‘ব্যবসা পরিচালনার জন্য নিজের দক্ষতা ও পারদর্শিতা প্রয়োজন’

 যুগান্তর ডেস্ক 
০৫ জুলাই ২০২০, ১০:৪০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
‘ব্যবসা পরিচালনার জন্য নিজের দক্ষতা ও পারদর্শিতা প্রয়োজন’
ছবি: সংগৃহীত

গুলসান নাসরীন চৌধুরী একজন নারী উদ্যোক্তা। দেশের খ্যাতনামা ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের মধ্যে তিনি একজন। রেডিয়েন্ট ইন্সটিটিউট অব ডিজাইনের চেয়ারপার্সন। 

সাফল্যের সঙ্গে বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনবার। ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) বিভিন্ন কমিটিতে কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। 

এফবিসিসিআই’র জিবি মেম্বারের দায়িত্বও পালন করেছেন দু'বার। গুলসান নাসরীন চৌধুরী সম্প্রতি উদ্যোক্তা হওয়াসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলেন ‍যুগান্তরের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- রীতা ভৌমিক

যুগান্তর : কেমন আছেন? 
গুলসান নাসরীন চৌধুরী : করোনার সময়ে যতটুকু ভালো থাকা যায় ততটুকুই আছি। তবে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি চিন্তিত।

যুগান্তর: একজন উদ্যোক্তায় পরিণত করতে নিজেকে কিভাবে তৈরি করেছেন?
গুলসান নাসরীন চৌধুরী: ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং, ফ্যাশন ডিজাইনিং, মার্চেন্টডাইর্জিং ইত্যাদি ব্যবসা পরিচালনা করার ক্ষেত্রে নিজের দক্ষতা ও পারদর্শিতারও দরকার। তবে লিডারশিপ এবং ব্যবসা উন্নয়নবিষয়ক প্রশিক্ষণগুলো ব্যবসা পরিচালনা উন্নয়নে আমার অনেক কাজে লেগেছে।

যুগান্তর: কিভাবে উদ্যোক্তা হয়ে উঠলেন? 

গুলসান নাসরীন চৌধুরী: আমি তখন দিনাজপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণরি ছাত্রী। স্কুল কর্তৃপক্ষ মেয়েদের তৈরি জিনিস নিয়ে মীনা বাজারের আয়োজন করে। নতুন কিছু তৈরির প্রতি সব সময় ঝোঁক ছিল আমার। 

আমি শার্টিনের ফিতা দিয়ে সুন্দর সুন্দর চুলের রিবন, জন্মদিনে কাগজের রঙবেরঙের টুপি তৈরি করি। মীনা বাজারে আমার তৈরি সব পণ্য বিক্রি হয়ে যায়। এতে উৎসাহ বাড়ল। দিনাজপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে ঢাকায় হলিক্রস কলেজে ভর্তি হই। 

১৯৭৭ সালে আইএ পরীক্ষা দিয়েই গ্লাস অ্যান্ড সিরামিক ইন্সটিটিউটে গ্লাস অ্যান্ড সিরামিক ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হই। ১৯৭৮ সালে গ্লাস অ্যান্ড সিরামিকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হই। এরপর অনেকটা সময় চলে যায় ফ্রিল্যান্স কাজ করে। ২০০৪ সালে ইন্টেরিয়র, বনসাই, ইকোবেনা, ফ্যাশন ডিজাইনের ওপর স্কাই হাই পার্টনারশিপে একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে ব্যবসা শুরু করি।
 
কিন্তু ব্যবসায় লাভ না হওয়ায় ২০০৭ সালে নিজ উদ্যোগে রেডিয়েন্ট ইন্সটিটিউট অব ডিজাইনে ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং কোর্স দিয়ে শুরু করি। এর সঙ্গে ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের কোর্স যুক্ত করি। পরে মাচেন্টডাইর্জিং, অটোকেড, গ্লাস পেইন্ট, জুয়েলারি ডিজাইনে কোর্সগুলো যুক্ত করা হয়। 

বর্তমানে গ্রাফিক্স ডিজাইন, টিভি অ্যাড মেকিং, থ্রিডি ম্যাক্স ইত্যাদি কোর্সও চালু করা হয়েছে।

যুগান্তর:  আপনার এ উদ্যোগে নারীদের কাছ থেকে কি রকম সাড়া পেয়েছিলেন বলে মনে করেন?
গুলসান নাসরীন চৌধুরী: প্রথম প্রথম নারীরা এ প্রশিক্ষণে অংশ নিতে আগ্রহী হলেও অভিভাবকরা আগ্রহ দেখাতেন না। অভিভাবকদের বদ্ধমূল ধারণা ছিল, ফ্যাশন ডিজাইন মানেই তার মেয়ে র‌্যাম্পে মডেলে পরিণত হবে। 

যুগান্তর:  এ সমস্যা থেকে কিভাবে বেরিয়ে এসেছিলেন?
গুলসান নাসরীন চৌধুরী: অভিভাবকদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করি। এর ফলে অনেকের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেতে থাকি। নারীরা যখন কাজ শুরু করল এরপর তাদের আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। কোর্স চলাকালীন ওদের বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে ইন্টার্ন করাই।

যুগান্তর:  কোর্স সম্পন্ন হওয়ার পর ওরা কিভাবে এগিয়ে যাচ্ছে?
গুলসান নাসরীন চৌধুরী: ফ্যাশন ডিজাইনিং ও ইন্টেরিয়রের কোর্স কারিকুলাম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, কোর্স সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওরা স্বাবলম্বী হতে পারে। কোর্স চলা সময়ে ফ্যাশন শো, প্রদর্শনী, মেলা ইত্যাদির আয়োজন করা হয়। 

কাজের মাধ্যমে তাদের গ্রাহকদের সঙ্গে পরিচিত করে দেয়া হয়। বার্য়িং হাউসে মার্চেন্টডাইজার হিসেবে কাজ করতে পারে। এ ছাড়া ইভেন্টে ম্যানেজমেন্ট ফার্মে ড্রেস ডিজাইনার, গার্মেন্টে ফ্যাশন ডিজাইনার, মিডিয়াতে কস্টিউম ডিজাইনার এমনকি ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে ড্রেস প্রোডিউসার হিসেবে কাজ করতে পারে। 

ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, আর্কিটেকচার ফার্ম, মিডিয়াতে ইন্টেরিয়র ডিজাইনার হিসেবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ ব্যবসা করতে চাইলে ট্রেড লাইসেন্স, টিন সার্টিফিকেট, ব্যাংক হিসাব খোলা ইত্যাদি ব্যাপারে সহযোগিতা করা হয়।

যুগান্তর: তিন তিনবার বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালনকালে কখনেও কি কোনো বাধার সম্মুখীন হয়েছিলেন? 

গুলসান নাসরীন চৌধুরী: বিডব্লিউসিসিআই- বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং করছে। সে কারণেই একজন বোর্ড ডিরেক্টর হিসেবে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে বা নীতিনির্ধারক মহলে যোগাযোগ করতে হয়েছে। 

নারী উন্নয়নের কাজগুলো করতে নানারকম বেগ পাওয়ারই কথা ছিল। কিন্তু আমাদের চেম্বারের সুদক্ষ প্রেসিডেন্ট সেলিমা আহমেদ এমপি'র নির্দেশনায় এবং আমাদের নারীবান্ধব সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সক্রিয় হস্তক্ষেপে তেমন একটা সমস্যায় পড়তে হয়নি। আমি তিন টার্মেই নারী উদ্যোক্তার জন্য ভালোভাবেই কাজ করতে পেরেছি।

যুগান্তর: আপনি কবিতা লিখেন, একটি কবিতার বইও বের হয়েছে।
গুলসান নাসরীন চৌধুরী: আমার মনে হয়, বাঙালির মন মানেই, কবিতাপ্রেমী। সবার মনেই কম-বেশি কবিতা লালন করে। 

আমি ছোটবেলা থেকেই কবিতা লিখতাম, আবৃত্তি-নাচ করতাম, ছবি আঁকতাম, মাটি দিয়ে মূর্তি তৈরি করতাম। সংসার আর নানা কাজের ব্যস্ততায় এক সময় কবিতার খাতাগুলো কোথায় যেন হরিয়ে গেল। তারপর এক সময় প্রিয় বন্ধু বিশিষ্ট সাহিত্যিক, নাট্যকার, গীতিকার, সংগীতশিল্পী লায়লা নাজনীন হারুনের উৎসাহে আবার কবিতা  লেখা শুরু করলাম। 

লেখা প্রকাশ থেকে কবি ও প্রকাশক বিপ্লব ফারুক প্রকাশ করলেন আমার কবিতার বই। আমার জন্মদিনে বন্ধু লায়লা নাজনীন হারুন এবং আমার সন্তানেরা আয়োজন করল, আমার প্রথম কবিতার বই ‘সোনা রোদ’-এর প্রকাশনা উৎসব।

যুগান্তর: বন্ধুমহলে আপনার নাচেরও সুনাম রয়েছে।
গুলসান নাসরীন চৌধুরী: একটি শিল্পমনা পরিবারে আমার বেড়ে ওঠা। ছোটবেলায় একটু-আধটু নাচ করতাম। তেমন কিছুই না। তবে নাচ আমার ভালো লাগে।

যুগান্তর: ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং, ফ্যাশন ডিজাইনিং ইত্যাদি পেশায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে? তারা কি অনুকূল পরিবেশে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন?

গুলসান নাসরীন চৌধুরী: ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং, ফ্যাশন ডিজাইনিং, ইকোবেনা, বনসাঁই ইত্যাদি জায়গাগুলোতে নারী শিক্ষার্থী শতকরা ৯০ ভাগ। একজন নারী ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের কাছে বাড়ির কর্ত্রী যতটা খোলামেলা পুরুষ ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের কাছে তিনি সেভাবে বলতে পারেন না।
 
সে কারণেই নারীরা ইন্টেরিয়র ডিজাইনে ভালো করছে। নারী ফ্যাশন ডিজাইনারদের কাছেও মেয়েরা স্বাচ্ছন্দ্যভাবে তাদের সমস্যাগুলোর কথা বলতে পারেন। যা একজন পুরুষ ফ্যাশন ডিজাইনারের কাছে বলতে পারেন না।

যুগান্তর: সম্ভাবনাময়ী দু-একজন নারী উদ্যোক্তার কথা বলবেন কি?

গুলসান নাসরীন চৌধুরী: সম্ভাবনাময় নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে অনেকের নামই বলা যায় - তাদের মধ্যে রয়েছেন রিগেলিয়া দীপা। যিনি রোমান্স ইকেবানা নামে একটি ওয়েডিং ইভেন্ট-এর প্রতিষ্ঠান চালায়। অল্প কজন কারিগর নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। 

এখন তার প্রতিষ্ঠানে নারী -পুরুষ মিলিয়ে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে দীপা দেশ-বিদেশ থেকে প্রচুর পুরস্কারও পেয়েছেন। আরেকজন নারী উদ্যোক্তা দিলারা আলম লাকী। তিনি একজন রন্ধনশিল্পী, দিলারা আলম লাকী অর্ডার অনুযায়ী বিভিন্নরকম খাবার হোম ডেলিভারি দিয়ে থাকেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের রান্নার অর্ডারও নিয়ে থাকেন। 

তার কাজে সাহায্য করার জন্য বেশ কজন নারীর কর্মসংস্থান হয়েছে। লাকীও কাজের স্বীকৃতি হিসেবে নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

যুগান্তর: বিশ্বের ইয়ূথ এন্টারপ্রেণারদের সঙ্গে আমাদের দেশের ইয়ূথ্ এন্টারপ্রেণারদের মধ্যে কোনো পার্থক্য খুঁজে পান কি?

গুলসান নাসরীন চৌধুরী: আমার মনে হয়েছে, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের তরুণ উদ্যোক্তা ও আমাদের দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। যদিও আমদের তরুণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে অনেকেই ক্রিয়েটিভ এবং পরিশ্রমী। কিন্তু বেশির ভাগ উদ্যোক্তাই গদ বাঁধা ব্যবসার দিকে ঝুঁকতে চায়। 

অল্প পরিশ্রম ও অল্প মেধা খাটিয়ে বেশি মুনাফা পেতে চায়। অথচ বিভিন্ন দেশের তরুণ উদ্যোক্তারা নতুন নতুন ব্যবসার কথা ভাবছেন। সেভাবে নিজেদের তৈরি করছেন।

যুগান্তর: সরকার ক্ষুদ্র, মাঝারি উদ্যোক্তাদের এই অর্থবছরে জাতীয় বাজেটে ২০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দিবে। তার মধ্যে ক্ষুদ্র, মাঝারি নারী উদ্যোক্তাদের শতকরা ৫ ভাগ প্রণোদনা দেয়া হবে। এর ফলে নারী উদ্যোক্তারা কতটা উপকৃত হবেন বলে আপনি মনে করেন?

