বড় দুর্নীতি আগে বন্ধের তাগিদ

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৮ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:১৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
দুর্নীতি
প্রতীকী ছবি

উপর থেকে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। তাহলে নিচের দিকে এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে। অর্থাৎ বড় দুর্নীতি আগে রোধ করতে হবে। তাহলেই ছোট ছোট দুর্নীতি বন্ধ করা সহজ হবে।

শুদ্ধাচার ও দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক এক কর্মশালায় বক্তারা একথা বলেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, সরকারি অফিসাররা জন্ম তারিখ দুই-তিন বছর কমিয়ে দিয়ে থাকেন। জন্ম তারিখের মিথ্যা দিয়ে শুরু হয় জীবনের প্রথম দুর্নীতি। এসব বন্ধ করতে হবে। আগামী প্রজন্মের দায়িত্ব হচ্ছে নিজেরা দুর্নীতিমুক্ত থাকা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা।

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের আয়োজনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। 

জাদুঘরের গাঙচিল মিলনায়তনে কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের মহাপরিচালক মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি মনিমুল হক। অতিথি ছিলেন বিজ্ঞান জাদুঘরের পরিচালক ইমতিয়াজ হোসেন। কর্মশালায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। 

মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বলেন, সরকারি অফিসাররা জন্ম তারিখ দুই-তিন বছর কমিয়ে দিয়ে থাকেন। জজ্ন তারিখের মিথ্যা দিয়ে শুরু হয় জীবনের প্রথম দুর্নীতি। আমার সিনিয়র জন্ম নিয়েছেন আমার পাঁচ বছর আগে। আমি যখন অবসরে যাব এর পাঁচ বছর পরে আমার সিনিয়র অবসরে যাবেন। এটা কি সামঞ্জস্যপূর্ণ? এভাবেই শুরু হয় জীবনের প্রথম দুর্নীতি।

তিনি আরও বলেন, এখনকার বিয়ের অনুষ্ঠানে ৬০ লাখ টাকা খরচ করা হয়। প্রত্যেক অতিথির জন্য ৬০০-৭০০ টাকার খাবারের ব্যবস্থা থাকে। অথচ গরিবদের জন্য কোনো খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয় না। এসব বিয়ের দাওয়াতে অতিথিদের গাড়ি চালকদের জন্য ২০০-৩০০ টাকার খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়।

তিনি আরও বলেন, আপনারা যে সরিষার তেল খান, তা মেশিনের তৈরি। এতে ইউরিক এসিডের পরিমাণ ঘানির তৈরি তেলের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি। ঘানির তেলে ইউরিক এসিড কম থাকে। বাণিজ্যিকীকরণ ও অর্থনীতির স্রোতে দুর্নীতি অনেক বেড়ে যাচ্ছে। দুর্নীতি রোধ করতে হবে। আমরা যারা আছি আর নতুন প্রজন্মের সবাই মিলে দুর্নীতি রোধ করতে হবে।

মূল প্রবন্ধে মনিমুল হক বলেন, উন্নয়নশীল দেশে দুর্নীতি থাকলে উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি হয়। উন্নয়নের পরিমাণ কমে যায়। সমাজকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে নৈতিক শুদ্ধাচার করতে হবে। অনেকের কোনো অভাব নেই, তবুও তারা দুর্নীতি করছেন। শুধু শিষ্টাচার আর নৈতিকতার অভাবেই দুর্নীতি করছেন।

নৈতিক শুদ্ধাচারণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি গাছ থেকে ভালো ফল পেতে হলে দুটি জিনিসের প্রতি নজর দিতে হবে। বীজ ও জমি ভালো হতে হবে। উর্বর জমিতে গাছ লাগাতে হবে। আর যে গাছ লাগানো হবে সেই গাছের বীজ যেন ভালো হয়। তাহলে সেখান থেকে ভালো ফল মিলবে। একটি ভালো থাকলে হবে না দুটোই ভালো থাকতে হবে। তখনই ভালো ফল পাওয়া যাবে। একইভাবে পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদের নৈতিক শুদ্ধাচারণ করতে হবে। এরই মধ্য দিয়ে সমাজে দুর্নীতি কমে আসতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুর্নীতি উপর থেকে আগে বন্ধ করতে হবে। তাহলে নিচের দিকে এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে বড় বড় দুর্নীতি বন্ধে উদ্যোগ নিতে হবে। তাহলে ছোট দুর্নীতি বন্ধ করা সহজ হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন