বোরহানউদ্দিন পৌরসভা নির্বাচন

তফসিল ঘোষণার আগেই তৃণমূলে প্রার্থী চূড়ান্ত

 নীল রতন দে, বোরহানউদ্দিন (ভোলা) 
১৮ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
তফসিল ঘোষণার আগেই তৃণমূলে প্রার্থী চূড়ান্ত
ফাইল ছবি

তফসিল ঘোষণার আগেই বোরহানউদ্দিন পৌরসভা নির্বাচনে তৃণমূল পর্যায় থেকে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে কাউন্সিলর পদে একক প্রার্থী হিসেবে জামায়াত চূড়ান্ত করলেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এখনও চূড়ান্ত করতে পারেনি। এদিকে প্রতিদিনই আওয়ামী লীগের দৃশ্যমান কর্মসূচি দেখা যাচ্ছে।

তবে বিএনপি ও জামায়াতের দৃশ্যমান কোনো কর্মসূচি না থাকলেও তারা কৌশলী ভূমিকায় নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছেন। প্রথম শ্রেণির এ পৌরসভায় ১০ হাজার ৭২০ জন ভোটার।

এর মধ্যে পুরুষ চার হাজার ৩৬০ ও মহিলা চার হাজার ৫০ জন। স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকায় আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলামের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে বলে দলীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

অপরদিকে গত মেয়াদে নির্বাচন করে পরাজিত হওয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান এবারও প্রার্থী হচ্ছেন বলে দলীয় সূত্র জানায়।

জামায়াতের নিবন্ধন না থাকায় স্বতন্ত্র হিসেবে দলের মেয়র পদে রাজনীতিতে অনেকটা নবীন আবদুস সালাম নির্বাচন করবেন বলে নেতারা জানান।

আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের নানামুখী প্রচারণায় ক্রমশ উৎসবমুখর হয়ে উঠছে পৌর এলাকা। প্রতিদিনই পৌর বাজারের অলিগলি ও চায়ের দোকানে নির্বাচনে প্রার্থী নিয়ে আলাপচারিতায় সাধারণ ভোটাররা তাদের মতো করে হিসাব-নিকাশ কষছেন।

ভোটের পালে আগাম হাওয়ায় দুলছেন প্রার্থী, সমর্থক ও ভোটাররা। শুভেচ্ছা সংবলিত প্রার্থীদের ছবিসহ রঙিন পোস্টার, প্ল্যাকার্ড, ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পৌরসভার অলিগলি। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রার্থীর পক্ষে বাহারি প্রচারণাও চোখে পড়ার মতো।

দলীয় সমর্থন পেতে বর্তমান ও সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা নীতিনির্ধারকদের কাছে দৌড়ঝাঁপ চালাচ্ছেন সমান তালে।

বর্তমান মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলামের কোনো বিকল্প নেই বলে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জসিমউদ্দিন হায়দার ও সাংগঠনিক সম্পাদক আ.ন.ম আবদুল্লাহ জানান।

তাছাড়া দলীয় অন্য কেউ ওই পদের প্রার্থিতা দাবিও করেননি। তারা মনে করেন, বর্তমান মেয়রের অসামান্য উন্নয়নের পক্ষে রায় দিয়ে পৌরবাসী তাকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হ্যাটট্রিক বিজয় উপহার দেবেন।

৯টি ওয়ার্ডে একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থীর ব্যাপারে তারা জানান, এ জটিলতা নিরসনে তফসিল ঘোষণার পর এলাকার সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুলসহ দলীয় সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে যার নাম চূড়ান্ত করা হয় তিনিই দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন।

সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। নির্বাচন ঘিরে দীর্ঘদিন ঝিমিয়ে থাকা বিএনপি বর্তমানে একটু নড়চড়ে উঠেছে। তারা ইতিমধ্যে বিএনপির প্রতিটি ওয়ার্ডে একক কাউন্সিলর প্রার্থী করতে দফায় দফায় বৈঠক করছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

তবে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা এখনই তা প্রকাশ করতে চাচ্ছেন না। উপজেলা বিএনপি সভাপতি আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া জানান, বিভিন্ন কারণে তিনি দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে প্রায় এক দশক সরে আছেন।

ফলে প্রার্থীর বিষয়ে তার জানা নেই। তবে সাবেক সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিমের স্ত্রী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাফরুজা সুলতানা জানান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান কবির এবারও ধানের শীষের প্রার্থী হচ্ছেন। তবে এ সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত নয়।

এছাড়া সাবেক পৌর মেয়র সাইদুর রহমান মিলন, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ফজলুর রহমান বাচ্চু মোল্লা ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার আলম খানের নামও আলোচিত হচ্ছে। দলীয় হাইকমান্ড থেকে নির্দেশনার পর তারা প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে কেন্দ্রে পাঠাবেন।

অপরদিকে জামায়াতের আমির মাওলানা শফিউল্যাহ জানান, মেয়র প্রার্থী হিসেবে আবদুস সালাম প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

এছাড়া পৌরসভার সবক’টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীও তারা চূড়ান্ত করেছেন। ১নং ওয়ার্ডে অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা তাজল খালিদ, ২নং ওয়ার্ডে জহিরুল ইসলাম জহির, ৩নং ওয়ার্ডে নেছারউদ্দিন হাওলাদার, ৪নং ওয়ার্ডে মাওলানা ফখরুল ইসলাম, ৫নং ওয়ার্ডে মাওলানা মোসলেহউদ্দিন নাইম, ৬নং ওয়ার্ডে হাফেজ অজিউল্যাজ, ৭নং ওয়ার্ডে আ. অহীদ আনছারী, ৮নং ওয়ার্ডে এখনও চূড়ান্ত হয়নি ও ৯নং ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মাওলানা বশিরউল্যাহ। এছাড়া সংরক্ষিত আসনেও তারা প্রার্থী দিচ্ছেন।

সংরক্ষিত ১নং আসনে মিনারা বেগম, ২নং আসনে ডা. ফাতেমা বেগম ও ৩ আসনে রওশন আরা বেগম নির্বাচন করবেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন