‘সাম্প্রদায়িক অপশক্তির হুঙ্কারে পথ হারাবে না বাংলাদেশ’

 যুগান্তর রিপোর্ট 
০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:৪০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি বলেছেন, বীর বাঙালি যখন মহান একাত্তরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও মহান স্বাধীনতা অর্জনের সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করছে, ঠিক সেই মুহূর্তে দেশের শিল্প সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিরোধী গোষ্ঠী আবারও পবিত্র ধর্মকে অপব্যবহার করে একাত্তরের মতো ফনা তুলে বাঙালির উন্নয়ন অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা করছে। কিন্তু কোনো সাম্প্রদায়িক অপশক্তির হুঙ্কারে পথ হারাবে না ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশ।

শনিবার দুপুরে  নিজ নির্বাচনী এলাকা দোলাইপাড়ে বঙ্গবন্ধুর নির্মিতব্য ভাস্কর্যের সামনে দ্রুত বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন ও ভাস্কর্য শিল্প বিরোধী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণজাগরণ গড়ে তোলার লক্ষ্যে মানব শৃঙ্খল কর্মসূচিতে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাবলা বলেন, সমৃদ্ধ ও বিশ্ব দরবারে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের যে উজ্জ্বল ভাবমূর্তি বিরাজমান তা বিনষ্ট করার অপচেষ্টা চলছে। কিন্তু একাত্তরের পুরো বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পাকহানাদার বাহিনীর পাশাপাশি তাদের দোসরদের পরাজিত করেছিল, ঠিক তেমনি এবারও বঙ্গবন্ধুর কন্যার নেতৃত্বে ফনা তোলা সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে প্রতিরোধ করার জন্য দেশের সব শুভবুদ্ধি সম্পন্ন, ধর্মপ্রাণ ও প্রগতিশীল জনতা ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।  

ঢাকা-৪ এর সংসদ সদস্য বাবলার উদ্যোগে আয়োজিত এই মানব শৃঙ্খল কর্মসূচিতে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু এমপি, ৪৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কালাম, সংরক্ষিত কাউন্সিলর নাজমা খোকন, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা সুজন দে, শেখ মাসুক রহমান, ইব্রাহীম মোল্লা, ডিকে সমীর, আওয়ামী লীগ নেতা গিয়াসউদ্দিন গেসু, মাইনুদ্দিন চিশতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা আওলাদ হোসেন, ফয়সাল চিশতী, ইন্দ্রজিত দাস, সুনিল টাইগারসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। মানব শৃঙ্খল কর্মসূচিতে কয়েক সহস্রাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।

মানব শৃঙ্খল কর্মসূচিতে বাবলা বলেন- ইরান, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, ইরাক, মালয়েশিয়া, পাকিস্তানসহ পৃথিবীর প্রায় সব মুসলিম প্রধান দেশে স্ব স্ব দেশের ঐতিহ্য ও জাতির পিতার প্রতিকৃতি আকারে শতশত ভাস্কর্য শিল্প স্থাপিত হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। কেউ যেন ভুলে না যায়, বাংলাদেশে ইসলামের ধারক বাহক হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু, ওআইসিতে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করেছিলেন পল্লীবন্ধু এরশাদ। শুক্রবারে সরকারি ছুটি ঘোষণাও তিনি করেছিলেন। ঢাকাকে যে মসজিদের নগরী বলা হয়, তার রূপকারও আমার প্রয়াত নেতা এরশাদ। আর আাজকের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা যে ইসলাম ও মুসলমানের জন্য নিবেদিত প্রাণ তা সর্বজনস্বীকৃত। 

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোভিডের মতো মরণঘাতী বৈশ্বিক মহামারী সফলভাবে মোকাবেলা করে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে উন্নত-সমৃদ্বশালী ও আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলছেন, ঠিক তখনই একাত্তরের পরাজিত গোষ্ঠী বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিম জনতাকে উস্কে দেয়ার অপচেষ্টার মধ্য দিয়ে ভাস্কর্য শিল্পের বিরোধিতার নামে দেশের শান্তিময় স্থিতিশীল পরিস্থিতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা করছে।

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনের ঘোষণা দেয়ায় তুরস্ক সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান বাবলা আরও বলেন, যখন আমাদের দেশে একটি সাম্প্রদায়িক ধর্মান্ধ গোষ্ঠী আমাদের পবিত্র ইসলাম ধর্মের অপব্যাখ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যসহ বাংলাদেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পরিচয় বহন করে এমন ভাস্কর্য শিল্প ভাঙ্গার হুমকি দেয়, তখন তুরস্কের মতো একটি মুসলিম দেশে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের ঘোষণা নিঃসন্দেহে উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর মুখে চপেটাঘাতের সামিল। সেইদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন গোটা দুনিয়ার স্বাধীনতাকামী মানুষের নেতা হিসেবে পুরো বিশ্বময় বাঙালি জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপিত হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন