কানাডায় সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী এক বড়দিন

 রাজীব আহসান, কানাডা থেকে 
২৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৯:৫১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

কানাডায় বড়দিন বা ক্রিসমাসের এ ক্রান্তিলগ্নে চলে ছুটির আমেজ,দেশটির নাগরিকরা পরিবার পরিজন নিয়ে যেভাবে আনন্দ-ফুর্তিতে নিজেদের মধ্যে সময় কাটানোর কথা সে সময় সবকিছুই যেন স্থবির হয়ে আছে। আলোকসজ্জায় সজ্জিত হয়েছে অফিস আদালত ঠিকই, আর কেনাকাটা ও কমবেশি হয়েছে বিভিন্ন মলে।

পরিবহনগুলোতেও লেখা হয়েছে "হ্যাপি হলিডে"। যেন এক নীরব আনন্দের আমেজ। সবকিছু ঠিক থাকলেও এ বছর কেন জানি ম্লান হয়ে আছে সবকিছু, থেমে আছে গতি। ভারি হচ্ছে হৃদয়ের অনুভূতি। 

বছরটাই কেন জানি এলোমেলো,তছনছ করে দিয়ে গেছে অসংখ্য পরিবারকে। অকালে ঝরে গেছে অনেকেই, অনেকেই নিদারুণ সংকটজনক পরিস্থিতির মধ্যে, আবার অনেকেই আশঙ্কা আর উদ্বিগ্নতায় দিনাতিপাত করছে। নশ্বর এ পৃথিবীতে আমরা কেউই থাকব না। হিংসা, লোভ-লালসা ও করোনা মহামারী থেকে আমাদের দূর রেখে সবার মাঝে সুখ-শান্তি দান করবেন ঈশ্বরের কাছে এ বছর এটাই আমাদের প্রার্থনা- বলছিলেন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের অ্যানথনি জ্যাকব।

কানাডায় খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান “বড়দিন” বা "ক্রিসমাস ডে"। এই দিনটিকে ঘিরে চলে নানা আয়োজন। কানাডায় দিনটির আগে থেকেই শুরু হয় বিভিন্ন অফিসে বিভিন্ন ধরনের পার্টি। কিন্তু এ বছর করোনাভাইরাস থাকার কারণে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে ঘটা করে বা জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালন হচ্ছে না কোনো অফিসের পার্টি অথবা বাড়িতে বড় কোনো আয়োজন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন করোনার এই মুহূর্তে বেঁচে থাকাই সবচেয়ে বড় কথা।

উল্লেখ্য, কানাডার বিভিন্ন প্রদেশে "বড়দিন" এভাবেই পালিত হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অনেকেই ভার্চুয়ালি মিলিত হয়ে প্রার্থনা করছেন। অনেকেই ভার্চুয়ালি কুশলাদি বিনিময় করছেন। 

কানাডায় প্রতীক্ষিত ভ্যাকসিন সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনে জগতে সুখ-শান্তি আবার ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে, করোনা মহামারী থেকে মুক্তি দেবে, ঈশ্বর সবর মঙ্গল করবেন, "ক্রিসমাস ডে" বা বড়দিনে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের এমনটাই প্রার্থনা।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন