পূর্ব-তিমুরের পার্লামেন্টের সফটওয়্যার বানাবে বাংলাদেশ

 মিজানুর রহমান সোহেল 
১৭ ডিসেম্বর ২০২০, ০৩:৫৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সফটওয়্যার এবং মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ড্রিম৭১ বাংলাদেশ লিমিটেড আবারো সাফল্য পেয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ পূর্ব তিমুরে। এবার তারা সফটওয়্যার তৈরি করবে পূর্ব তিমুরের পার্লামেন্টের জন্য। 

বাংলাদেশের অনেক তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানি বিদেশে সফটওয়্যার রপ্তানি করলেও সরাসরি অন্য কোনো দেশের সরকারি সংস্থার জন্য সফটওয়্যার তৈরির উদাহরণ খুবই কম। সেদিক থেকে ড্রিম৭১ এর সাফল্য বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি অঙ্গনে একটি মাইলফলকও তৈরি করলো বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।

পূর্ব তিমুরে এটি ড্রিম৭১ এর দ্বিতীয় প্রজেক্ট। গত জুনে পূর্ব তিমুর ইউএনডিপির সাথে ২টি এডুকেশনাল গেম তৈরির জন্য চুক্তিবদ্ধ হয় প্রতিষ্ঠানটি। গেম দুইটির কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ড্রিম ৭১ জানিয়েছে, আগামী জানুয়ারিতে গেম ২টি উদ্বোধন করে দেওয়া হবে।

২০০২ সালে ইন্দোনেশিয়া থেকে স্বাধীনতা পাওয়া পূর্ব তিমুরে দ্রুতই বাড়ছে মোবাইল এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা। গত ১ বছরেই দেশটিতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে শতকরা ১০ ভাগ। 

দেশটির সরকারও চেষ্টা করছে তাদের সরকারি এবং নাগরিক সেবাগুলাকে ডিজিটালাইজ করা। তারই প্রেক্ষিতে দেশটির ন্যাশনাল পার্লামেন্টের সফটওয়্যার তৈরির জন্য দরপত্র আহবান করা হয়। 

বিশ্বের অনেক দেশ থেকে প্রস্তাব জমা পড়লেও কারিগরি এবং আর্থিক প্রস্তাবের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশের ড্রিম৭১। সফটওয়্যারটি তৈরি হবে ইংরেজি, পর্তুগীজ এবং পূর্ব তিমুরের স্থানীয় টেতুম ভাষায়। 

এ প্রসঙ্গে ড্রিম৭১ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বেসিসের পরিচালক রাশাদ কবির যুগান্তরকে বলেন, গত ৫ বছরে দেশের অনেক মন্ত্রণালয় এবং সরকারি সংস্থার সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা হয়েছে ডিম৭১ এর। তারই ধারাবাহিকতায় অন্য দেশের সরকারি সংস্থার সাথেও ই-গভর্নেন্স সেক্টরে কাজ করতে যাচ্ছি। 

আফগানিস্তান এবং ভুটান সরকারের সাথেও বেশ কিছু প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, দেশের অন্তত ১০০ আইটি কোম্পানি আছে যারা ই-গভর্নেন্স সেক্টরে ভালো কাজ করছে। নিজে দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অন্যে দেশের সরকারের সাথেও ভালো কাজ করার সুযোগ আছে বলে মনে করেন দেশের এই তরুণ তথ্যপ্রযুক্তিবিদ। এ ব্যাপারে সরকারি পর্যায়েও সহায়তা প্রত্যাশা করেন তিনি। 

প্রসঙ্গত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, আরব আমিরাত, আফ্রিকার অনেক দেশসহ বিশ্বের ১২টি দেশে সফটওয়্যার রপ্তানি করছে দেশের এই প্রতিষ্ঠানটি। আগামীদিনে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের টেকনোলোজি নিয়েও ব্যাপকভাবে কাজ করার পরিকল্পনা আছে প্রতিষ্ঠানটির।  

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিস (বেসিস) সূত্রে জানা গেছে, দেশের ২০০টি প্রতিষ্ঠান এখন বিশ্বের ৮০টি দেশের তথ্যপ্রযুক্তি সেবা এবং সার্ভিস রপ্তানি করছে। ইতোমধ্যে দেশের তথ্যপ্রযুক্তিখাত থেকে রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলার অর্জন করেছে। ২০২৫ সাল নাগাদ লক্ষ্য এই খাত থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার অর্জন করা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন