অফিসের হালনাগাদ তালিকাতেই নেই এ প্রতিষ্ঠানটির নাম। শুধু পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্সের ওপর ভিত্তি করেই চক্ষু রোগী দেখছে প্রতিষ্ঠানটি।

এছাড়াও যেসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স আছে তারাও বছরের পর বছর লাইসেন্স নবায়ন না করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আসছে। এমন কি সরকারি নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে বাসাবাড়িতেই গড়ে তুলেছেন চক্ষু ক্লিনিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ এসব প্রতিষ্ঠান।

রাজবাড়ীর আস্থা মা ও শিশু হাসপাতালের মালিক জাকিয়া সুলতানা বলেন, আমাদের কাগজপত্র আছে জানিয়ে বলেন, করোনাকালীন সময়ে আমরা কাগজপত্র নতুন করে নবায়ন করতে পারি নেই, করোনা শেষ হলে অচিরেই আমরা আমাদের ক্লিনিকের কাগজপত্র নবায়ন করব বলে জানান।

এ বিষয়ে রাজবাড়ী বেসরকারি হাসপাতাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ডেন্টাল মালিক সমিতির সভাপতি প্রদীপ্ত চক্রবর্তী বলেন, আস্থা প্রতিবন্ধী মা ও শিশু হাসপাতালসহ কিছু ক্লিনিক একেবারেই অবৈধভাবে তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. মো. ইব্রাহিম টিটন জানান, জেলার সবগুলো ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। যাদের লাইসেন্স নবায়ন বা লাইসেন্স নেই তাদের যথা শিগগিরই লাইসেন্স নবায়ন ও লাইসেন্স করতে বলা হয়েছে এবং এর তালিকা ঢাকায় স্বাস্থ্য অধিদফতরে হাসপাতাল ও ক্লিনিক পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়াও রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কাছে যেসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স নেই বা লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেনি তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

অবৈধ এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে যথাযথভাবে প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে বাড়বে রাজস্ব আয়। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষ পাবে তাদের কাক্সিক্ষত স্বাস্থ্যসেবা। এমন প্রত্যাশা জেলাবাসীর।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন