যে কারণে শীর্ষ ধনীদের তালিকা থেকে বাদ মুকেশ আম্বানি

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৬ ডিসেম্বর ২০২০, ০৭:৩৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
মুকেশ আম্বানি
মুকেশ আম্বানি। ছবি: আনন্দবাজার পত্রিকা

বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনীর তালিকা থেকে ছিটকে পড়েছেন ভারতীয় ধনকুবের ব্যবসায়ী মুকেশ আম্বানি। 

আগে ‘ব্লুমবার্গ বিলিনিয়ার ইনডেক্সে’ চার নম্বর স্থানে ছিলেন তিনি। কিন্তু এবার তালিকার সেরা দশ থেকে ছিটকে এগার নম্বর স্থানে চলে গেছেন আম্বানি। তার মোট সম্পত্তির পরিমাণও কমে গেছে। 

এনডিটিভি জানিয়েছে, আম্বানির বর্তমান সম্পত্তির মূল্য ৭ হাজার ৬৫০ কোটি ডলার। ভারতীয় রুপিতে এটি ৫ দশমিক ৬৩ লাখ কোটি। 

বছরের শুরতে আম্বানির সম্পদ ৯ হাজার কোটি ডলার। এ হিসেবে তার সম্পদ কমেছে এ লাখ কোটি রুপির। এর কারণ হচ্ছে হঠাৎ রিলায়েন্সের শেয়ার দর কমে গেছে ১৬ শতাংশ। 

এর পেছনে রয়েছে আমাজন। মার্কিন ই-কমার্স জায়ান্ট ‘ফিউচার গ্রুপে’র সঙ্গে রিলায়েন্সের চুক্তির প্রতিবাদ জানিয়েছিল। 

তাদের বক্তব্য ছিল, ২০১৯ সালেই ওই সংস্থার অধীনস্থ ‘ফিউচার কুপনসে’ প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে তারা। এই অবস্থায় ‘ফিউচার গ্রুপ’ তাদের সব সম্পত্তি অন্য কাউকে বেচে দিতে পারে না। 

এই বিতর্ক ও প্রতিবাদের ধাক্কাতেই কমে গেছে আম্বানির সংস্থার শেয়ার দর।

 

কে এই মুকেশ আম্বানি?

মুকেশ আম্বানি শুধু ভারতের নয় বরং পুরো বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন। তার ভাই অনিল আম্বানিও ভারতের অন্যতম ধনী ব্যক্তি। তাদের এই ধনী হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে রিলায়েন্স গ্রুপ। 

আর এ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ধিরুভাই আম্বানি। তিনি আম্বানি ব্রাদারসের পিতা।

ধিরুভাই আম্বানির বড় ছেলে মুকেশ আম্বানি মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করার পর যুক্তরাষ্ট্রের স্টানফোর্ড থেকে এমবিএ করেন। 

১৯৮০ সালে পড়াশোনা শেষ করার পর বাবা তাকে দেশে ফিরতে বলেন এবং একটি পলেস্টার কারখানার দায়িত্ব দেন। মুকেশ তার বাবার কোম্পানিতে সুতা উৎপাদনের ব্যবসায় ব্যুৎপত্তি লাভ এবং ভারতের প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত এ ব্যবসাকে সম্প্রসারণ করেন। 

তার নেতৃত্বগুণে কোম্পানির ব্যবসা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়। পরবর্তী বছরগুলোতে রিলায়েন্স পেট্রোকেমিক্যাল, পেট্রোলিয়াম পরিশুদ্ধকরণ, টেলিকমিউনিকেশন, বিনোদন, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা এবং তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ইত্যাদি ব্যবসায় নিজেদের সম্প্রসারিত করে।

ষাটের দশকে প্রতিষ্ঠিত রিলায়েন্স কোম্পানির ভিত মজবুত হয়ে উঠতে শুরু করে। চারদিকে ব্যবসা ছড়িয়ে দিয়ে মুকেশ আম্বানি আলোড়ন তোলেন গোটা ভারতে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার নাম ছড়িয়ে পড়ে। 

আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলো মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স গ্রুপের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসায় আগ্রহী হয়ে ওঠে। তবে এই রিলায়েন্সের গতি সাময়িকভাবে রুদ্ধ হয় ধিরুভাই আম্বানির মৃত্যুর পর। ২০০২ সালে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর পর দুই ভাই মুকেশ ও অনিলের মধ্যে রীতিমতো যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।

এ যুদ্ধ কোম্পানির মালিকানাকে কেন্দ্র করে। রিলায়েন্সকে কেন্দ্র করে এ যুদ্ধ শেষ হয় তাদের মায়ের হস্তক্ষেপে এবং একটি মধ্যস্থতা হয়। মধ্যস্থতার মাধ্যমে অনিল রিলায়েন্সের টেলিকমিউনিকেশন, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং বিনোদনের মালিকানা পান।

মুকেশ পান কোম্পানির তেল, টেক্সটাইল এবং সব শোধনাগারের ব্যবসা। 

তেল ছাড়াও, টেলিকম পরিসেবা এবং খুচরা ব্যবসায় আম্বানি সাফল্যের মুখ দেখেছেন। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল গ্রাহকের দেশে টেলিকম পরিসেবা ক্ষেত্রে মুকেশ আম্বানির সংস্থা বিনিয়োগও করেছে বিপুল পরিমাণে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন