হ্যালো...

জনপ্রিয়তার দৌড়ে কখনই ছিলাম না

‘মায়া : দ্য লস্ট মাদার’ চলচ্চিত্রের গানের জন্য শ্রেষ্ঠ সুরকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন তানভীর তারেক। একই সঙ্গে পেয়েছেন শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড। এ পুরস্কার প্রাপ্তি এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলেছেন আজকের ‘হ্যালো...’ বিভাগে।
 সোহেল আহসান 
২৬ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
ছবি সংগৃহীত

* ‘মায়া : দ্য লস্ট মাদার’ ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

** অভিজ্ঞতা দারুণ। ছবির নির্মাতা মাসুদ পথিক একজন কবি ও সৃজনশীল মানুষ বলেই আমার সঙ্গীতায়জনের ক্ষেত্রে কোনো রকম হস্তক্ষেপ করেননি। পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন। এ জন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞ।

* জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্তির প্রথম খবরটি পাওয়ার পর কার সঙ্গে শেয়ার করেছিলেন?

** মায়ের সঙ্গে। মা বলল, টিভির খবরে বলেছে। পরে আমি তাকে বোঝালাম। তিনি নফল নামাজ পড়তে গেলেন। এ বছর আমার মিউজিক নিয়ে সংগ্রামের দুই যুগে পদার্পণের বছর। সে ক্ষেত্রে একটি ইচ্ছা ছিল আমার, সঙ্গীতে আমার পথচলার পুরনো দিনের সঙ্গী, যাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছি তাদের নিয়ে একটা গেটটুগেদার করার। এর ভেতরেই এ সুসংবাদটি যেন পূর্ণ করল আমাকে।

* সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে এ দীর্ঘ পথচলায় কোন সময়ের কথা বেশি মনে পড়ে?

** প্রথম দিকের কথা। ১৯৯৭ থেকে ২০০২, এ পাঁচ বছর। তখন আমি সাউন্ডটেকের ব্যানারে একটানা কাজ পাই। সঙ্গীতশিল্পী এসআই টুটুল একক ক্যারিয়ার গড়তে চায়, কিন্তু কেউ তাকে সুযোগ দেয় না। এমনকি একক সুরে অ্যালবাম বের করতেও অনেক বাধা আসে তার। তখন সে এলআরবি থেকে বেরোনোর সাহসও পাচ্ছিল না। আমি এক রকম যুদ্ধ করে তখন সাউন্ডটেকে টুটুলের নাম লেখাই সুরকার হিসেবে। এরপর একসঙ্গে জুটি বেঁধে ১৮টি অ্যালবাম করি। সেই সংগ্রাম, গান নিয়ে আমাদের দু’জনার দিন-রাত কেটেছে অডিও আর্ট, ডিজিটোন, সাউন্ডগার্ডেনে। এসব স্মৃতি ভোলার নয়।

* এখনকার মিউজিক তো ভাইরাল রোগে আক্রান্ত। আক্ষেপ হয় না আপনার?

** না, হয় না। কারণ আমি এ জনপ্রিয়তার দৌড়ে কখনই ছিলাম না। আমি বরাবরই পপুলার ক্যাটাগরির চেয়ে সমালোচক পুরস্কার পাওয়ার আকুতি মনে নিয়ে কাজ করেছি। কারণ, জনপ্রিয়তা একটি ভীষণ স্থূল ও বাণিজ্যিক টার্ম। আর ভাইরাল যুগে অগায়করা এখন ভিউয়ের মালিক। সেখানেই স্পষ্ট, জনপ্রিয় শব্দটা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে।

* নতুন কী কাজ করছেন এখন?

** একসঙ্গে অনেক কাজ হাতে নেয়া আছে। শেষ করতে পারিনি। দুটি চলচ্চিত্রের টাইটেল ট্র্যাক, শহীদুল হক খানের একটি চলচ্চিত্রের পুরো সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বও পেয়েছি। অরুণা বিশ্বাসের একটি মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্রের আবহ সঙ্গীতের কাজও আছে হাতে। এছাড়া ‘রাতের গান’ নামে একটি প্রজেক্টে ৫০টি গানের কাজ করছি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন