হেফাজতের ঢাকা মহানগরীর সভাপতি জুনায়েদ আল হাবীব, সেক্রেটারি মামুনুল হক

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৬ ডিসেম্বর ২০২০, ০৯:০৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
হেফাজতের ঢাকা মহানগরী কমিটি ঘোষণা, সেক্রেটারি মামুনুল হক
মামুনুল হক ও জুনায়েদ আল হাবীব। ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধিতা করে আলোচনায় আসা মাওলানা মামুনুল হককে হেফাজতের ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি করা হয়েছে। আগে প্রয়াত মুফতি আমিনীর ছেলে ও ইসলামী ঐক্যজোটের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসনাত আমিনী এ পদটিতে ছিলেন।

নতুন কমিটির সভাপতি হয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব।

শনিবার সন্ধ্যায় হেফাজতের বর্তমান প্রচার সম্পাদক মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

গত ২৩ ডিসেম্বর (বুধবার) চট্টগামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় এক বিশেষ বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।   

বৈঠকে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর মৃত্যুতে শূন্য হওয়া মহাসচিব পদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেয়া পান হেফাজতের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা নূরুল ইসলাম জিহাদী। 

এছাড়া মাওলানা হাফেজ তাজুল ইসলামকে সভাপতি ও মাওলানা লোকমান হাকীমকে সেক্রেটারি করে চট্টগ্রাম মহানগর কমিটিও ঘোষাণা করা হয়।

হাটহাজারী মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা ও জুনায়েদ বাবুনগরীর মামা আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।

এতে উপস্থিত ছিলেন বর্তমান আমীর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, উপদেষ্টা মাওলানা নোমান ফয়জী, কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা তাজুল ইসলাম, মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া, মুফতী জসিম উদ্দিন, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনাইদ আল হাবীব, মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা লোকমান হাকীম, মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির, মাওলানা হাবীবুল্লাহ আজাদী, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী প্রমুখ।  

বৈঠকে সংগঠনের নায়েবে আমীর মাওলানা আতাউল্লাহকে সিনিয়র নায়েবে আমীর, সহকারী মহাসচিব মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মাওলানা শফিক উদ্দীন, মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী ও মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবীকে যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়। 

এছাড়া সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির পরিধি আরও বৃদ্ধি করে ২০১ সদস্য বিশিষ্ট করা হয়।

প্রসঙ্গত, হেফাজতের ঢাকা মহানগরীর নতুন সভাপতি ও সেক্রেটারিকে নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক রয়েছে। 

মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে নিয়ে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের মাঝে এক ধরনের অস্বস্তি ও চাপা ক্ষোভ দেখা গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তারা। 

জানা যায়, ২০১৩ সালে ঢাকার মতিঝিলে অবস্থান কর্মসূচিকে ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনার পরপরই ঢাকা ছেড়ে লন্ডন পাড়ি জমান তিনি। এছাড়া আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুর পর এক স্মরণসভায় তার ভাষণ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। 

অন্যদিকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যের বিরোধিতা করে বক্তব্য দেয়ায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রদ্রোহের’ অভিযোগ মামলা রয়েছে। 

১৩ নভেম্বর রাজধানীর তোপখানা রোডের বিএমএ ভবনের মিলনায়তনে তিনি বলেছিলেন, যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন করে তারা বঙ্গবন্ধুর সুসন্তান হতে পারে না। এ মূর্তি স্থাপন বন্ধ করুন। যদি আমাদের আবেদন মানা না হয়, আবারও তৌহিদি জনতা নিয়ে শাপলা চত্বর কায়েম হবে।

এ ঘটনায় সারা দেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক। গত ২৭ নভেম্বর হাটহাজারীতে মাহফিলে যোগ দেয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু চট্টগ্রাম মহানগর ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠন মামুনুল হকের চট্টগ্রাম আগমন ঠেকাতে প্রতিরোধ কর্মসূচি ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে। 

রাজপথে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের তীব্র বাধার কারণে ও প্রশাসনের চাপের মুখে মামুনুল হক সে দিন মাহফিলের মঞ্চে উপস্থিত হননি। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে তাকে প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠন। 
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : হেফাজতে অস্থিরতা