গুলসান নাসরীন চৌধুরী: প্রণোদনার মধ্যে ক্ষুদ্র, মাঝারি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য শতকরা ৫ ভাগ অর্থাৎ ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ আছে। এই অর্থ ঋণ নেয়া যাবে ৪ পার্সেন্ট সুদে। ব্যাংকগুলো ৯ শতাংশই পাবে। কিন্তু প্রতি সুদের বাকি ৫ শতাংশ সরকার দিয়ে দিবে। ফলে উদ্যোক্তারা ৪ পার্সেন্ট সুদে ঋণ পাবেন। সব দিক থেকে সরকারের এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। 

কিন্তু এই ঋণ এখনও ব্যাংকগুলো ছাড় করতে গড়িমসি করছে। কাজেই নারী উদ্যোক্তাদেরসহ সব ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে হলে দ্রুত এই ঋণ পেতে হবে। আবার অনেক নারী উদ্যোক্তা এই ঋণের কথা জানেন না। কিংবা সুদের হার কত হবে তা নিয়েও তাদের স্পষ্ট ধারণা নেই। এ ব্যাপারে ব্যাংকগুলোতে প্রচারণা থাকলে ভালো হয়। আরেকটা বিষয়। 

নারীরা ঋণ নেবেন তখনই যদি তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা থাকে। কাজেই অনলাইনে বিক্রি ছাড়াও বিভিন্ন এলাকাভিত্তিক সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। যাতে নারী উদ্যোক্তারা সহজেই তাদের পণ্য বিক্রয় করতে পারেন।

এ ছাড়া অনেক নারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। তারা অনানুষ্ঠানিকভাবে ব্যবসা করেন অর্থাৎ তাদের ব্যবসাটির রেজিস্ট্রেশন নইে। সেই সব অতিক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তারা এই ঋণের সুবিধা পাবেন না। তাদের জন্য অল্প পরিমাণ ঋণ হলেও অন্য ব্যবস্থা করতে হবে যেন তারা অ্যাসোসিয়েশন কিংবা অন্যদের গ্যারান্টির মাধ্যমে এই ঋণ পেতে পারেন।

যুগান্তর:  পরিবার থেকে কতখানি সহযোগিতা পেয়েছেন?

গুলসান নাসরীন চৌধুরী: বাবা আইনজ্ঞ ছিলেন। তিনি তার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। আমি বাবাকে ‘বাংলাদেশ গ্লাস অ্যান্ড সিরামিক্স ইন্সটিটিউট’-এ ভর্তি হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করতেই বাবা বলেছিলেন, ‘এটা শিখে কি হবে?’ আমি বলেছিলাম, সিরামিক্স ইন্ডাস্ট্রি করব। বাবা বাধা দেননি। 

আমার যখন দুই বা আড়াই বছর বয়স তখন বড় আপুর বিয়ে হয়ে বিদেশ চলে যান। চার ভাইয়ের আদরের ছোট বোন হওয়ায় ভাইয়েরা আমার ইচ্ছাকে সব সময় প্রাধান্য দিয়েছে। 

কিন্তু বিয়ের পর স্বামী ডা. চৌধুরী মকবুল-ই-খোদার সঙ্গে ইরানে চলে যাই। কিন্তু সিরামিক্স ইন্ডাস্ট্রি না দিলেও সেখানে আমি পুঁতি, পাথর, কাঠ ইত্যাদি দিয়ে গহনা তৈরি করে মার্কেটে দিতাম। সেখানেও আমার তৈরি জিনিসের চাহিদা দেখে আমার মনোবল বেড়ে যায়। স্বামী তার কাজ নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত থাকলেও আমার কাজে কখনও বাধা দেননি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন